Viva (বিসিএস পুলিশ)

বিসিএস পুলিশ

* পুলিশ শব্দটি ভাঙ্গলে কি কি হয়?

Police: P-Polite, O-Obedient, L-Loyal, I-Intelligent, C-Courageous, E-Efficeint.

* বাংলাদেশে পুলিশের মনোগ্রাম (প্রতীক) হচ্ছে-দুই পার্শ্বে ধানের শীষ বেষ্টিত, উপরে শাপলা [নীচে নৌকা-পূর্বে ছিল বর্তমানে নেই]

* বাংলাদেশ পুলিশের মূলনীতি-‘‘শামিত্ম-শৃঙ্খলা-নিরাপত্তা-প্রগতি।

* বাংলাদেশ পুলিশ প্রধানের পদবি-ইন্সপেক্টর জেনারেল অব পুলিশ। সংক্ষেপে- I. G. P.

* স্বাধীনতার পর থেকে পুলিশের IG -দের নাম:

 

ক্র. নং নাম   দায়িত্ব গ্রহণ দায়িত্ব হস্তান্তর
আবদুল খালেক ১৭ এপ্রিল ১৯৭১ ২৩ এপ্রিল ১৯৭৩
এ রহিম ২৩ এপ্রিল ১৯৭৩ ৩১ ডিসেম্বর ১৯৭৩
এএইচএম নুরুল ইসলাম ৩১ ডিসেম্বর ১৯৭৩ ২১ নভেম্বর ১৯৭৫
হোসেন আহমেদ ২১ নভেম্বর ১৯৭৫ ২৬ আগস্ট ১৯৭৮
এবিএমজি কিবরিয়া ২৬ আগস্ট ১৯৭৮ ৭ ফেব্রুয়ারি ১৯৮২
এএমআর খান ৮ ফেব্রুয়ারি ১৯৮২ ৩১ জানুয়ারী ১৯৮৪
ইএ চৌধুরী ১ ফেব্রুয়ারি ১৯৮৪ ৩০ ডিসেম্বর ১৯৮৫
এ আর খন্দকার ৯ জানুয়ারী ১৯৮৬ ২৮ ফেব্রুয়ারি ১৯৯০
তৈয়ব উদ্দিন আহমেদ ২৮ ফেব্রুয়ারি ১৯৯০ ৮ জানুয়ারী ১৯৯১
১০ এ এম চৌধুরী ৮ জানুয়ারী ১৯৯১ ২০ জুলাই ১৯৯১
১১ তৈয়ব উদ্দিন আহমেদ ২০ জুলাই ১৯৯১ ১৬ অক্টোবর ১৯৯১
১২ এনামুল হক ১৬ অক্টোবর ১৯৯১ ৮ জুলাই ১৯৯২
১৩ এএসএম শাহজাহান ৮ জুলাই ১৯৯২ ২২ এপ্রিল ১৯৯৬
১৪ এম. আজিজুল হক ২২ জুলাই ১৯৯৬ ১৬ নভেম্বর ১৯৯৭
১৫ মোঃ ইসমাইল হোসেন ১৬ নভেম্বর ১৯৯৭ ২৭ সেপ্টেম্বর ১৯৯৮
১৬ এ.ওয়াই.বি আই সিদ্দিকী ২৭ সেপ্টেম্বর ১৯৯৮ ৭ জুন ২০০০
১৭ মুহাম্মদ নুরুল হুদা ৭ জুন ২০০০ ৬ নভেম্বর ২০০১
১৮ মোদাব্বির হোসেন চৌধুরী ১৬ নভেম্বর ২০০১ ২২ এপ্রিল ২০০৩
১৯ শাহুদুল হক ২২ এপ্রিল ২০০৩ ১৫ ডিসেম্বর ২০০৪
২০ আশরাফুল হুদা ১৫ ডিসেম্বর ২০০৪ ৭ এপ্রিল ২০০৫
২১ মোহাম্মদ হাদিস উদ্দিন ৭ এপ্রিল ২০০৫ ৭ মে ২০০৫
২২ আব্দুল কাইয়ুম ৭ মে ২০০৫ ৬ জুলাই ২০০৬
২৩ আনোয়ারুল ইকবাল ৬ জুলাই ২০০৬ ২ নভেম্বর ২০০৬
২৪ খোদা বকশ চৌধুরী ২ নভেম্বর ২০০৬ ২৯ জানুয়ারি ২০০৭
২৫ নুর মোহাম্মদ ২৯ জানুয়ারী ২০০৭ ৩১ আগস্ট ২০১০
২৬ হাসান মাহমুদ খন্দকার, বিপিএম, পিপিএম, এনডিসি ৩১ আগস্ট ২০১০ ৩১ ডিসেম্বর ২০১৪
২৭ এ কে এম শহীদুল হক, বিপিএম, পিপিএম ৩১ ডিসেম্বর ২০১৪ ৩০ জানুয়ারি ২০১৮
২৮ মোহাম্মদ জাবেদ পাটোয়ারী ৩০ জানুয়ারী ২০১৮ ১৫ এপ্রিল ২০২০
২৯ ড. বেনজীর আহমেদ ১৫ এপ্রিল ২০২০ দায়িত্বরত

 

 

* পুলিশের প্রশাসনিক অঞ্চলগুলো হচ্ছে-রেঞ্জ-জেলা-সার্কেল-থানা

* বর্তমানে আটটি প্রশাসনিক বিভাগে আটটি রেঞ্জ এবং রেলওয়ে ও হাইওয়ে পুলিশ নামে দুটি স্বতন্ত্র রেঞ্জ আছে। রেঞ্জ প্রধান-DIG

* পুলিশ জেলাঃ কয়েকটি পুলিশ সার্কেলের সমন্বয়ে একটি জেলা গঠিত হয়। বর্তমানে ৬৪টি পুলিশ জেলা আছে। পুলিশ জেলার প্রধান-SP

* পুলিশ সার্কেলঃ কয়েকটি থানার সমন্বয়ে একটি পুলিশ সার্কেল গঠিত হয়। সার্কেল প্রধান-ASP

* থানা: কয়েকটি ইউনিয়নের সমন্বয়ে একটি থানা গঠিত হয়। একজন ইন্সপেক্টর থানার দায়িত্বে থাকে। তাকে OC বলে।

* ফাঁড়ি: বিশেষ কোন কারণে একটি থানার অধীনে দূরের এলাকায় টহল দেয়ার সুবিধার জন্য স্থাপিত পুলিশের নিম্নতম চৌকিকে ফাঁড়ি বলে। এর দায়িত্বে থাকেন একজন হাবিলদার।

* RAB: বাংলাদেশের আইন-শৃঙ্খলা রক্ষার কাজে নিয়োজিত সর্বশেষ বিশেষ বাহিনী হলো র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটেলিয়ন বা RAB এর পূর্বনাম ছিল র‌্যাপিড অ্যাকশন টিম (RAT). ২০০৩ সালের ৯ জুলাই সংসদে পাশকৃত দি আর্মড পুলিশ ব্যাটেলিয়নস (সংশাধন) বিলে ১২ জুলাই রাষ্ট্রপতি কর্তৃক সম্মতি দানের মাধ্যমে RAB আইনে পরিণত হয়।

* বাংলাদেশ পুলিশ-স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীন। এর সদর দপ্তর ঢাকায় অবস্থিত।

* লর্ড ক্যানিং এর সময় ১৮৬১ সালে ভারতীয় উপমহাদেশে পুলিশ সার্ভিস চালু হয়।

* বাংলাদেশ পুলিশে শাখা ৬টি। যথা-

৬টি শাখার নাম শাখায় কর্মরত কর্মকর্তার পদবি
১। স্পেশাল ব্রাঞ্চ Additional IG
২। মেট্রোপলিটন পুলিশ DIG
৩। সিআইডি Additional IG
৪। জি আর পি DIG
৫। আর্মড ব্যাটেলিয়ন পুলিশ ফোর্স DIG
৬। স্পেশাল আর্ম ফোর্স SP

 

* মেট্রোপলিটন পুলিশের অধীনে ৩টি বিভাগ রয়েছে। যথা-১) ডিটেক্টিভ ব্রাঞ্চ ২) রায়ট পুলিশ এবং ৩) ট্রাফিক পুলিশ

* মেট্রোপলিটন থানা ৪৩টি (ঢাকায়-২৮টি, চট্রগ্রামে-৬টি, খুলনায়-৫টি, রাজশাহীতে ৪টি)

* বাংলাদেশের একমাত্র পুলিশ একাডেমি রাজশাহী জেলার চারঘাট থানার সারদায় অবস্থিত। প্রতিষ্ঠিত হয়-১৯১২ সালে।

* সারদা পুলিশ একাডেমির প্রথম অধ্যক্ষ মেজর চিমনি এবং বর্তমান অধ্যক্ষ-নাঈম আহমেদ।

* মুক্তিযুদ্ধে ১২৬২ জন পুলিশ সদস্য শহীন হন (স্বাধীনতা যুদ্ধেও দলিলপত্র)।

* বাংলাদেশ পুলিশ সর্বপ্রথম ১৯৮৯ সালে নামিবিয়ায় জাতিসংঘের শামিত্ম মিশনে অংশগ্রহণ করে।

* সারদা পুলিশ একাডেমিতে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয় নায়েক থেকে সকল উঁচু পর্যায়ের কর্মকর্তাদের।

* লর্ড হার্ডিঞ্জ এর সময় সারদা পুলিশ একাডেমি প্রতিষ্ঠিত হয়।

* বাংলাদেশে ৪টি আঞ্চলিক পুলিশ প্রশিক্ষণ স্কুল আছে। যথা-১) খুলনা ২) টাঙ্গাইল (মহেরা) ৩) নোয়াখালী এবং ৪) রংপুর

* পুলিশ বাহিনীতে দুই ধরনের পুরস্কার আছে। যথা- ১) বীরত্ব পুরস্কার এবং ২) General Service (GS) Mark

* General Service (GS) Mark হচ্ছে Service Book এ SP কর্তৃক লিখিত প্রশংসাপূর্ণ মসত্মব্য।

* পুলিশ বাহিনীতে তিন ধরনের বীরত্ব পুরস্কার আছে। যথা-১) প্রেসিডেন্ট পুলিশ মেডেল ২) বাংলাদেশ পুলিশ মেডেল এবং ৩) আইজি বেস্ট মেডেল।

* পুলিশ বাহিনীতে দুই ধরনের শাসিত্মর ব্যবস্থা রয়েছে-১) লঘু দ- এবং গুরম্ন দ-। লঘু দ- হচ্ছে-তিরস্কার করা, সতর্কীকরণ প্রভৃতি। গুরম্নদ- হচ্ছে-আইন অনুযায়ী প্রাপ্ত সকল প্রকার শাসিত্ম (সাময়িক বরখাসত্ম, অপসারণ, বরখাসত্ম প্রভৃতি)।

* দুইজন পুলিশ অফিসার যারা সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব ছিলেন-১) আবুল খায়ের মোসলেহ উদ্দিন (গল্প, উপন্যাস) এবং ২) ধীরাজ ভট্রাচার্য  (লেখক, নায়ক। ‘আমি যখন পুলিশ ছিলাম’ বইয়ের লেখক)

* রাজারবাগ পুলিশ লাইন স্মৃতিসৌধ: ২৫ মার্চ ১৯৭১ সালে রাতের অন্ধকারে পাকবাহিনীর আক্রমণে নিহত পুলিশদের স্মৃতি রক্ষার্থে এটি নির্মিত। এর স্থপতি মোসত্মফা হারম্নন কুদ্দুস হিলি।

* Interpol: Interpol (International Criminal Police commission) পুলিশের একটি আমত্মর্জাতিক সংগঠন। এটি ১৯২৩ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। এর সদর দপ্তর প্যারিস (ফ্রান্স)। সদস্য সংখ্যা-১৯০। বাংলাদেশ ১৯৭৬ সালে Interpol এর সদস্য হয়।

* পুলিশ স্টেট: যখন কোন রাষ্ট্রের নাগরিকগণ মৌলিক স্বাধীনতা যেমন স্বাধীন মতামত প্রকাশ, চিমত্মা ও বিশ্বাস হতে বঞ্চিত হয় তখন তারা পুলিশ রাষ্ট্রে বাস করছে বলা হয়। এই রাষ্ট্রে জনগণের কার্যাবলী পুলিশের গোপন তদারকি ও পরিচালনার মাধ্যমে নিয়ন্ত্রিত হয়।

* পুলিশ কর্তৃক প্রকাশিত সাপ্তাহিক পত্রিকার নাম-ডিটেকটিভ, এটি প্রথম প্রকাশিত হয় ১৯৬০ সালে।

* ওয়ারেন্টঃ ওয়ারেন্ট অর্থ পরওয়ানা। গ্রেপ্তার বা তলস্নাসীর জন্য কর্তৃপক্ষ কর্তৃক প্রদত্ত আদেশ।

* ফৌজদারী কার্যবিধির ১৫৪ ধারায় এজাহার রেকর্ড, ১৬৪ ধারায় জবান বন্দি রেকর্ড এবং ১৭৩ ধারায় চার্জ শীট দাখিল করা হয়।

* ৫৪ ধারাঃ ফৌজদারী কার্যবিধির ৫৪ ধারায় বিনা ওয়ারেন্টে পুলিশ কর্তৃক গ্রেপ্তার করার ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে।

* ১৪৪ ধারাঃ মানুষের চলাচল, আচরণ এবং কর্মকা–র উপর বিধিনিষেধ বা নিয়ন্ত্রণ। যেমন-৪জনের বেশি একত্রে চলাচল নিষিদ্ধ, আগ্নেয়াস্ত্র বহন এবং এক জায়গায় একত্র হওয়া বা করা ইত্যাদি নিষিদ্ধ।

* Elaboration:

DB Detective Branch CID Criminal Investigation Department
SB Special Branch DGFI Director General of Forces Intelligence
GD General Diary NSI National Security Intelligence
PP Public Prosecutor FIR First Information Report
IO Investigation Officer CrPc The Code of Criminal Procedure

 

* বাংলাদেশ পুলিশের সদস্য সংখ্যা ২০১১ এর তথ্য অনুযায়ী ১৪১১২৩ জন।

* র‌্যাব এর ইউনিফর্ম হচ্ছে-কালো রঙের শার্ট, প্যান্ট ও মাথায় কালো পট্রি।

* র‌্যাবের প্রথম ডিজি-আনোয়ারম্নল ইকবাল এবং বর্তমান ডিজি-বেনজীর আহমেদ।

* PRB (Police Regulation of Bengal)-কে পুলিশের বাইবেল বলে।

* সকল মেট্রোপলিটন থানাতে একই ড্রেস চালু হয় ১৫ এপ্রিল ১৯৯৩ সাল হতে। ইউনিফর্ম ড্রেস; খাকি প্যান্ট নীল জামা, সাদা হেলমেট, হালকা বাদামী রং এর হাতা।

 

* পুলিশ ঘুষ খায় কেন?

(এ ধরণের প্রশ্ন ‍মূলত প্রার্থীর মানসিকতা যাচাই করতে করা হয়; কোন বিভাগকে ছোট করার জন্য নয়)

বর্তমান সমাজে মোটামুটি সচ্ছলভাবে বসবাসের জন্য যে সুযোগ-সুবিধা দরকার পুলিশকে তা দেওয়া হচ্ছে বলে আমি মনে করি। তা সত্ত্বেও পুলিশ কেন ঘুষ খায় তার কারণ হচ্ছে-অঢেল সম্পদ অর্জনের অশুভ প্রতিযোগিতা, পরিবার-পরিজনের লোভ-লালসা, ফলশ্রম্নতিতে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে প্ররোচিত করা। সীমাহীন পারিবারিক চাহিদা পূরণে ব্যর্থ হলে কোন ঘুষখোর অফিসারের উচ্চ বিলাসী জীবন-যাপন চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে একজন সৎ ও নিষ্ঠাবান পুলিশ অফিসারকে মানসিকভাবে হেনসত্মা করা। এছাড়া, চারিত্রিক স্বচ্ছতার অভাব, পেশাগত শ্রদ্ধার অভাব, নৈতিক শিক্ষার অভাব, সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গি যেমন সম্পদের মালিককে সমীহ করা তথা সামাজিক অবক্ষয়। সর্বোপরি ঊধ্বর্তন কর্মকর্তা কর্তৃক ঘুষ গ্রহণে প্ররোচিত করা এবং মাসোয়ারা দাবি করা, দাবি পূরণ না করলে বদলির হুমকি দেওয়া, ACR এ কম নম্বর দেয়ার হুমকি দেওয়া ইত্যাদি কারণ বলে আমি মনে। (*ঘুষ গ্রহণের কোন যৌক্তিক কারণ দেখাবেন না, তাহলে আপনি নিজেই ফেসে যাবেন। তথাপি আপনাকে নিম্নোক্ত প্রশ্ন করতে পারে)

 

* আপনি তো ঘুষ খাওয়ার জন্য পুলিশ First Choice দিয়েছেন?

স্যার আমি আগেই বলেছি, মোটামুটি সচ্ছলভাবে চলার জন্য যে সুযোগ-সুবিধা প্রয়োজন তা বর্তমানে পুলিশকে দেওয়া হচ্ছে। ব্যক্তি হিসাবে আমি নিজেকে চিনি। তাই কোন লোভ, প্ররোচনা, বদলির হুমকি, পারিপার্শ্বিক পরিবেশের অযাচিত চাপ ইত্যাদি আমাকে আমার সততা, কর্তব্যনিষ্ঠা সর্বোপরি মানবতার সেবার ব্রত থেকে টলাতে পারবে না। আর আর্থিক বিষয়ের ক্ষেত্রে বলব-একজন কর্মকর্তা হিসাবে আমি যদি UN Peace Mission-এ কাজ করা সুযোগ পাই তাহলে আমি বৈধভাবেই সচ্ছল হতে পারব। এর জন্য কেবল প্রয়োজন হবে ধৈর্য ধরে দায়িত্ব পালন। আর UN Peace Mission-এ যাওয়ার সুযোগ যদি বন্ধ হয়ে যায় তাহলে আমাকে যে সুযোগ-সুবিধা দেওয়া হবে তাই নিয়েই সন্তুষ্ট থাকব। (আপনি যা কিছুই বলেন না কেন আপনাকে অবশ্যই দৃঢ়তার পরিচয় দিতে হবে। প্রশ্নের উত্তর যেন আর একটি প্রশ্নের সৃষ্টি না করে সেদিকে সব সময় লক্ষ্য রাখবেন)

 

* ঢাকা মহানগরী পুলিশ ২২ সেপ্টেম্বর, ১৯৯৩ সাল হতে পূর্ব ও পশ্চিম এই দুই ডিভিশনে ভাগ হয়ে কাজ করছে।

* পাক-ভারতে ১৮৬০ সালে প্রথম পুলিশ কমিশন নিয়োগ হয় এবং ১৮৬১ সালে পুলিশ রেগুলেশন পাশ হয়।

* ভারতীয় উপমহাদেশে প্রথম পুলিশী ব্যবস্থা চালু হয় সম্রাট আকবরের আমলে।

* ১৮২৯ সালে সর্বপ্রথম ব্রিটিশ পার্লামেন্টে পুলিশ বাহিনীর স্বীকৃতিমূলক আইন পাস করা হয়। তৎকালীন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী স্যার রবার্ট পিল এই আইন পাশ করেন।

* পুলিশ ২৪ ঘন্টা পর্যমত্ম একজন ব্যক্তিকে আটক রাখতে পারে। এর মধ্যে ম্যাজিস্ট্রেটের নিকট হাজির করতে হয়।

* ধাবমান পুলিশ (Speed Enforcement Police): ১৯৯৩ সালের ১৭ মে ধাবমান পুলিশ গঠিত হয়। ঢাকা মহানগরীতে ১৯৯৫ সালের ১ জুন হতে ধাবমান পুলিশ কার্যকরী হয়। ধাবমান পুলিশ এর পরিকল্পনাকারী হলেন ঢাকা মেট্রোপলিটনের সাবেক পুলিশ কমিশনার এম. এ. এন হুসেন।

* সারদা পুলিশ একাডেমির এদেশীয় প্রথম অধ্যক্ষ খান বাহাদুর এস এ খান।

* ট্রাফিক সিগন্যালে আলো ক্রমগুলো হলো: লাল-হলুদ-সবুজ।

* জাপানি পুলিশ চোরকে ‘দোরোবো সান’ (চোর সাহেব) বলে সম্বোধন করে।

* স্কটল্যান্ড ইয়ার্ড হচ্ছে-ব্রিটিশ রয়েল পুলিশের নাম।

* Penal Code (দ-বিধি) ১৮৬০ সালে গৃহীত হয়।

* ‘গোস্টাপো’ হচ্ছে হিটলারের গোপন পুলিশ বাহিনী। এটি ২৬ এপ্রিল, ১৯৩৩ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় এবং বিলুপ্ত হয় ৮ মে,

১৯৫৫ সালে।

* বাংলাদেশে প্রথম নারী পুলিশ নিয়োগ দেওয়া হয় ১৯৭৪ সালে (স্পেশাল ব্রাঞ্চে)

* ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের থানার সংখ্যা-৪৯টি।

* জাতীয় পুলিশ কমিশনের সদস্য সংখ্যা-১১ জন।

* ১৭৯৩ সালে লর্ড কর্ণওয়ালিস থানা ব্যবস্থা প্রবর্তন করেন।

* GD: কোন বিষয়ে থানায় লিখিতভাবে অবগত করানোকে GD (General Dairy) বলে।

* NOC stands for-No Objection Certificate.

* IG তিন ধরণের যথা-১) IG Police ২) IG Prison ৩) IG Registrar

* বাংলাদেশ পুলিশ ১৯৭৬ সালে ইন্টারপোলের সদস্যপদ লাভ করে।

* আফ্রিকা মহাদেশের লাইব্রেরিয়া ও সিয়েরা লিওন এ বাংলাদেশের পুলিশ মোতায়েন আছে।

* মেট্রোপলিটন ও ট্রাফিক পুলিশের মধ্যে পার্থক্য:

মেট্রোপলিটন পুলিশ হচ্ছে নগরে সকল প্রকার শামিত্ম-শৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্বে নিয়োজিত পুলিশ। আর ট্রাফিক পুলিশ হচ্ছে নগরের যানবাহন, যানজট, যানবাহনের লাইসেন্স ইত্যাদি দেখাশুনার এবং প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার ব্যবস্থা গ্রহণকারী পুলিশ।

* কারফিউ: কারফিউ হচ্ছে সান্ধ্য আইন। ইহা প্রয়োগের মাধ্যমে জনসাধারণকে ঘরে আবদ্ধ থাকতে বাধ্য করা হয়।

* জেনেভা কনভেনশন, ১৮৬৪: ১৮৬৪ সালে জেনেভা কনভেনশনে ইউরোপের সকল প্রধান শক্তিগুলোর মধ্যে এই সিদ্ধামত্ম গৃহীত হয় যে অ্যাম্বুলেন্স, হাসপাতাল, স্যানিটারি অফিসার, পুরোহিত ও অন্যান্য যারা অসুস্থ এবং আহতদের সেবায় নিযু্ক্ত প্রত্যেককেই নিরপেক্ষ বলে ধরা হবে। যেসব ব্যক্তি এই সকল কাজে নিযুক্ত তাদের প্রত্যেককে একটি জেনেভা ক্রস (রেডক্রস) পরিধান করতে হবে।

 

এজাহার (FIR)

FIR হচ্ছে First Information Report. CrPc-এর ১৫৪ ও ১৫৫ ধারা অনুযায়ী কোনো অপরাধের বিষয়ে থানায় রিপোর্ট করাকে FIR বলে। ফৌজদারি মামলার ক্ষেত্রে FIR একটি গুরম্নত্বপূর্ণ দলিল হিসাবে কাজ করে। প্রাথমিক তথ্যসমূহ অবশ্যই লিখে রাখতে হবে এবং সংবাদদাতা কর্তৃক স্বাক্ষরিত হতে হবে। FIR-এর গুরম্নত্বপূর্ণ উপাদানসমূহ হলোঃ

* সময়ের প্রেক্ষিতে এটা প্রথম হতে হবে।

* এটা নিশ্চিত হতে হবে এবং কেবল জনশ্রম্নতি হলে চলবে না।

* এটা আমলযোগ্য অপরাধের সাথে সংশিস্নষ্ট হতে হবে।

* এটা এমন পর্যায়ে হতে হবে যাতে পুলিশ তদমত্ম শুরম্ন করতে পারে।

* এটা অবশ্যই লিখিত এবং উত্থাপনকারী কর্তৃক স্বাক্ষরিত হবে।

* পুলিশ লাইনে নিযু্ক্ত এস.এ.এফ এর সদস্যদেরকে আর্মড পুলিশ বলে।

 

 

বস্নাসফেমী আইন: বস্নাসফেমী অর্থ ধর্ম নিন্দা বা ঈশ্বর নিন্দা। বস্নাসফেমী আইন ব্রিটিশ ধর্মযাজক কর্তৃক রচিত ও প্রবর্তিত ধর্মীয় আইন। এই আইনানুযায়ী কোন প্রকাশনা যাতে ঈশ্বর, বাইবেল, যীশুখৃষ্টের বা কোন প্রার্থনা পুসত্মক বা ধর্মগ্রন্থ সম্পর্কে বিরূপ মসত্মব্য বা উদ্দেশ্য প্রনোদিতভাবে মানুষের অনুভূতিকে আহত করে অথবা চার্চের বিরম্নদ্ধে উত্তেজনা সৃষ্টি করে বা চরিত্র হীনতার প্রসার ঘটায় তাকে বস্নাসফেমী আইন বলে। এই আইন ৬ষ্ঠ শতাব্দীতে প্রবর্তিত হয়। সম্রাট প্রথম জাস্টিনিয়ান বস্নাসফেমীর জন্য মৃত্যুদ- সাব্যমত্ম করেন এবং ইহুদী আইনেও বস্নাসফেমীর শাসিত্ম মৃত্যুদ-।

 

রিট (Writ): কোর্ট কর্তৃক কোন ব্যক্তি বা ব্যক্তিদেরকে কোন কাজ করতে বা করা হতে বিরত থাকার জন্য লিখিত আদেশনামাকে রিট বলে।

 

ডগ স্কোয়ার্ড: অপরাধ দমন করে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা ও পুলিশ বিভাগের দক্ষতা বাড়ানেরা জন্য জার্মান ও ইংল্যান্ড হতে ২৫টি প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত কুকুর এনে ১৯৯৮ সালের নভেম্বর মাসে গঠন করা হয় ডগ স্কোয়ার্ড। বর্তমানে দুর্ধর্ষ অপরাধী, অবৈধ অস্ত্র, বোমা ও মাদকদ্রব্য ইত্যাদি খুঁজে বের করার ক্ষেত্রে ডগ স্কোয়ার্ড ব্যবহার করা হচ্ছে।

 

অপারেশন পুশব্যাক: অপরেশন পুশব্যাক ভারত সরকারের গৃহীত একটি পদক্ষেপ। সারা ভারতে বসবাসকারী বাংলা ভাষাভাষীদেরকে ভারতে অনুপ্রবেশকারী আখ্যায়িত করে জোরপূর্বক উচ্ছেদ করে বাংলাদেশে ঠেলে পাঠানোর পরিকল্পনাকে অপারেশন পুশব্যাক বলে।

 

Mob: Mob-এর শাব্দিক অর্থ সাধারণ জনতা। তবে পুলিশ বিভাগের ভাষায় Mob বলতে A Riotous Crowd বা দাঙ্গাকারী জনতা বা দলবদ্ধ হয়ে বিশৃঙ্খলভাবে আক্রমণ করাকে বুঝায়। অন্যভাবে বলা যায়, সাধারণত মিছিলের জনতা যখন স্বাভাবিক পরিবেশে তাদের বিশৃঙ্খলপূর্ণ ও আক্রমণাত্মক কার্য সংগঠিত করে এরূপ উশৃঙ্খল জনতাকে Mob বলে।

 

ডিটেনশন: ১৯৭৪ সালের বিশেষ ক্ষমতা আইন ক, খ-তে ডিটেনশনের বিধান রয়েছে। চুরি-ডাকাতি বা রাজনৈতিক কারণে গ্রেফতারকৃত ব্যক্তিদেরকে ডিটেনশন দেওয়া হয়। ডিসি ৩০ দিন পর্যমত্ম ডিটেনশন দিতে পারে, ৩০ দিনের বেশি ডিটেনশন দিতে চাইলে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অনুমতির প্রয়োজন হয়।

 

* DMP অধ্যাদেশ ৫৮, ৭৬, ৭৭ অনুযায়ী আতশবাজি, পটকা ফুটানো, রং ছিটানো, মহিলাদের উত্তাক্ত করা আইনগত দ-নীয় অপরাধ।

* Inquiry এবং Investigation-এর মধ্যে পার্থক্য: বাংলায় উভয় শব্দের অর্থই তদমত্ম। কিন্তু পার্থক্য হলো, ম্যাজিস্ট্রেট কর্তৃক CrPc-এর অধীন পরিচালিত মামলার ক্ষেত্র ব্যতীত অন্যান্য সকল ক্ষেত্রে তদমত্মকে Inquiry বলে। Inquiry-তে সাধারণত অপরাধী শনাক্ত করা হয়। অপরদিকে Investigation হলো CrPc-এর অধীন বিচারাধীন কোন মামলার সাক্ষ্য প্রমাণ ও তথ্যাদি উদঘাটনের জন্য পুলিশ অফিসার বা অন্য কেউ কর্তৃক পরিচালিত তদমত্ম।

 

Community Police: অপরাধ দমন ও সামাজিক সম্প্রীতি ও স্থিতিশীলতা আনতে পুলিশের সঙ্গে সমাজের স্থানীয় গণ্যমান্য ও গ্রহণযোগ্য ব্যক্তিবর্গের সমন্বয়ে অপরাধ দমন কমিটিকে Community Police বলে।

 

* মিরপুর পুলিশ স্টাফ কলেজ দক্ষিণ এশিয়ার প্রথম পুলিশ স্টাফ কলেজ।

* ১৯৭৪ সাল থেকে বাংলাদেশে প্রথম মহিলা পুলিশ নিয়োগ করা হয়।

* পুলিশ CrPc এর ধারা ৫৪ ও ৫৫ অনুযায়ী বিনা অপরাধে গ্রেপ্তার করতে পারে।

* ঝিনাইদহের তৎকালীন সাব-ডিভিশনার পুলিশ অফিসার মাহবুবউদ্দিন আহমেদ বীর বিক্রম, ১৭ এপ্রিল ১৯৭১ সালে

মুজিবনগর সরকারের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান শেষে ঐতিহাসিক গার্ড অব অনার প্রদান করেন।

* পুলিশের নামে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি হলের নাম হচ্ছে-সার্জেন্ট জহুরুল হক হল।

* ১৬ অক্টোবর, ২০১১ সালে পৌর পুলিশ গঠন করা হয়। পৌরসভা আইন, ২০০৯ এর ১১৪ ধারায় পৌর পুলিশ গঠনের বিধান রাখা হয়েছে।

* মুক্তিযুদ্ধে ৭৫১ জন পুলিশ সদস্য শহীদ হন।

* পুলিশের দুইজন বীরউত্তম খেতাবপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধা হলেন-পুলিশ কনস্টেবল আবদুল মান্নান (শহীদ) এবং পুলিশ কনস্টেবল তৌহিদ (শহীদ)

* Police Administration Area এর উলেস্নখ আছে PRB এর ৪ নং ধারায়।

* বাংলাদেশ পুলিশ বিশ্বের ৮টি দেশে জাতিসংঘের শামিত্মরক্ষা মিশনে কাজ করছে।

* আধুনিক পুলিশিং এর প্রতিষ্ঠাতা স্যার রবার্ট পিল। তিনি বিংশ শতাব্দীর গোড়ার দিকে পুলিশিং নিয়ে ব্যাপক গবেষণা করেন।

* ইনটারপোল ০৬ প্রকার ওয়ারেন্ট জারি করতে পারে। যথা-রেড, বস্নু, গ্রিন, ইয়েলো, বস্ন্যাক এবং অরেঞ্জ।

* পুলিশের কাছে জবানবন্ধি দেওয়া হয় CrPc-এর ১৬১ ধারা অনুযায়ী।

* পুলিশ Cr. Pc এর ১৬১ ধারায় এবং ম্যাজিস্ট্রেট Cr. Pc এর ১৬৪ ধারায় জবানবন্দী গ্রহণ করেন।

* চৌকিদার বা দফাদার: শামিত্মশৃঙ্খলা রক্ষার কাজে নিয়োজিত সবচেয়ে নিমণসত্মরে যারা কাজ করে, তাদেরকে চৌকিদার বলে।

১০ বা ২০ জন চৌকিদার প্রধানকে দফাদার বলে।

* APBN-11: APBN-11Stands for Armed Police Batallion. APBN হচ্ছে নারী পুলিশ সদস্যের সমন্বয়ে গঠিত একটি আলাদা পুলিশ ইউনিট। এর যাত্রা শুরম্ন হয় ২১ জুন, ২০১১ সালে।

* শিল্পাঞ্চল পুলিশ কার্যক্রম শুরম্ন করে ৩১ অক্টোবর ২০১১ সালে।

* ১৬ আগস্ট ২০০৯ সালে ট্যুরিস্ট পুলিশের যাত্রা আরম্ভ হয়।

* ২০১০ সালের মে মাসে জাতিসংঘের হাইতি মিশনে বাংলাদেশের মহিলা পুলিশ যোগদান করে।

* দেশের প্রথম মডেল থানা-ময়মনসিংহের ভালুকা এবং রাজধানী ঢাকার প্রথম মডেল থানা-উত্তরা

* নৌ-থানা ৪টি।  * বিট্রিশ মেট্রোপলিটন পুলিশ প্রধানের পদবি হচ্ছে চীফ কনস্ট্যাবল।

* আকবরের শাসন আমলে পুলিশকে কোতয়াল এবং ব্রিটিশ আমলে থানার দায়িত্বে নিয়োজিত কর্মকর্তাকে থানাদার বলা হতো।

* মেট্রোপলিটন এলাকায় SP ও ASP এর পদমর্যাদা হচ্ছে-Deputy Commissioner এবং Assistant Deputy Commissioner.

 

পঞ্চম বাহিনী: যারা দেশের স্বার্থ বিরোধী কাজ করে তাদের পঞ্চম বাহিনী বলে। স্পেনের গৃহযুদ্ধের সময় জেনারেল ফ্রাঙ্কো রিপাবলিকানদের চার কলামে আক্রমণ করেন। বিপক্ষ দলের পিছনে যে দলটি ছিল তাকে পঞ্চম বাহিনী বলা হত। এখান থেকেই পঞ্চম বাহিনীর উদ্ভব।

* PRB stands for Police Regulation of Bengal.

* স্কটল্যান্ড ইয়ার্ড হচ্ছে লন্ডনে অবস্থিত ব্রিটিশ গোয়েন্দা পুলিশের প্রধান কার্যালয়।

* বর্তমানে দেশে থানার সংখ্যা-৬৩৯টি। [ সর্বশেষ থানা মহিপুর (পটুয়াখালী)।

* নবগঠিত ইসলামী রাষ্ট্রের (IS) খলিফা-আবু বকর আল বাগদাদি।

 

পুলিশে নারী: ১৯৭৪ সালে ৭ জন এসআই ও ৭ জন কনস্টেবল নিয়ে যাত্রা শুরম্ন করে নারী পুলিশ। বাংলাদেশ পুলিশ বাহিনীতে শুরম্নতে নারী পুলিশ সদস্যরা কাজ করতেন সাদা পোশাকে। ইউনিফর্মধারী নারী পুলিশের যাত্রা আরম্ভ হয় ১৯৭৬ সালে। বর্তমানে নারী পুলিশের মধ্যে সর্বোচ্চ অতিরিক্ত আইজিপি পদে রয়েছেন ।

 

 

বিগত ১০ম বিসিএস থেকে ৩৫তম বিসিএস পরীক্ষায় আসা গুরুত্বপূর্ণ টীকা

 

হ্যাবিয়াস করপাস: হ্যাবিয়াস করপাস হচ্ছে বাদীকে সশরীরে আদালতে হাজির করা এবং আদালতে বন্দিত্বের কারণ প্রদর্শনের নির্দেশপত্র অর্থাৎ কোনো বন্দীকে আটক রাখার যৌক্তিকতা নিরূপণের জন্য তাকে বিচারকের সামনে নির্দিষ্ট সময়ে উপস্থিত করার পরওয়ানা।  আদালত কারণ বিবেচনাপূর্বক তদমত্ম করবে যে, বন্দিকে কারাগার হতে মুক্তি দেয়া হবে কিনা। হ্যাবিয়াস করপাসের জন্য সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগে রিট করতে হয়। হাইকোর্টকে হ্যাবিয়াস করপাসের রিটের ব্যাপারে নিরাপত্তা, মৌলিক অধিকার প্রতৃতি নিশ্চিত করতে হবে।

 

ব্রজেন দাস: বিশ্ববিখ্যাত সাতারম্ন ব্রজেন দাস ৯ ডিসেম্বও ১৯২৭ সালে মুন্সিগঞ্জের বিক্রমপুরে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ১৮ আগস্ট ১৯৫৮ সালে ২৩টি দেশের প্রতিযোগীকে পেছনে ফেলে প্রচ- প্রতিকূল পরিবেশে সাঁতার কেটে ইংলিশ চ্যানেল পাড়ি দেন। তিনি ১৯৬১ সালে ১০ ঘন্টা ৩৫ মিনিট সময় নিয়ে ইংলিশ চ্যানেল পাড়ি দিয়ে বিশ্ব রেকর্ড করেন। তিনি মোট ৬ (ছয়) বার ইংলিশ চ্যানেল পাড়ি দেন। ব্রজেন দাস ১ জুন ১৯৯৮ সালে মারা যান।

 

৫৪ ধারা: ৫৪ ধারার মূলকথা হলো পুলিশকে এমন ক্ষমতা প্রদান, যার বলে বিশেষ ক্ষেত্রে সন্দেহবশত পুলিশ যে কেউকে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা ছাড়াই আটক করতে পারে। এক্ষেত্রে পুলিশ নিম্নোক্ত ব্যক্তিদের গ্রেফতার করতে পারে-

ক) কোনো ব্যক্তি আমলযোগ্য অপরাধ করলে বা সন্দেহভাজন হলে

খ) পুলিশের কর্মে বাধা দিলে বা পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে পলায়ন করলে।

গ) যৌক্তিক কারণ ব্যতিরেকে ঘর বাঙ্গার সরঞ্জাম বাহন করলে।

ঘ) প্রবাসে কৃত এমন ঘটনা, যা বাংলাদেশে করলে শাসিত্মযোগ্য অপরাধ হিসাবে বিবেচিত হবে

 

ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টার: বাংলাদেশের পরিবার ও সমাজে অসংখ্য নারী ও শিশু প্রতিদিন পাচার, এসিড নিক্ষেপ, ধর্ষণ, নিপীড়নসহ পারিবারিক নির্যাতনের শিকার হচ্ছে। এসব অসহায় নারী ও শিশুর আইনী সহায়তা ও শিশুর আইনী সহায়তায় দেশে প্রথমবারের মতো বাংলাদেশ পুলিশে ‘ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টার’ চালু হয় ১৭ ফেব্রম্নয়ারি ২০০৯। রাজধানী ঢাকার তেজগাঁও থানা চত্বরে স্থাপিত হয় ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টার।

 

সংবিধান: সাধারণত সংবিধান বলতে আমরা এমন কিছু নিয়মনীতি, বিধি-বিধান বা অনুশাসনকে বুঝায় যা রাষ্ট্র পরিচালনার মূলসূত্র হিসেবে বিবেচিত হয়ে থাকে। অর্থাৎ রাজনৈতিক ব্যবস্থা এসব নিয়ম-কানুনকে অনুসরণ করেই তার কার্য পরিচালনা করে থাকে।

 

যুদ্ধাপরাধ: যুদ্ধাপরাধ বলতে কোনো দেশ, জাতি, সামরিক বা বেসামরিক ব্যক্তি কর্তৃক যুদ্ধের প্রথা বা আমত্মজার্তিক নীতিমালা লঙ্ঘন করাকে বুঝায়। হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয় প্রেস থেকে প্রকাশিত দ্য বস্ন্যাক বুক অব কমিউনিজম: ক্রাইম, টেরর, রিপ্রেশান গ্রন্থে যুদ্ধাপরাধ অর্থ ‘যুদ্ধের আইন বা প্রথাকে লঙ্ঘন করা’ বলতে হত্যা, নির্যাতন বা সাধারণ নাগরিকদের নির্বাসিত করে অধিকৃত জনপদে ক্রীতদাস শ্রম ক্যাম্পে পরিণত করা, আটককৃতদের হত্যা ও নির্যাতন, অপহৃতদের হত্যা, সামরিক বা বেসামরিক প্রয়য়োজনীয়তা ছাড়াই দায়িত্বজ্ঞানহীন নগর, শহর ও গ্রামাঞ্চলকে ধ্বংসসত্মূপে পরিণত করাকে উলেস্নখ করা হয়। চতুর্থ জেনেভা কনভেনশনের ১৪৭ ধারায় যুদ্ধাপরাধ প্রসঙ্গে বলা হয়: ইচ্চাকৃতভাবে হত্যা, নির্যাতন বা অমানবিক ব্যবহার এবং কারো শরীর বা স্বাস্থ্যে গুরম্নতর আঘাত করা বা তার দুর্দশার কারণ তৈরি, অন্যায়ভাবে কাউকে বিতাড়ন বা স্থানাসত্মর করা বা আটক করা, শত্রম্নবাহিনীর সেবাদানে বাধ্য করা, যথাযথ ও নিয়মতান্ত্রিক বিচার পাওয়ার অধিকার থেকে কাউকে ইচ্ছাকৃতভাবে বঞ্চিত করা, কাউকে জিম্মি করা, বিপুল পরিমাণে ধ্বংসযজ্ঞ চালানো ও সম্পত্তি আত্মসাৎ করা, সামরিক প্রয়োজন না থাকা সত্ত্বেও বেআইন ও নীতিবিরম্নদ্ধ আপরের যে কোনো এক বা একাধিক কর্মকা- যুদ্ধাপরাধ হিসাবে বিবেচিত হবে।

 

দ্বি-জাতি তত্ত্ব ও লাহোর প্রাসত্মবের মধ্যে সম্পর্ক: মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ ঘোষিত ‘দ্বি-জাতি তত্ত্ব’ হলো ভারত উপমহাদেশে বিদ্যমান মুসলিম ও হিন্দু দুই জাতির জন্য পৃথক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করা। আর ২৩ মার্চ ১৯৪০ সারে শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হক  কর্তৃক উত্থাপিত ‘লাহোর প্রসত্মাব’ হলো মূলত ভারতের উত্তর-পশ্চিম এবং পূর্ব ভূ-ভাগের মুসলমান সংখ্যাগরিষ্ঠ অঞ্চলগুলোকে নিয়ে পৃথক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করা । লাহোর প্রসত্মাবের মূল ভিত্তি ছিল দ্বি-জাতি তত্ত্ব।

 

স্যাবোট্যাজ (Subotage): সাধারণ অর্থে, স্যাবোট্যাজ বলতে কোনো অমত্মর্ঘাতী কাজকে বোঝায়। কর্মী, শ্রমিক, স্বদলীয় লোক যখন কোনো খারাপ উদ্দেশ্য সাধনের জন্য কারখানার যন্ত্রপাতি অথবা যে কোনো ধরণের সম্পদ ইচ্ছে করে ধ্বংস করে তখন এ ধরনের কাজকে স্যাবোট্যাজ, অমত্মর্ঘাত ইত্যাদি অভিধায় অভিহিত করা হয়।

 

কারফিউ (Curfiew): আভিধানিক অর্থে কারফিউ হচ্ছে একটি ইঙ্গিত বা সময়, যখন জনসাধারণ অবশ্যই ঘরে অবস্থান করবে। অপরদিকে Code of Crimanal Procudure এর ২৪ নং সেকশন অনুযায়ী কারফিউ হচ্ছে জেলা ম্যাজিস্ট্রেট কর্তৃক জারিকৃত একটি আদেশ, যার ফলে একটি নির্দিষ্ট এলাকার জনসাধারণ যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমতি ব্যতিরেকে ঘর থেকে বের হতে পারে না।

 

সিজোফ্রেনিয়া: সিজোফ্রেনিয়া হলো এক ধরণের মানসিক রোগ যা ব্যক্তির চিমত্মা, অনুভূতি, আবেগ ইত্যাদির মধ্যে অসঙ্গতির সৃষ্টি করে। ফলে ব্যক্তির মধ্যে পশ্চাদনুসরণ প্রবণতা দেখা দেয়। এ রোগে আক্রামত্মরা সাধারণত বাসত্মবকে অস্বীকার করে এবং নিজেকে লুকিয়ে রাখতে চায়।

 

ভিজিডি কর্মসূচী (Vulnerable Group Development Programme)

গ্রামের দরিদ্র ও দুস্থদের খাদ্য সহায়তা প্রদানের লক্ষ্যে সরকার ভিজিডি এর মাধ্যমে যে খাদ্য কর্মসূচী বাসত্মবায়ন করে থাকে তাকে ভিজিডি কর্মসূচী বলে। স্থানীয় সরকার ইউনিয়ন পরিষদের মাধ্যমে এ প্রকল্প বাসত্মবায়ন করে থাকে।

 

পিকেএসএফ (Palli Karma Sahayak Foundation-PKSF)

পলস্নী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশন (পিকেএসএফ) ১৯৯০ সালের মে মাসে প্রতিষ্ঠিত হয়। এটি প্রতিষ্ঠার প্রধান উদ্দেশ্য  দারিদ্র্য বিমোচনের লক্ষ্যে ক্ষুদ্র্ঋণ কার্যক্রম পরিচালনায় নিয়োজিত সম্ভাবনাময় এনজিওসমূহের অর্থসংস্থান করা। পিকেএসএফ কোম্পানি আইনের অধীনে নিবন্ধিত একটি অমুনাফাভিত্তিক সংস্থা।

 

অ্যানিমেশন (Animation): কম্পিউটারের মাধ্যমে টেক্সট, ড্রয়িং, ইমেজ, পেইন্টিং ইত্যাদি স্থির বস্ত্তকে বিভিন্ন ডাইমেনশনে গতিশীল বা সচল করার কৌশলকে অ্যানিমেশন বলে। এর সাহায্যে ভার্চুয়াল রিয়েলিটির জগতে বিচরণ করা সম্ভব হয়েছে।

 

বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন: বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন সরকার ও বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে যোগাযোগকারী বা মধ্যস্থতাকারী প্রতিষ্ঠান। ১৯৭৩ সালের ১৫ ফেব্রম্নয়ারি রাষ্ট্রপতি ১০ নং অধ্যাদেশের মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন প্রতিষ্ঠিত হয়। এর প্রধান  একজন চেয়ারম্যান।

 

বঙ্গভঙ্গ: ১৯০৫ সালে বাংলা প্রদেশকে বিভক্ত করে পশ্চিমবঙ্গ ও পূর্ববঙ্গ নামে দুটি প্রদেশ গঠন করা হয়। তখন বাংলা প্রদেশ ছিল বাংলা, বিহার ও উড়িষ্যার সমন্বয়ে গঠিত। পূর্ববঙ্গ এবং আসাম মিলে পূর্ববঙ্গ প্রদেশ গঠিত হয় এবং ঢাকাকে এ প্রদেশের প্রাদেশিক রাজধানী করা হয়। ইতিহাসে এটাই বঙ্গভঙ্গ নামে পরিচিত। ১৯১১ সালে হিন্দুদের চরম বিরোধিতার কারণে ব্রিটিশ সরকার বঙ্গভঙ্গ রদ করতে বাধ্য হয়।

 

সামাজিকীকরণ: জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যমত্ম যে প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ব্যক্তি তার সামাজিক পরিবেশ ও পরিস্থিতির সাথে নিজের অভিযোজন সাধন করে তাকে সামাজিকীকরণ বলে। এটি এমন একটি ব্যবস্থা যার মাধ্যমে মানবশিশু সমাজের একজন কাঙ্ক্ষিত পূর্ণাঙ্গ সদস্য হিসেবে গড়ে ওঠে।

 

মাকামে ইব্রাহিম: ‘মাকামে ইব্রহিম’ শব্দের অর্থ হযরত ইব্রাহিম (আ:) এর পা। একটি বেহেশতি ইয়াকুতি পাথরে এটি সংরক্ষিত আছে। এ পাথরে চড়ে হযরত ইব্রাহিম (আ:) কাবার সংস্কার কাজ করেছিলেন এবং পাথরটি অলৌকিকভাবে প্রয়োজনমতো উঁচু বা নিচু হতো।

 

গ্যালাক্সি: মহাকাশে কোটি কোটি নক্ষত্র, ধূলিকণা এবং বিশাল বাষ্পকু- নিয়ে জ্যোতিষ্কম-লীর যে দল সৃষ্টি হয়েছে তাকে গ্যালাক্সি বা নক্ষত্র জগৎ বলে।

 

মদিনা সনদ বা কিতাব-উর-রসূল: মদিনা সনদ বা কিতাব-উর-রসূল ইসলামের ইতিহাসের একটি গুরম্নত্বপূর্ণ দলিল। ৬২২ খ্রিষ্টাব্দে হযরত মোহাম্মদ সাঃ এর মদিনা পৌঁছানোর পর তিনি সেখানে নেতৃত্বের আসনে সমাসীন হন এবং শতধা বিভক্ত ইহুদি, খ্রিষ্টান, পৌত্তলিক ও আগত মুসলমানদের মধ্যে ঐক্য, শামিত্ম ও সমঝোতা প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে একটি ইসলামী রাষ্ট্র গঠনের পরিকল্পনা করেন। এ লক্ষ্যকে সামনে রেখে তিনি একটি সনদ প্রণয়ন করেন যা ইসলামের ইতিহাসে ‘মদিনা সনদ’ নামে পরিচিত।

 

এসিড বৃষ্টি : শিল্প উৎপাদন প্রক্রিয়ায় যে সালফার ডাই-অক্সাইডের নিঃসরণ ঘটে তার কারণে এসিদ বৃষ্টি হয়। ১৯৭৯ সালে দূরপালস্নার আসত্মঃসীমামত্ম বায়ু দূষণ বিষয়ক কনভেনশন এর ফলে ইউরোপ ও উত্তর আমেরিকায় এটি উলেস্নখযোগ্যভাবে  হ্রাস পেয়েছে।

 

Action Aid (অ্যাকশন এইড) : যুক্তরাজ্যভিত্তিক একটি আমত্মর্জাতিক উন্নয়নমূলক সংস্থা। ১৯৭২ সালে এর প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই সংস্থাটি আফ্রিকা, এশিয়া, লাতিন আমেরিকা ও ক্যারিবীয় দ্বীপপুঞ্জের ৩০টির বেশি দেশে দারিদ্র্য বিমোচনের জন্য পরিবার ও সমাজগোষ্ঠীকে লক্ষ্য করে কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে।

 

ওয়ারেন্ট অব প্রিসিডেন্স: মূলত রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানাদিতে কারা আমন্ত্রণ পাবেন এবং তাদের আসনবিন্যাস কী হবে, তারই নির্দেশক ওয়ারেন্ট অব প্রিসিডেন্স। এ পদক্রম নির্ধারণ করা হয় রাষ্ট্রের গুরম্নত্বপূর্ণ পদ ও কর্মক্ষেত্র বিবেচনায় রেখে। ওয়ারেন্ট অব প্রিসিডেন্স বা পদমর্যাদাক্রমের ব্যবহারিক গুরম্নত্ব রাষ্ট্রীয় আচারের মধ্যে সীমাবদ্ধ। এটি মর্যাদা নিধারণের কোনো মাপকাঠি নয়। শুধু রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানগুলোর শৃঙ্খলার জন্য এটি করা হয়। এর আইনগত বা সাংবিধানিক কোনো ভিত্তি নেই। বাংলাদেশ, ভারত এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বলা হয়েছে, ওয়ারেন্ট অব প্রিসিডেন্স শুধু রাষ্ট্রীয় আচার-অনুষ্ঠানেই ব্যবহৃত হবে।

 

সেফটি অপরাধ: অনির্ধারিত স্থানে গাড়ি পার্কিং, গাড়ির অতিরিক্ত গতি, মোটর সাইকেল চালকের হেলমেট না থাকা এবং তিন বা ততোধিক ব্যক্তির আরোহণ, গাড়ির সামনে ও পেছনের সংকেত বাতি নষ্ট থাকা, লুকিং গস্নাস না থাকা বা নষ্ট থাকা, কালো ধোঁয়া ছাড়া, হাইড্রোলিক হর্ণ বাজানো, ট্রাফিক সিগন্যাল আদেশ অমান্য করা, প্রকাশ্য স্থানে/সড়কে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করা ইত্যাদি সেফটি অপরাধ।

 

কোরাম (Quorum): সাধারণ অর্থে কোরাম হলো সভা ও কার্য সম্পাদনের জন্য আবশ্যক নির্দিষ্ট সভ্য সংখ্যা। কোনো কার্য সম্পাদন বা সভা অনুষ্ঠানের জন্য ন্যূনপক্ষে যে কজন সভ্যের/সদস্যের উপস্থিতি অপরিহার্য তাকে কোরাম বলা হয়। (A minimum number of persons/members that must be present to constitute a valid meeting is called Quorum.) উদাহরণ সরূপ বলা যায়, বাংলাদেশের  জাতীয় সংসদ অধিবেশনের কোরাম হচ্ছে ৬০ জন। সংসদ বৈঠক চলাকালে কোনো সময় উপস্থিত সদস্য সংখ্যা ৬০-এর কম বলে যদি সভাপতির দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়, তাহলে তিনি অন্যূন ৬০ জন সদস্য উপস্থিত না হওয়া পর্যমত্ম বৈঠক স্থগিত রাখবেন অথবা মুলতবি করবেন।

 

গণভোট (Plebiscite): Plebian বা জনসাধারণ শব্দ থেকে গণভোট শব্দের উদ্ভব। গণভোট কথাটির অর্থ হচ্ছে রাষ্ট্রীয় কোন গুরম্নত্বপূর্ণ বিষয়ে ভোটের মাধ্যমে সমগ্র জনগণের মতামত গ্রহণ প্রক্রিয়া। নেপোলিয়ন বোনাপার্ট সর্বপ্রথম ফ্রান্সে এ প্রথার প্রচলন করেন।

 

ন্যায় যুদ্ধ: সর্বপ্রকারের শোষণ, দাসত্ব, অত্যাচার, উৎপীড়ন হতে মুক্তিলাভের জন্য, বৈদেশিক আক্রমণ ও বৈদেশিক দাসত্ব বন্ধনে আবদ্ধ করার চেষ্টা থেকে আত্মরক্ষার জন্য এবং সাম্রাজ্যবাদের শৃঙ্খল থেকে পরাধীন দেশ ও উপনিবেশসমুহকে মুক্ত করার জন্য যে যুদ্ধ চালানো হয় তাকেই ন্যায় যুদ্ধ বলে।

 

আদালত অবমাননা: সাধারণ অর্থে আদালত অবমাননা বলতে বোঝায় কোর্টের কোন আদেশ-নির্দেশ মান্য করতে অস্বীকার করা, কোন আদালত বা বিচারকদের বিরম্নদ্ধে মানহানিকর ও অসম্মানজনক মমত্মব্য করা ইত্যাদি। তবে আইনী ভাষায় আদালত অবমাননা বলতে এমন ব্যবহার বা কর্মকে বোঝায়, যা কোন আদালত কর্তৃক পরিচালিত আইনের শাসনকে অবজ্ঞা করে এবং পদ্ধতিকে তাচ্ছিল্যভাবে অবজ্ঞা করে বা হসত্মক্ষেপ করে।

 

উইল: উইল হচ্ছে মৃত্যুর পূর্বে এক ধরনের অসিয়ত, যা মৃত্যুর পরে কার্যকর হয়। মৃত্যু পথযাত্রী ব্যক্তি কর্তৃক তার বৈধ সম্পত্তি কোন ব্যক্তি বা অপর কোন প্রতিষ্ঠানের নামে চিরদিনের জন্য বা বিশেষ কিছুদিনের জন্য প্রদান করাকে উইল বলে। উইলে কোন বিনিময়ের উলেস্নখ থাকে না।

 

মানবাধিকা: মানবাধিকার নাগরিক অধিকারের সমগোত্রীয়। সাধারণভাবে বাক্ স্বাধীনতা, ধর্মীয় স্বাধীনতা, পারিবারিক জীবনের অধিকার, ফৌজদারি মামলায় সুবিচার পাওয়ার অধিকার, অমানবিক শাসিত্ম থেকে নিষ্কৃতির নিশ্চয়তা, রাজনৈতিক কর্মকা–র স্বাধীনতা ইত্যাদিই মানবিাধিকারের পর্যায়ভুক্ত।

 

মুল্যবোধ: সমাজের কোন বস্ত্ত বা বিষয়ের মূল্য সম্পর্কিত ধারণা। এক একটি বস্ত্তর বিভিন্ন মূল্য থাকতে পারে। যেমন: সামাজিক, আদর্শিক, আধ্যাত্মিক বা নন্দন তাত্ত্বিক। মূল্যবোধ গড়ে ওঠে সংশিস্নষ্ট ব্যক্তি বা ব্যক্তিবর্গের শ্রেণি অবস্থান, শ্রেণি সচেতনতা, ধর্মবিশ্বাস, পারিবারিক ঐতিহ্য, সমাজ, পেশা ও অন্যান্য পারিবারিক অবস্থার ভিত্তিতে।

 

প্রোফাইল: প্রোফাইল হচ্ছে প্রকৃত পরিস্থিতির তথ্যচিত্র। কোন ব্যক্তি বা ব্যক্তিবর্গ, সংস্থা বা সংস্থাসমুহ, এলাকা বা এলাকাসমূহের সার্বিক তথ্যাবলিই হল অবয়বচিত্র বা প্রোফাইল। প্রোফাইল দেখে ব্যক্তি, সংস্থা বা এলাকা সম্পর্কে একটি স্বচ্ছ ধারণা পাওয়া যায়।

 

ব্যর্থ রাষ্ট্র: ব্যর্থ রাষ্ট্র হলো এমন এক ধরনের রাষ্ট্র যা উত্তর-ঔপনিবেশিক সময়ে অর্থনৈতিক সাহায্য, ত্রাণ ইত্যাদি পেয়েও নিজেদের অর্থনৈতিক চেহারা পাল্টাতে পারিনি। পাল্টাতে পারেনি নিজেদের জিডিপি, জীবনযাত্রার মান ও সামাজিক মর্যাদা; রাজনৈতিকভাবে অস্থিতিশীলতার মধ্যে যাদের বসবাস, কোন পরিবর্তনের সম্ভাবনা ছাড়াই দিনের পর দিন চলছে মানবাধিকার, গণতন্ত্র ইত্যাদি। পাশ্চাত্য দেশের কাছে এসব দেশ বোঝা। এরা সর্বাত্মকভাবে ব্যর্থ একটি রাষ্ট্র।

 

রেনেসাঁ: রেনেসাঁ (Renaissance) ফরাসি শব্দ যার অর্থ ‘পুনর্জন্ম’ বা ‘নবজাগরণ’। চতুর্দশ শতাব্দী থেকে ষোড়শ শতাব্দীর শেষ নাগাদ ইতালিতে রেনেসাঁর সূত্রপাত ঘটে। এ রেনেসাঁর প্রভাবে ইতালিসহ ইউরোপের বিভিন্ন দেশের শিল্প-সাহিত্য, দর্শন, বিজ্ঞান এমনকি ভাষা, ধর্ম এবং প্রচলিত ধ্যানধারণা, চিমত্মা ও বিশ্বাসের ক্ষেত্রে আমূল পরিবর্তন ঘটে যায়।

 

কনডেম সেল : কারাগারে ফাঁসির আসামীদের জন্য নির্ধারিত সেলকে কনডেম সেল বলে। ফাঁসি কার্যকর না হওয়া পর্যমত্ম আসামীকে এ সেলে রাখা হয়।

 

সাধারণ ক্ষমা : কোন সরকার বা কর্তৃপক্ষ যখন সাজাপ্রাপ্ত, বিচারাধীন ও অভিযুক্ত নির্বিশেষে সকল রাজবন্দি বা যুদ্ধবন্দিকে মুক্ত করে দেয় তখন তাকে সাধারণ ক্ষমা বলে।

Leave a Comment