Viva Preparation (বঙ্গবন্ধু, মুক্তিযুদ্ধ, স্বাধীনতা, বাংলাদেশ)

লারকানা ষড়যন্ত্র
(পাখি শিকারের নামে গণহত্যার পরিকল্পনা)

১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ মধ্যরাতে বাংলাদেশে গণহত্যার ঘৃণ্য পরিকল্পনা হয়েছিল পাকিস্তানের সিন্ধু প্রদেশে জুলফিকার আলী ভুট্টোর বাড়ি ‘লারকানা হউজে’। আর তা হয়েছিল গণহত্যা শুরুর একমাস আগে। পাখি শিকারের কথা বলে পাকিস্তানি জেনারেলদের নিয়ে লারকানায় ইতিহাসের জঘন্যতম গণহত্যার প্রাথমিক পরিকল্পনা করা হয়েছিল। তৎকালীন পশ্চিম পাকিস্তানের পিপলস পার্টির সভাপতি জুলফিকার আলী ভুট্টো জেনারেল ইয়াহিয়া খানকে লারকানায় ‘পাখি শিকার’ করতে আমন্ত্রণ জানান। আর সেই আমন্ত্রণে সাড়া দিয়ে ১৯৭১ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি লারকানায় ভুট্টোর বাড়িতে প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খান, সেনা প্রধান জেনারেল হামিদ, প্রধান স্টাফ অফিসার লে. জে. পীরজাদা, লে. জে. ওমরসহ আরো কয়েকজন সামরিক কর্মকর্তা মিলিত হন। সেখানেই বাংলাদেশে গণহত্যার পরিকল্পনা করা হয়। পরে যা ‘অপারেশন সার্চলাইট’ নামে ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ মধ্য রাতে বাস্তবায়ন করা হয়।
বাঙ্গালি হত্যার এ পরিকল্পনায় পূর্ব পাকিস্তানের গভর্নর ভাইস অ্যাডমিরাল আহসান এবং ইস্টার্ন কমান্ডের প্রধান জেনারেল সাহেবজাদা ইয়াকুব খান সম্মত হননি। তাই তাদেরকে পদ থেকে অপসারণ করা হয়। এর পূর্বেই বেসামরিক মন্ত্রিসভা বাতিল করা হয়।
২০০১ সালের ডিসেম্বর মাসে ইন্দো-আমেরিকান সংবাদপত্র India Abroad এর সাংবাদিক আমির মির এর নিকট লে. জে. নিয়াজি এক দুর্লভ সাক্ষাৎকার দিয়েছিলেন। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেছিলেন, “আমরা করাচি বসেই জানতে পারলাম, ‘লারকানা ষড়যন্ত্র’ রাজনীতির দৃশ্যপট বদলে দিয়েছে। সাধারণত রাজনৈতিক আলোচনায় ইয়াহিয়ার উপদেষ্টা হিসেবে উপস্থিত থাকতেন লে. জেনারেল পীরজাদা ও লে. জেনারেল ওমর। কিন্তু ইয়াহিয়া সেনাপ্রধান জেনারেল হামিদকে ভুট্টোর লারকানা হাউজে নিয়ে যান। এটাও ছিল রহস্যময়। পূর্ব পাকিস্তানে সামরিক অভিযানের পরিকল্পনা এই বৈঠকেই গৃহীত হয়”।

অপারেশন সার্চলাইট

অপারেশন সার্চলাইট পাকিস্তানে স্বৈরাচারী শাসনের বিরুদ্ধে আন্দোলনকারী মুক্তিকামী বাঙালিদের কঠোর হস্তে দমনের জন্য ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ পাকিস্তান সামরিক বাহিনী যে সশস্ত্র অভিযান পরিচালনা করে সামরিক কর্তৃপক্ষ একে ‘অপারেশন সার্চলাইট’ নামে অভিহিত করে। এ অপারেশনের উদ্দেশ্য ছিল ঢাকাসহ তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের প্রধান শহরগুলিতে বিশিষ্ট আওয়ামী লীগ নেতা ও ছাত্র নেতৃবৃন্দ এবং বাঙালি বুদ্ধিজীবীদের গ্রেপ্তার ও প্রয়োজনে হত্যা, সামরিক আধা সামরিক ও পুলিশ বাহিনীর বাঙালি সদস্যদের নিরস্ত্রীকরণ, অস্ত্রাগার, রেডিও ও টেলিফোন এক্সচেঞ্জ দখলসহ প্রদেশের সামগ্রিক কর্তৃত্ব গ্রহণ এবং বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে পরিচালিত অসহযোগ আন্দোলন কঠোর হস্তে দমন করে প্রদেশে পাকিস্তান সরকারের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করা। অপারেশন সার্চলাইটের আওতায় ২৫ মার্চ রাত সাড়ে এগারটা থেকে মধ্য মে পর্যন্ত বড় বড় শহরে অভিযান পরিচালিত হয়।

অপারেশন সার্চলাইট  অভিযান শুরুর সময় নির্ধারিত ছিল ২৬ মার্চ রাত ১টা। কিন্তু ২৫ মার্চ সন্ধ্যায় আওয়ামী লীগ প্রধান বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খানের সঙ্গে তাঁর বৈঠকে কোনো ইতিবাচক ফলাফল না পেয়ে সবাইকে সর্বাত্মক সংগ্রামের জন্য তৈরি হওয়ার আহবান জানান। সে রাতেই ঢাকার বিভিন্ন স্থানে মুক্তিকামী বাঙালি প্রতিরোধ ব্যবস্থা গড়ে তোলে। লেফটেন্যান্ট জেনারেল টিক্কা খান ও এ.এ.কে নিয়াজীর জনসংযোগ কর্মকর্তা মেজর সিদ্দিক সালেক মন্তব্য করেছেন যে, বাঙালি বিদ্রোহীদের প্রবল প্রতিরোধ সৃষ্টির আগেই পাকিস্তান বাহিনী ঢাকার বিভিন্ন স্থানে পৌঁছার লক্ষ্যে অভিযান এগিয়ে ২৫ মার্চ রাত ১১-৩০ মিনিটে শুরু হয়। অবশ্য ৫ আগস্ট প্রকাশিত পাকিস্তান সরকারের শ্বেতপত্রে উল্লেখ করা হয় যে, আওয়ামী লীগ ২৬ মার্চ ভোরে একটি সশস্ত্র বিদ্রোহ করার পরিকল্পনা নিয়েছিল। শ্বেতপত্রে উল্লেখিত এ তথ্যকেও অভিযান এগিয়ে আনার সম্ভাব্য কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা যায়।

পাকিস্তান বাহিনীর ১৪ ডিভিশনের জিওসি মেজর জেনারেল খাদিম হোসেন রাজা এবং ৫৭ ডিভিশনের জিওসি মেজর জেনারেল রাও ফরমান আলী খান ১৯৭১ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি অপারেশন সার্চলাইট নামে একটি সামরিক অভিযানের বিষয়ে সিদ্ধান্তে পৌঁছেন। ১৭ মার্চ চীফ অব স্টাফ জেনারেল আবদুল হামিদ খানের নির্দেশে জেনারেল রাজা পরদিন ঢাকা সেনানিবাসে জিওসি অফিসে অপারেশন সার্চলাইট পরিকল্পনা চূড়ান্ত করেন। পাঁচ পৃষ্ঠার এই পরিকল্পনাটি রাও ফরমান আলী নিজ হাতে লিখেন। এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নের লক্ষ্যে ২৪-২৫ মার্চ জেনারেল হামিদ, জেনারেল এ. ও মিঠঠি, কর্নেল সাদউল্লাহ হেলিকপ্টারে করে বিভিন্ন সেনানিবাসে প্রস্ত্ততি পরিদর্শন করেন। সিদ্ধান্ত হয়, ২৫ মার্চ রাত ১টায় অপারেশন সার্চলাইটের আওতায় অভিযানে ঢাকায় নেতৃত্ব দিবেন জেনারেল রাও ফরমান আলী। দেশের অন্যান্য অঞ্চলে নেতৃত্ব দিবেন জেনারেল খাদিম রাজা। লে. জেনারেল টিক্কা খান ৩১ ফিল্ড কমান্ডে উপস্থিত থেকে অপারেশনের অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ করবেন। এ ছাড়া এ অভিযানকে সফল করার জন্য ইতোমধ্যে জেনারেল ইয়াহিয়া খানের দু’জন ঘনিষ্ঠ অফিসার মেজর জেনারেল ইখতেখার জানজুয়া ও মেজর জেনারেল এ.ও মিঠঠিকে ঢাকায় আনা হয়।

Source: Bangla Pedia

 

১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ ঢাকা শহরের দখল নিশ্চিত করতে যে পরিকল্পনা করা হয়েছিল তা হল-

১। ১৩ ফ্রন্টিয়ার ফোর্স ঢাকা ক্যান্টনমেন্টের নিরাপত্তার জন্য রিজার্ভ ফোর্স হিসেবে অবস্থান করবে।
২। ২২ বালুচ রেজিমেন্ট ইপিআর-কে নিরস্ত্রণ করবে এবং পিলখানা সদর দপ্তরের ওয়ারলেসের নিয়ন্ত্রণ নিবে।
৩। ৩২ পাঞ্জাব রেজিমেন্ট রাজারবাগ পুলিশ লাইন নিয়ন্ত্রণে আনবে।
৪। ১৮ পাঞ্জাব রেজিমেন্ট নবাবপুর এবং পুরান ঢাকায় তল্লাসী চালাবে এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে।
৫। ৩১ ফিল্ড রেজিমেন্ট ঢাকার সুরক্ষায় থাকবে এবং মোহাম্মদপুর ও মিরপুর দখল করবে।
৬। ৩ নং স্পেশাল সার্ভিসেস গ্রপের একটি কমান্ডো প্লাটুন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে বন্দী করবে। তিনটি দল
বা প্লাটুনে বিভক্ত হয়ে অভিযানে অংশ নেবে ৩ নং এসএসজির একটি কোম্পানি। একটি প্লাটুন মূল অপারেশনের
জন্য এবং বাকী দুটি সাপোর্ট হিবেবে কাজ করবে।
৭। ২২ বালুচ এবং ৩২ পাঞ্জাব ঢাকা ভার্সিটির বিদ্রোহীদের দমন করবে। প্রধান টার্গেট হবে জগন্নাথ হল।
৮। ৪৩ রেজিমেন্ট তেজগাঁও বিমানবন্দরের নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে।
৯। সর্বশেষে ২২ বালুচ পিলখানায় রিইনফোর্সমেন্ট হিসেবে গমন করবে।

 

* বঙ্গবন্ধু ২৫ মার্চ কালো রাতে প্রেপ্তার এড়াতে পারতেন বলে অনেকে বলে থাকেন। তাহলে তিনি স্বেচ্ছায় গ্রেপ্তার হলেন কেন? কারণ-

বঙ্গবন্ধু আত্মগোপনে যেয়ে জনগণকে বিপদের মুখে ঠেলে দিতে চাননি।
পালিয়ে যেয়ে তিনি বাঙ্গালি জাতিকে ভীরু, কাপুরুষ জাতি হিসেবে বিশ্ব দরবারে কলঙ্কিত করতে চাননি।
বঙ্গবন্ধু জানতেন যে, তাঁকে গ্রেপ্তার না করতে পারলে পাক বাহিনী তাঁকে গ্রেপ্তার করার জন্য সারা দেশ লণ্ডভণ্ড করে দিবে।
তিনি বিশ্বাস করতেন যে, তার অবর্তমানেও বাঙ্গালি জাতি তাঁর আত্মত্যাগে বলিয়ান হয়ে একদিন না একদিন স্বাধীনতা অর্জন করবেই।
জাতির প্রয়োজনে তিনি জীবনদানে প্রস্তুত ছিলেন। তাই তিনি ভারতে পালিয়ে যেয়ে প্রাণ রক্ষার চেয়ে গ্রেপ্তার হয়ে বিরোচিত কাজ করেছেন এবং বাঙ্গালি যে সাহসী জাতি বিশ্বকে তা জানিয়ে দিয়েছেন।

 

Operation Great Fly in 

অপারেশন সার্চলাইটের পূর্ব প্রস্তুতি হিসেবে পশ্চিম পাকিস্তান হতে যে তিনটি ডিভিশনকে একমাসের মধ্যে শ্রীলঙ্কার আকাশসীমা দিয়ে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানে নিয়ে আসা হয়েছিল সেই অপারেশনের সাংকেতিক নাম ছিল Operation Great Fly in . ঐসময় ভারতের উপর দিয়ে উড্ডয়নে নিষেধাজ্ঞা থাকায় শ্রীলঙ্কার আকাশসীমা ব্যবহার করা হয়েছিল।

 

জাতির পিতা হিসেবে শেখ মুজিবুর রহমান কি যথার্থ? কেন?

শেখ মুজিবুর রহমান জাতির পিতা হিসেবে যথার্থ কারণ-১৯৪৭ সালের পর থেকে বাঙ্গালি জাতি অবিভাবকহীন হয়ে পড়লে তিনি বাংলাদেশকে সামনের থেকে নেতৃত্ব দেন। তিনি ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন, ১৯৫৪ সালের যুক্তফ্রন্ট নির্বাচন, ৬৬ এর ছয় দফা দাবি, ৬৯ এর গণ-অভুত্থান, ৭০ এর নির্বাচন, ৭১ এর ৭ মার্চের ভাষণ এবং ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে অগ্রণী ভুমিকা পালন করেন। অর্থাৎ মুজিব মানেই বাংলাদেশ। তাই তিনি যথার্থই জাতির পিতা।

 

স্মৃতি সৌধের ৭টি স্তম্ভ কি নির্দেশ করে?

স্মৃতি সৌধের ৭টি স্তম্ভ ৫২ এর ভাষা আন্দোলন, ৫৪ সালের যুক্তফ্রন্ট নির্বাচন, ৬২ সালের শিক্ষা আন্দোলন, ৬৬ সালের ছয়দফা আন্দোলন, ৬৯ এর গণঅভ্যুত্থান, ৭০ সালের সাধারণ নির্বাচন এবং ৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ এই ৭টি পর্যায় নির্দেশ করে।

 

গানবোট ডিপ্লোমেসি

১৯৭১ সালের ডিসেম্বর মাসে মার্কিন রণতরী সপ্তম নৌ-বহর বঙ্গোপসাগরে উপনিত হলে একে সোভিয়েত রণতরী অষ্টম নৌ-বহর অনুসরন করলে মার্কিন নৌ-বহর পশ্চাদপদোসরণ করে যা ইতিহাসে গানবোট ডিপ্লোমেসি নামে খ্যাত।

 

অপারেশন ক্যাকটাস লিলি

ভারতীয় বিমান বাহিনী (বায়ুসেনা) কর্তৃক ১৯৭১ সালের ৩ ডিসেম্বর থেকে ১৬ ডিসেম্বর পর্যন্ত তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানে যে সামরিক অভিযান পরিচালিত হয়েছিল সেই অভিযানের সাংকেতিক নাম ছিল অপারেশন ক্যাকটাস লিলি।

 

অপারেশন স্ট্রীট ফাইটিং

১৫ ডিসেম্বর, ১৯৭১ সালে ঢাকা ক্যান্টনমেন্টে ভারতীয় বিমান বাহিনীর (বায়ুসেনা) তীব্র আক্রমনে দিশেহারা হয়ে প্রাণে বাঁচতে জেনারেল নিয়াজী ও তার সঙ্গীরা ক্যান্টনমেন্ট ছেড়ে আশ্রয় নেয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকা ও হাতিরপুলের ঘর বাড়িতে। তাদের ধাওয়া করতে শুরু হয় আই.এ.এফ এর অপারেশন স্ট্রীট ফাইটিং।

 

সোয়াত দিবস

১৯৭১ সালের ২৪ মার্চ ঐতিহাসিক সোয়াত দিবস হিসেবে খ্যাত। ১৯৭১ সালের ২৩ মার্চ এম ভি সোয়াত নামের পাকিস্তানি একটি জাহাজ চট্টগ্রাগ বন্দরের ৭ নং জেটিতে নোঙ্গর করে। পাকিস্তানের ঐ খাদ্য জাহাজে গম ও চালের সাথে মারণাস্ত্র মজুদ ছিল যা অনেকটা গোপনীয় ছিল এবং ঐ জাহাজে প্রায় ৮০০-৯০০ টন গোলাবারুদ মজুদ ছিল। ঐ দিন দুপুরে এক বাঙ্গালি শ্রমিকের দুপুরের ভাত খাওয়াকে কেন্দ্র করে জাহাজের ক্যাপ্টেনের সাথে মৃদু কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে হাতাহাতি হয়। তখন ঐ শ্রমিক ক্ষিপ্ত হয়ে জাহাজের বস্তা টানাটানি করতে গিয়ে হঠাৎ করে চাল-গমের বস্তার নিচে থরে থরে সাজানো অস্ত্র দেখতে পান। তখন যেহেতু রাজনৈতিক উত্তেজনা ছিল তুঙ্গে তাই সে সহজেই বুঝতে পারে যে, এই অস্ত্রগুলো আনা হয়েছে তাদের (বাঙ্গালিদের) নিধন করার জন্য। অস্ত্র মজুদের এই গোপন তথ্যটি ঐ বাঙ্গালি শ্রমিক রাতের আাঁধারে জীবন বাজি রেখে ছোট্ট একটি কাগজে লিখে তৎকালীন পতেঙ্গা-হালিশহর শিল্পাঞ্চলের শ্রমিক নেতা আবুল বাশারকে জানিয়ে দেন। সে সময়ে পতেঙ্গা-হালিশহর শিল্পাঞ্চলের শ্রমিকদের নেতৃত্বদানকারী চট্টলার বিশিষ্ট নেতা এম. এ. আজিজের ছোট ভাই আব্দুল মজিদ, আবুল বাশার, লিয়াকত আলী (পরে এম.পি) এবং বন্দর-পতেঙ্গা ও হালিশহর শিল্পাঞ্চলের নাম না জানা প্রায় সাড়ে ছয় হাজার শ্রমিক জনতা সোয়াত জাহাজ ঘেরাওয়ের সিদ্ধান্ত নেন। ছোট কাগজের সেই গোপন তথ্যটি নিয়ে শ্রমিক নেতৃবৃন্দ ২৩ মার্চ সন্ধ্যায় চাঁনখালীর মাঠ (বর্তমান ডক শ্রমিক কলোনী মাঠ) জরুরি সভা ডেকে খবরটি শ্রমিকদের জানিয়ে দেন। ২৪ মার্চ তারিখে শ্রমিকরা বাশার, মজিদ, লিয়াকত ও ইসহাকের নেতৃত্বে জড়ো হন। শ্রমিকরা দেশীয় অস্ত্র তথা দা-বটি, রড, ইট, পাথর, লাঠি-সোটা, লাকড়ি এবং মরিচের গুড়া নিয়ে সোয়াত জাহাজ ঘিরে ফেলে। তাদের দুর্বার আন্দোলন বানচাল করতে পাক বাহিনী বাঙ্গালি সেনা কর্মকর্তা মেজর জিয়াকে দায়িত্ব দেন অস্ত্রগুলো খালাস করার। অবৈধ অস্ত্র খালাসের বিষয়টি হয়তো মেজর জিয়া জানতেন না। তাই তিনি সেদিন পণ্য খালাসের নির্দেশ দেন। কিন্তু হাজার হাজার শ্রমিকের বিক্ষোভের মুখে সেনা অফিসার জিয়া বাধ্য হয়ে কালুর ঘাট চলে যান। ফলে অস্ত্র খালাস বন্ধ হয়ে যায়। ঐ দুর্বার আন্দোলনে শ্রমিকরা তাঁদের দিকে তাক করা পাক বাহিনীর বন্দুককে ভয় না পেয়ে রাজপথে যাঁর যা কিছু ছিল তাই নিয়ে বিক্ষোভ করতে থাকে। ৭ নং জেটি থেকে সেদিন সর্বত্র শ্লোগান উঠে “পিন্ডি না ঢাকা, ঢাকা-ঢাকা-। তোমার দেশ আমার দেশ বাংলাদেশ বাংলাদেশ। ভুট্টোর মুখে লাথি মার বাংলাদেশ স্বাধীন কর”। ২৪ মার্চের ঐ দিন যদি আন্দোলনরত শ্রমিকরা অস্ত্র খালাস বন্ধ করতে ব্যর্থ হত তাহলে হয়তো আমাদের স্বাধীনতা অর্জনের ইতিহাস অন্যরকম হত। তাই ১৯৭১ সালের ২৪ মার্চ দিনটি আমাদের স্বাধীনতা অর্জনের ক্ষেত্রে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।

 

এম এম আহমেদ প্ল্যান

এমএম আহমেদ প্লান এর লক্ষ্য ছিল ইয়াহিয়াকে রাষ্ট্রপতির দায়িত্বে বহাল রাখা এবং ভুট্টোকে প্রধানমন্ত্রী করা। এছাড়া, এ প্ল্যানের লক্ষ্য ছিল পূর্ব পাকিস্তানকে কোন উত্তরসূরি সরকার ছাড়াই ত্যাগ করা।

মির্জা মুজাফফর আহমেদ: মির্জা মুজাফফর আহমেদ ‘এমএম আহমেদ’ নামে সমধিক পরিচিত ছিলেন যিনি তৎকালীন পাকিস্তানের একজন উচ্চপদস্থ সরকারি আমলা ছিলেন। তিনি আহমদীয়া মুসলিম সম্প্রদায়ের লোক ছিলেন।

 

অপারেশন বরিশাল

অপারেশন সার্চলাইট এর অংশ হিসেবে বরিশাল শহরকে মুক্তিবাহিনীর দখল হতে মুক্ত করার লক্ষ্যে এবং পাক সেনাবাহিনীকে logistic support দেওয়ার উদ্দেশ্যে পাকিস্তানি নৌবাহিনী কর্তৃক পরিচালিত অভিযানের সাংকেতিক নাম ‘অপারেশন বরিশাল’।

 

*ঘোষক ও পাঠক এর মধ্যে পার্থক্য:

ঘোষক: যিনি কোন বিষয় সম্পর্কে চূড়ান্তভাবে সিদ্ধান্ত দেন তাকে ঘোষক বলে।
পাঠক : যিনি চূড়ান্তভাবে সিদ্ধান্তকৃত কোন বিষয়কে সাধারণ মানুষের কাছে পাঠ করে কোন মাধ্যম দ্বারা পৌঁছে
দেন তাকে পাঠক বলে। পাঠক অপেক্ষায় একজন ঘোষকের গুরুত্ব অনেক বেশি।

 

* জেনারেল ওসমানীর ১৬ ডিসেম্বর ১৯৭১ সালের আত্মসমর্পণ অনুষ্ঠানে যোগদান করেন নি কেন?

জেনারেল ওসমানীর ১৬ ডিসেম্বর ১৯৭১ সালের আত্মসমর্পণ অনুষ্ঠানে যোগদান করেন নি, কারণ তিনি ছিলেন বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর প্রধান। আত্মসমর্পণ দলিলে স্বাক্ষর করার কথা ছিল ভারত ও পাকিস্তানের আঞ্চলিক প্রধান সেনা কর্মকর্তার। ওসমানী নিজেই এ বিতর্কের জবাব দিয়ে গেছেন। আত্মসমর্পণের দলিলের নীচে স্বাক্ষরের নীচে ইংরেজিতে অরোরার পদবি ছিল-General Officer Commanding in Chief, India and Bangladesh Forces in the Eastern Theatre. এ শব্দটুকু দ্বারাই সবকিছু পরিষ্কার হয়ে যায়। এ প্রসঙ্গে জেনারেল ওসমানী বলেন “ আমি উপস্থিত থাকলেও আত্মসমর্পণ অনুষ্ঠানে আমার যাওয়ার প্রশ্নই ওঠে না। কারণ এই সশস্ত্র যুদ্ধ ভারত-বাংলাদেশের যৌথ কমান্ডের অধীনে হলেও যুদ্ধের অপারেটিং পার্টের পুরো কমান্ডে ছিলেন ভারতীয় সেনাপ্রধান লেফট্যানেন্ট জেনারেল স্যাম মানেকশ। আমি আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত কোনো নিয়মিত সেনাবাহিনীর সেনাপ্রধান নই। আত্মসমর্পণ অনুষ্ঠানে জেনারেল মানেকশকে রিপ্রেজেন্ট করেন লে. জে অরোরা। জেনারেল মানেকশ গেলে তাঁর সঙ্গে যাওয়ার প্রশ্ন উঠতো। সার্বভৌম সমতার ভিত্তিতে আমার অবস্থান জেনারেল মানেকশ এর সমান। সেখানে তাঁর অধীনস্থ আঞ্চলিক বাহিনীর প্রধান জেনারেল অরোরার সফরসঙ্গী আমি হতে পারি না। এটা দেমাগের কথা নয়। এটা প্রটোকলের ব্যাপার।
ওসমানী অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকলে সেনা প্রটোকল অনুযায়ী দলিলে তাঁর স্বাক্ষর করতে হতো। আত্মসমর্পণ সমঝোথায় এ বিষয়টি সুরাহা করা ছিল না বলে তিনি (ওসমানী) উপস্থিত ছিলেন না।

 

অস্থায়ী সরকারের সপথ অনুষ্ঠানে আম্রকানন সম্পর্কে অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি সৈয়দ নজরুল ইসলামের ঘোষণা-
১৭৫৭ সালের ২৩ জুন পলাশীর আম্র কাননের যুদ্ধে বাংলার স্বাধীনতা হারিয়েছিল। আজ ১৯৭১ সালের ১৭ এপ্রিল, সেই বাংলার আরেক আম্রকাননে সেই স্বাধীনতা ফিরে এলো এবং জন্ম নিল বাংলাদেশ।

 

মুক্তিযুদ্ধে সামরিক ও গেরিলা বাহিনী

মুক্তিযুদ্ধের সময় প্রবাসী সরকারের প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দিন আহমেদের নির্দেশে প্রধান সেনাপতি-এম.এ.জি ওসমানী সমগ্র দেশকে ১১টি সেক্টরে ভাগ করেন। পাশাপাশি রনাঙ্গনকে তিনটি বিগ্রেড ফোর্সে ভাগ করা হয় এবং ফোর্সের অধিনায়কদের নামের প্রথম অক্ষর দিয়ে ব্রিগেড ফোর্সের নামকরণ করা হয়। এছাড়া, ছাত্র ও যুবকদের নিয়ে Bangladesh Liberation Forces (BLF) বা মুজিব বাহিনী এবং ব্যক্তিগত উদ্যোগে গেরিলা বাহিনী গঠন করা হয়।

 

গেরিলা যুদ্ধ

সরাসরি সম্মুখ যুদ্ধে লিপ্ত না হয়ে শত্রæ পক্ষকে অতর্কিত আক্রমণ করে নিরাপদে পালিয়ে যাওয়া বা সরে পড়ার পদ্ধতিকে গেরিলা যুদ্ধ বলে।

 

বাঙ্গালি জাতি কেন ভাষা আন্দোলন করেছিল?

বাংলা ভাষা ও সংস্কৃতিকে টিকিয়ে রাখতে বাঙ্গালি জাতি ভাষা আন্দোলন করেছিল। পাকিস্তান সৃষ্টির সূচনাতেই বলা হয় উর্দুই হবে পাকিস্তানের একমাত্র রাষ্ট্রভাষা। এ কারণে বাঙ্গালি জাতি বাংলা ভাষাকে রক্ষা করার জন্য আন্দোলন করেছিল।

 

বঙ্গবন্ধু ৭ মার্চ ১৯৭১ সরাসরি স্বাধীনতার ঘোষণা দেননি কেন?

৭ মার্চ ১৯৭১ বঙ্গবন্ধুর স্বাধীনতার ঘোষণা দেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু তিনি যথাসময়ে জানতে পেরেছিলেন যে ক্যান্টনমেন্টে সেনা ও বিমান বাহিনীর সদস্যরা সশস্ত্র অবস্থায় রয়েছে। সেদিন বঙ্গবন্ধু যদি স্বাধীনতার ঘোষণা দিতেন তাহলে নির্বিচারে এখানে গণহত্যা চালানো হত। তাই তিনি বড় ধরনের নাশকতা এড়াতে প্রত্যক্ষভাবে না দিয়ে পরোক্ষভাবে স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছিলেন।

 

* ভবিষ্যৎ যুদ্ধকালীন বা অপারেশন কর্মকাণ্ডে  বীরত্ব ও সাহসিকতাপূর্ণ কাজের জন্য নতুন কয়টি উপাধি প্রবর্তন করা হয়েছে? 

ভবিষ্যৎ যুদ্ধকালীন বা অপারেশন কর্মকাণ্ডে  বীরত্ব ও সাহসিকতাপূর্ণ কাজের জন্য নতুন ৪টি উপাধি প্রবর্তন করা হয়েছে যেগুলো হলো-
১। বীর সর্বোত্তম       ২) বীর মৃত্যুঞ্জয়ী

৩) বীর চিরঞ্জীব এবং  ৪) বীর দুর্জয়।

 

মুক্তিযুদ্ধের ১১ টি সেক্টর এর বর্ণনা

সেক্টর নং ও সেক্টরভুক্ত এলাকা সেক্টর কমান্ডারদের নাম সেক্টরের বর্ণনা সাব-সেক্টর ও সাব-সেক্টর কমান্ডারদের নাম
সেক্টর নং ০১: চট্রগ্রাম, পার্বত্য চট্রগ্রাম ও ফেনী নদী পর্যমত্ম।

এ সেক্টরের হেড কোয়ার্টার ছিল হরিনাতে।

 

 

মেজর জিয়াউর রহমান (এপ্রিল-জুন)

ক্যাপ্টেন রফিকুল ইসলাম (জুন-ডিসেম্বর)

 

 

সেক্টর বাহিনী সদস্য সংখ্যা-২১০০ যার মধ্যে ১,৫০০ ইপিআর সদস্য, ২০০ পুলিশ, ৩০০ সেনা সদস্য এবং ১০০ নৌ ও বিমান বাহিনী সদস্য।

গেরিলা সংখ্যা-৮,০০০

এই বাহিনীর গেরিলাদের ১৩৭টি গ্রম্নপে দেশের অভ্যমত্মরে পাঠানো হত।

সাব-সেক্টরের সংখ্যা-৫

১.  শ্রীনগর (ক্যাপ্টেন মতিউর রহমান এবং পরে ক্যাপ্টেন মাহফুজুর রহমান);

২. ঋষিমুখ (ক্যাপ্টেন শামসুল ইসলাম);

৩. মনুঘাট (ক্যাপ্টেন মাহফুজুর রহমান);

৪. তবলছড়ি (সুবেদার আলী হোসেন); এবং

৫. ডিমাগিরী (জনৈক সুবেদার)

সেক্টর নং ০২: নোয়াখালী, কুমিলস্না, আখাউড়া, ভৈরব, ঢাকা ও ফরিদপুর জেলার অংশবিশেষ।

আগরতলার ২০ মাইল দক্ষিণে ছিল এ সেক্টরের সদরদপ্তর।

 

 

 

 

মেজর খালেদ মোশাররফ (এপ্রিল-সেপ্টেম্বর)

কাপ্টেন এ.টি.এম. হায়দার (সেপ্টেম্বর-ডিসেম্বর)

 

 

 

 

সেক্টর বাহিনী সদস্য সংখ্যা প্রায়-৬,০০০

গেরিলা সংখ্যা প্রায়-৩৫,০০০

 

 

 

 

 

 

 

সাব-সেক্টরের সংখ্যা-৬

১.  গঙ্গাসাগর, আখাউড়া ও কসবা (মাহবুব এবং পরে লেফটেন্যান্ট ফারম্নক ও লেফটেন্যান্ট হুমায়ুন কবীর)

২. মন্দভাব (ক্যাপ্টেন গাফফার)

৩. সালদা নদী (আবদুস সালেক চৌধুরী)

৪. মতিনগর  লেফটেন্যান্ট দিদারম্নল আলম)

৫. নির্ভয়পুর (ক্যাপ্টেন আকবর এবং পরে লেফটেন্যান্ট মাহবুব)

৬. রাজনগর (ক্যাপ্টেন জাফর ইমাম এবং পরে ক্যাপ্টেন শহীদ ও লেফটেন্যান্ট ইমামুজ্জামান)

সেক্টর নং ০৩: আখাউড়া-ভৈরব রেললাইন থেকে পূর্ব দিকে কুমিলস্না জেলা, ঢাকা জেলার অংশ বিশেষ এবং হবিগঞ্জ ও কিশোরগঞ্জ জেলা।

 

সেক্টরের সদর দপ্তর ছিল হেজামারা

 

 

 

 

 

মেজর কে.এম. শফিউললস্নাহ (এপ্রিল-সেপ্টেম্বর)

মেজর এ.এন.এম. নুরম্নজ্জামান (সেপ্টেম্বর-ডিসেম্বর)

 

 

 

 

 

 

 

সেক্টর বাহিনী সদস্য সংখ্যা-২,৫০০

গেরিলা সংখ্যা-৩০,০০০

এই সেক্টরের অধীনে ১৯টি গেরিলা ঘাঁটি গড়ে উঠেছিল।

 

 

 

 

 

 

 

 

সাব-সেক্টরের সংখ্যা-১০

১. আশ্রমবাড়ি (ক্যাপ্টেন আজিজ এবং পরে ক্যাপ্টেন এজাজ)

২. বাঘাইবাড়ি (ক্যাপ্টেন আজিজ এবং পরে ক্যাপ্টেন এজাজ)

৩. হাতকাটা (ক্যাপ্টেন মতিউর রহমান)

৪. সিমলা (ক্যাপ্টেন মতিন)

৫. পঞ্চবটি (ক্যাপ্টেন নাসিম)

৬. মনতলা (ক্যাপ্টেন এম. এস. এ ভূঁইয়া)

৭. বিজয়নগর (ক্যাপ্টেন এম. এস. এ ভূঁইয়া)

৮. কালাছড়া  লেফটেন্যান্ট মজুমদার)

৯. কলকলিয়া (লেফটেন্যান্ট গোলাম হেলাল মোরশেদ)

১০. বামুটিয়া (লেফটেন্যান্ট সাঈদ)

সেক্টর নং ০৪: সিলেট জেলার অংশবিশেষ (পূর্বের অংশ)

হেডকোয়ার্টার ছিল প্রথমে করিমগঞ্জ এবং পরে আসামের মাসিমপুরে।

 

 

 

মেজর সি.আর. দত্ত (চিত্ত রঞ্জন দত্ত)

 

 

 

 

 

 

সেক্টর বাহিনী সদস্য সংখ্যা-৪,০০০

গেরিলা সংখ্যা-৯,০০০

 

 

 

 

 

সাব-সেক্টরের সংখ্যা-৬

১. জামালপুর (মাসুদুর রব শাদী)

২. বড়পুঞ্জী (ক্যাপ্টেন এ. রব)

৩. আমলাসিদ  (লেফটেন্যান্ট জহির)

৪. কুকিতল (ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট কাদের এবং পরে ক্যাপ্টেন শরিফুল হক)

৫. কৈলাশ শহর (লেফটেন্যান্ট উয়াকিউজ্জামান) এবং

৬. কমলপুর (ক্যাপ্টেন এনাম)

সেক্টর নং ০৫: সিলেট জেলার অংশবিশেষ (পশ্চিম অংশ), সুনামগঞ্জ ও বৃহত্তর ময়মনসিংহের সীমামত্মবর্তী এলাকা।

হেডকোয়ার্টার ছিল বাঁশতলাতে

 

 

 

 

 

 

মেজর (পরবর্তীকালে লেঃ জেনারেল) মীর শওকত আলী

 

 

 

 

 

 

 

 

 

সেক্টর বাহিনী সদস্য সংখ্যা-৮০০

গেরিলা সংখ্যা-৫,০০০

 

 

 

 

 

 

 

 

 

সাব-সেক্টরের সংখ্যা-৬

১. মুক্তারপুর (সুবেদার নাজির হোসেন এবং সেকেন্ড ইন কমান্ড ছিলেন মুক্তিযোদ্ধা ফারম্নক)

২. ডাউকি (সুবেদার মেজর বি. আর. চৌধুরী)

৩. শেলা (ক্যাপ্টেন হেলাল; সহযোগী কমান্ডার লেফটেন্যান্ট মাহবুবর রহমান এবং লেফটেন্যান্ট আবদুর রউফ)

৪. ভোলাগঞ্জ (লেফটেন্যান্ট তাহেরউদ্দিন আকুঞ্জী; সহযোগী কমান্ডার লেফটেন্যান্ট এস. এম খালেদ

৫. বালাট (সুবেদার গনি এবং পরে ক্যাপ্টেন সালাউদ্দিন ও এনামুল হক চৌধুরী) এবং

৬. বড়ছড়া (ক্যাপ্টেন মুসলিম উদ্দিন)

সেক্টর নং ০৬: রংপুর ও ঠাকুরগাঁও জেলা

 

সেক্টরের হেডকোয়ার্টার ছিল পাটগ্রামের নিকটবর্তী বুড়িমারিতে। এটিই ছিল একমাত্র সেক্টর যার হেড কোয়ার্টার ছিল বাংলাদেশের অভ্যমত্মরে।

 

উইং কমান্ডার খাদেমুল বাশার

 

 

 

 

 

 

 

সেক্টর বাহিনী সদস্য সংখ্যা-২,০০০

গেরিলা সংখ্যা-৯,০০০

 

 

 

 

 

 

সাব-সেক্টরের সংখ্যা-৫

১. ভজনপুর (ক্যাপ্টেন নজরম্নল এবং পরে স্কোয়াড্রন লীডার সদরউদ্দিন ও ক্যাপ্টেন শাহরিয়ার)

২. পাটগ্রাম (প্রথমে কয়েকজন ই.পি.আর এর জুনিয়র কমিশন্ড অপিসার কমান্ড করেন। পরে ক্যাপ্টেন মতিউর রহমান এই সাব-সেক্টরের দায়িত্ব নেন।

৩. সাহেবগঞ্জ (ক্যাপ্টেন নওয়াজেশ উদ্দিন)

৪. মোগলহাট (ক্যাপ্টেন দেলওয়ার) এবং

৫. চিলাহাটি (ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট ইকবাল)

সেক্টর নং ০৭: পাবনা, বগুড়া, রাজশাহী এবং দিনাজপুর জেলার অংশবিশেষ।

এই সেক্টরের হেডকেয়ার্টার ছিল বালুরঘাটের নিকটবর্তী তরঙ্গপুরে।

 

 

 

 

 

মেজর নাজমুল হক (এপ্রিল-আগস্ট)

মেজর কাজী নুরম্নজ্জামান (সেপ্টেম্বর-ডিসেম্বর)

 

 

 

 

 

 

সেক্টর বাহিনী সদস্য সংখ্যা-২,৫০০

গেরিলা সংখ্যা-১২,৫০০

 

 

 

 

 

 

 

 

সাব-সেক্টরের সংখ্যা-৮

১. মালন (প্রথমে কয়েজন জুনিয়র অফিসার এবং পরে ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর)

২. তপন  (মেজর নাজমুল হক এবং পরে কয়েকজন জুনিয়র ই.পি.আর অফিসার)

৩. মেহেদীপুর (সুবেদার ইলিয়াস এবং পরে ক্যাপ্টেন মহিউদ্দীন জাহাঙ্গীর)

৪. হামজাপুর (ক্যাপ্টেন ইদ্রিস)

৫. আঙ্গিনাবাদ (একজন গণবাহিনীর সদস্য)

৬. শেখপাড়া (ক্যাপ্টেন রশীদ)

৭. ঠোকরাবাড়ি (সুবেদার মোয়াজ্জেম) এবং

৮. লালগোলা (ক্যাপ্টেন গিয়াসউদ্দিন চৌধুরী)

সেক্টর নং ০৮: কুষ্টিয়া, যশোর এবং ফরিদপুর ও খুলনা জেলার অংশবিশেষ। এই সেক্টরের হেডকেয়ার্টার ছিল কল্যানীতে।

 

 

 

 

 

মেজর আবু ওসমান চৌধুরী (এপ্রিল-আগস্ট)

মেজর এম. এ. মঞ্জুর (সেপ্টেম্বর-ডিসেম্বর)

 

 

 

 

 

সেক্টর বাহিনী সদস্য সংখ্যা-৩,০০০

গেরিলা সংখ্যা-২৫,০০০

 

 

 

 

 

 

 

সাব-সেক্টরের সংখ্যা-৭

১. বয়রা (ক্যাপ্টেন খন্দকার নাজমুল হুদা)

২. হাকিমপুর (ক্যাপ্টেন শফিকউলস্নাহ)

৩. ভোমরা (ক্যাপ্টেন সালাহউদ্দিন এবং পরে ক্যাপ্টেন শাহাবুদ্দিন)

৪. লালবাজার (ক্যাপ্টেন এ. আর. আযম চৌধুরী

৫. বানপুর (ক্যাপ্টেন মুসত্মাফিজুর রহমান)

৬. বেনাপোল (ক্যাপ্টেন আবদুল হালিম এবং পরে ক্যাপ্টেন তৌফিক-ই-এলাহী চৌধুরী)

৭. শিকারপুর (ক্যাপ্টেন তৌফিক-ই-এলাহী চৌধুরী এবং পরে লেফটেন্যান্ট জাহাঙ্গীর)

সেক্টর নং ০৯: বৃহত্তর বরিশাল, পটুয়াখালী এবং খুলনা ও সাতক্ষীরা জেলার অংশবিশেষ।

এই সেক্টরের হেডকেয়ার্টার ছিল বশিরহাটের নিকটবর্তী তাকিতে।

মেজর এম. এ. জলিল (১০ এপ্রিল-২৪ ডিসেম্বর) এবং মেজর জয়নুল আবেদীন (২৪ ডিসেম্বর ১৯৭১ থেকে–) সেক্টর বাহিনী সদস্য সংখ্যা-৭০০

গেরিলা সংখ্যা প্রায়-২০,০০০

 

 

 

সাব-সেক্টরের সংখ্যা-৩

১. তাকি

২. হিঞ্জালগঞ্জ

৩. শমসেরনগর

 

সেক্টর নং ১০: সমুদ্র উপকূলীয় অঞ্চল চট্রগ্রাম ও চালনা এবং অভ্যমত্মরীণ নৌপথ।

 

 

 

 

 

 

 

 

মুক্তিবাহিনীর ট্রেনিংপ্রাপ্ত নৌ-কমান্ডারগণ

(এই সেক্টর সরাসরি সেনা প্রধান দেখত)

এই সেক্টরে কোন আঞ্চলিক সীমানা ছিল না। নৌবাহিনীর কমান্ডোদের শত্রু পক্ষের নৌযান ধ্বংসের জন্য বিভিন্ন সেক্টরে পাঠানো হত।

 

মূলত ১০ নং সেক্টরে জন্য কোন এলাকা নির্দিষ্ট করা ছিল না। নৌ-কমান্ডো বাহিনী নিয়ে ১০নং সেক্টর গঠিত হয়। এই বাহিনী গঠনের উদ্যোক্তা ছিলেন ফ্রান্সে প্রশিÿণরত পাকিসত্মান নৌবাহিনীর আটজন বাঙ্গালি নৌ-কর্মকর্তা। তাঁরা হলেন-চীপ পেটি অফিসার গাজী মোহাম্মদ রহমতউলস্নাহ, পেটি অফিসার সৈয়দ মোশাররফ হোসেন, পেটি অফিসার আমিনউলস্নাহ শেখ, আহসানউলস্নাহ (এম.ই-১), এ. ডবিস্নউ চৌধুরী (আর. ও-১), বদিউল আলম (এম.ই-১), এ আর মিয়া (ই.এন-১) এবং আবেদুর রহমান (স্টুয়ার্ড-১)। এই আটজন বাঙ্গালি নাবিককে ভারতীয় নৌবাহিনীর ব্যবস্থাপনায় দিলিস্নর পাশ^র্বর্তী যমুনা নদীতে বিশেষ নৌ-প্রশিÿণ দেয়া হয়। এর পর পাকিসত্মান নৌবাহিনীর কিছুসংখ্যক বাঙ্গালি নৌ- সেনা এঁদের সাথে যোগ দেন। বিভিন্ন সেক্টর থেকে ১৫০ জন দÿ সাতারম্নকে বাছাই করে তাঁদের প্রশিÿণের জন্য ঐ ক্যাম্পে পাঠানো হয়। প্রশিÿণ শেষে আগস্টের প্রথম সপ্তাহে এঁদের চারটি দল চট্রগ্রাম, নারায়ণগঞ্জ, দাউদকান্দি ও মংলা বন্দরে পাঠানো হয়। এঁদের দায়িত্ব ছিল উপকূলে নোঙ্গর করা শত্রম্ন জাহাজ ধ্বংস করা। পাকিসত্মানের স্বাধীনতা দিবস তথা ১৪ আগস্ট এই চারটি দল একযোগে আক্রমণ চালিয়ে বেশ কিছুসংখ্যক পাকিসত্মানি জাহাজ ধ্বংস করে। পরবর্তীতে অক্টোবর ও নভেম্বর মাসে দেশের সকল বন্দরে অনুরূপ আরো কয়েকটি সফল অপারেশন চালায়। এক পর্যায়ে ভারতীয় কমান্ডার এম. এন সুমমত্ম এ বাহিনীর নেতৃত্ব দেন।
সেক্টর নং ১১: কিশোরগঞ্জ ব্যতীত সমগ্র সয়মনসিংহ অঞ্চল।

এই সেক্টরের হেডকেয়ার্টার ছিল মহেন্দ্রগঞ্জ

 

 

 

 

 

 

 

 

মেজর আবু তাহের (এপ্রিল-নভেম্বর)

স্কোয়াড্রন লীডার এম.হামিদুললস্নাহ (নভেম্বর-ডিসেম্বর)

 

 

 

 

 

 

 

 

সেক্টর বাহিনী সদস্য সংখ্যা-এক ব্যাটেলিয়ান (৮০০ জন)

গেরিলা সংখ্যা-২৫,০০০

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

সাব-সেক্টরের সংখ্যা-৮

১. মাইনকারচর (স্কোয়াড্রন লীডার এম.হামিদুললস্নাহ)

২. মহেন্দ্রগঞ্জ  (লেফটেন্যান্ট মিজান)

৩. পুরখাসিয়া (লেফটেন্যান্ট হাশেম)

৪. ঢালু  (লেফটেন্যান্ট তাহের আহমেদ এবং পরে লেফটেন্যান্ট কামাল)

৫. রাংরা (মতিউর রহমান)

৬. শিববাড়ি (ই.পি.আর-এর কয়েকজন অফিসার)

৭. বাগমারা (ই.পি.আর-এর কয়েকজন অফিসার)

৮. মহেশখোলা ( জনৈক ই. পি. আর সদস্য)

উৎস: বাংলা পিডিয়া

 

* টাঙ্গাইলের মুক্তিযোদ্ধা-কাদের সিদ্দিকী তাঁর জেলায় ১৬,০০০ গেরিলা যোদ্ধা সংগঠিত করেন এবং সম্পূর্ণ স্বাধীনভাবে

পাকিসত্মানের বিরম্নদ্ধে বেশ কয়েকটি সফল অভিযান পরিচালনা করেন।

 * মুক্তিযুদ্ধের সময় মোট ১৬ জন সেক্টর কমান্ডার বিভিন্ন সময় দায়িত্বরত ছিলেন।                                                     

 

জীবিত সেক্টর কমান্ডারগণের নামঃ ১) মেজর রফিকুল ইসলাম ২) কে. এম. শফিউলল্লাহ

 

*এক প্লাটুন = ১০০ সৈন্য (প্রধান-লেফট্যান্যান্ট) এক ব্যাটেলিয়ান = ৮০০ সৈন্য (লেঃ কর্ণেল)
*এক কোম্পানি = ২০০ সৈন্য (প্রধান-ক্যাপ্টেন/মেজর) এক রেজিম্যান্ট = ১৫০০ সৈন্য (কর্ণেল)
এক ব্রিগেড = ৩/৪ ব্যাটেলিয়ান (প্রধান-বিগ্রেডিয়ার) এক ডিভিশন = ৩ বা তদুর্ধ্ব ব্রিগেড সৈন্য (প্রধান-মেজর জেনারেল)
এক কোর = ৩/৪ ডিভিশন সৈন্য

 

 

মুক্তিযুদ্ধে ১২ নং সেক্টর!
মুক্তিযুদ্ধের সময় দীর্ঘ নয় মাস বেতার কেন্দ্র কেবল মুক্তিযোদ্ধাদের নয়, অবরুদ্ধ বাংলাদেশের মানুষকে বেঁচে থাকার ও লড়াই করার অনুপ্রেরণা যুগিয়েছিল। তাই অনেকে বেতার কেন্দ্রকে মুক্তিযুদ্ধে ১২ নং সেক্টর বলে অভিহিত করে থাকেন যদিও তা স্বীকৃত নয়।

মুক্তিযুদ্ধে ১৩ নং সেক্টর!

ভারতসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সিভিল সমাজ মুক্তিযুদ্ধের সময় প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে অসামান্য অবদান রেখেছিল যার ফলে আমাদের স্বাধীনতার পথ সুগম হয়েছিল। তাই এই সিভিল সমাজকে অনেকে ১৩ নং সেক্টর বলে অভিহিত করে থাকেন যদিও তা স্বীকৃত নয়।

 

অসমাপ্ত আত্মজীবনী

বঙ্গবন্ধু ১৯৬৬ থেকে ১৯৬৯ সাল পর্যন্ত কারাবন্দী থাকা অবস্থায় আত্মজীবনী লেখেন যা ২০১২ সালে ১৮ জুন ‘অসমাপ্ত আত্মজীবনী’ নামে প্রকাশিত হয়। বঙ্গবন্ধুর ‘অসমাপ্ত আত্মজীবনী’ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের অধ্যাপক ফখরুল আলম কর্তৃক ইংরেজিতে ‘Unfinished Memories’ নামে অনুবাদকৃত।

 

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা কর্তৃক রচিত কয়েকটি বই-
ক) ওরা টোকাই কেন (১৯৮৯) খ) দারিদ্র বিমোচন কিছু ভাবনা (১৯৯৩) গ) আমার স্বপ্ন, আমার সংগ্রাম (১৯৯৬) ঘ) Development for the Masses (২০০৩) ঙ) সবুজ মাঠ পেরিয়ে (২০১১) ইত্যাদি।

তুই রাজাকার:  তুই রাজাকার সংলাপটি সর্বপ্রথম শোনা যায় জনপ্রিয় ঔপন্যাসিক হুমায়ূন আহমেদ এর ‘বহুব্রীহি’ নাটকে। তিনি ঐ নাটকে একটি টিয়া পাখির দ্বারা ‘তুই রাজাকার’ শব্দগুচ্ছ বলিয়েছিলেন।

গণহত্যা
গণহত্যা বিষয়টি ব্যাখা করতে হলে শুধুমাত্র হত্যাই নয়, সেই সাথে আরো কিছু সংলিষ্ট বিষয় বিবেচনা করতে হয় যা জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে পাস করা হয়। সেগুলো হল-
১. পরিকল্পিতভাবে একটি জাতি বা গোষ্ঠীকে নির্মূল করার জন্য তাদের সদস্যদেরকে হত্যা বা নিশ্চিন্নকরণ;
২. একই উদ্দেশ্যে শারীরিক বা মানসিক ক্ষতিসাধন;
৩. একটি জাতি বা গোষ্ঠীকে নিমূল করার উদ্দেশ্যে এমন পরিবেশ সৃষ্টি করা যাতে তারা সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে নিশ্চিহ্ন হয়ে যায়;
৪. এমন পরিবেশ সৃষ্টি করা যাতে একটি জাতি বা গোষ্ঠীর জীবনধারণ কষ্টসাধ্য, সেই সাথে জন্ম প্রতিরোধ করে জীবনের চাকা থামিয়ে দেয়া হয়;
৫. একটি জাতি বা গোষ্ঠীর শিশু সদস্যদের অন্যত্র সরিয়ে নিয়ে তাদের জন্ম পরিচয় এবং জাতিস্বত্ত্বা মুছে ফেলা।

 

* ১৯৫৪ সালের নির্বাচন ছিল সা¤প্রদায়িক শক্তির বিরুদ্ধে আমলাতান্ত্রিক শক্তির বিজয়।

* ১৯৩৫ সালের ভারত শাসন আইন: ১৯৩৫ সালে ভারত শাসন আইনের মাধ্যমে ভারতবর্ষকে ১১টি প্রদেশে বিভক্ত করা হয়। তারমধ্যে ৭টি ভারত এবং ২টি পাকিস্তানের অন্তর্ভূক্ত হয়। বাকি দুটি বাংলা প্রদেশ এবং পাঞ্জাব নামে ভাগ হয়। এর মধ্যে পূর্ব বাংলা ও পূর্ব পাঞ্জাব পাকিস্তানের অন্তর্ভূক্ত হয় এবং পশ্চিম পাঞ্জাব ও পশ্চিম বাংলা ভারতের অন্তর্ভূক্ত হয়। ১৯৫৬ সালে বাংলার নাম পরিবর্তন করে ‘ইসলামী রিপাবলিক অব ইস্ট পাকিস্তান’ করা হয়। নাম পরিবর্তন করার কারণে বঙ্গবন্ধু সংবিধান বর্জন করেন বা স্বাক্ষর করেন নাই।

প্রবাসী/মুজিবনগর সরকার গঠনের উদ্দেশ্য:

* বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণা বাস্তবায়ন এবং আনুষ্ঠানিক ও সাংগঠনিক রূপ প্রদান করা।
* দক্ষ ও সফলভাবে মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনা করে দেশকে দ্রæত শত্রæ মুক্ত করা।
* মুক্তিযোদ্ধাদের সংগঠিত ও প্রশিক্ষণ প্রদান করা।
* বিশ্ব দরবারে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর নারকীয় হত্যাযজ্ঞ, ধবংসলীলা ও নির্যাতন এবং নিপীড়ন তুলে ধরা।
* যুদ্ধের পরিস্থিতি পর্যাবেক্ষণপূর্বক যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা।
* কূটনৈতিক তৎপরতা বৃদ্ধির মাধ্যমে বহিঃ বিশ্বের সমর্থন অর্জন করা। বলা বাহুল্য, উল্লেখিত সকল ক্ষেত্রেই
প্রবাসী সরকার শতভাগ সফল হয়েছিল।

 

বিগ্রেড ফোর্স ৩টির প্রধান ছিলেন তিনজন মেজর

Force Name K Force S Force Z Force
Head of the Force Khaled Mossarrof Sofiullah (K. M. Sofiullah) Ziaur Rahman

 

Bangladesh Liberation Forces (BLF) বা মুজিব বাহিনীর নেতৃত্বে ছিলেন-
১। তোফায়েল আহমেদ ২। শেখ ফজলুল হক মনি ৩। আব্দুর রাজ্জাক ৪। সিরাজুল ইসলাম খান

মাতৃভূমির স্বাধীনতা আদায়ের চূড়ান্ত লক্ষকে সামনে রেখে বঙ্গবন্ধু কর্তৃক ১৯৬২ সালে প্রতিষ্ঠিত BLF)-এর সশস্ত্র শাখা হচ্ছে মুজিব বাহিনী। মুজিব বাহিনীর সদস্য ছিল-১০,০০০ জন। স্বাধীনতা যুদ্ধকে সুসংগঠিত করার পাশাপাশি মুজিব বাহিনীর দায়িত্ব ছিল-যুদ্ধকালীন সময়ে চরমপন্থীদের কাছে যেন মুক্তিযুদ্ধের কর্তৃত্ব না যেতে পারে তা দেখে রাখা।

 

ব্যক্তিগত উদ্যোগে গঠিত গেরিলা বাহিনীর নাম ও জেলা

কাদেরীয়া বাহিনী-টাঙ্গাঈল রফিক বাহিনী-পিরোজপুর আকবর বাহিনী- ঝিনাইদহ
হেমায়েত বাহিনী-ফরিদপুর মেজর আফসার বাহিনী- ময়মনসিংহ লতিফ মির্জা বাহিনী বা যুব শিবির- সিরাজগঞ্জ

 

* ১৯৫৪ সালের নির্বাচন ছিল সাম্প্রদায়িক শক্তির বিরম্নদ্ধে আমলাতান্ত্রিক শক্তির বিজয়।

 

* ১৯৩৫ সালের ভারত শাসন আইন: ১৯৩৫ সালে ভারত শাসন আইনের মাধ্যমে ভারতবর্ষকে ১১টি প্রদেশে বিভক্ত করা হয়। তারমধ্যে ৭টি ভারত এবং ২টি পাকিস্তানের  অন্তর্ভূক্ত   হয়। বাকি দুটি বাংলা প্রদেশ এবং পাঞ্জাব নামে ভাগ হয়। এর মধ্যে পূর্ব বাংলা ও পূর্ব পাঞ্জাব পাকিসত্মানের অমত্মর্ভূক্ত হয় এবং পশ্চিম পাঞ্জাব ও পশ্চিম বাংলা ভারতের অন্তর্ভূক্ত  হয়। ১৯৫৬ সালে বাংলার নাম পরিবর্তন করে ‘ইসলামী রিপাবলিক অব ইস্ট পাকিস্তান’ করা হয়। নাম পরিবর্তন করার কারণে বঙ্গবন্ধু সংবিধান বর্জন করেন বা স্বাক্ষর করেন নাই।

প্রবাসী/মুজিবনগর সরকার গঠনের উদ্দেশ্য:

* বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণা বাস্তবায়ন এবং আনুষ্ঠানিক ও সাংগঠনিক রূপ প্রদান করা।

* দক্ষ ও সফলভাবে মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনা করে দেশকে দ্রুত শত্রু  মুক্ত করা।

* মুক্তিযোদ্ধাদের সংগঠিত ও প্রশিক্ষণ প্রদান করা।

* বিশ্ব দরবারে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর নারকীয় হত্যাযজ্ঞ, ধবংসলীলা ও নির্যাতন এবং নিপীড়ন তুলে ধরা।

* যুদ্ধের পরিস্থিতি পর্যাবেক্ষণপূর্বক যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা।

* কূটনৈতিক তৎপরতা বৃদ্ধির মাধ্যমে বহিঃ বিশ্বের সমর্থন অর্জন করা। বলা বাহুল্য, উল্লিখিত সকল ক্ষেত্রেই প্রবাসী সরকার শতভাগ সফল হয়েছিল।

 

বিগ্রেড ফোর্স ৩টির প্রধান ছিলেন তিনজন মেজর 

Force Name K Force S Force Z Force
Head of the Force Khaled Mossarrof Sofiullah (K. M. Sofiullah) Ziaur Rahman

 

Bangladesh Liberation Forces (BLF) বা মুজিব বাহিনীর নেতৃত্বে ছিলেন-

১। তোফায়েল আহমেদ

২। শেখ ফজলুল হক মনি

৩। আব্দুর রাজ্জাক

৪। সিরাজুল ইসলাম খান

 

মাতৃভূমির স্বাধীনতা আদায়ের চূড়ামত্ম লক্ষকে সামনে রেখে বঙ্গবন্ধু কর্তৃক ১৯৬২ সালে প্রতিষ্ঠিত BLF-এর সশস্ত্র শাখা হচ্ছে মুজিব বাহিনী। মুজিব বাহিনীর সদস্য ছিল-১০,০০০ জন। স্বাধীনতা যুদ্ধকে সুসংগঠিত করার পাশাপাশি মুজিব বাহিনীর দায়িত্ব ছিল-যুদ্ধকালীন সময়ে চরমপন্থীদের কাছে যেন মুক্তিযুদ্ধের কর্তৃত্ব না যেতে পারে তা দেখে রাখা।

 

ব্যক্তিগত উদ্যোগে গঠিত গেরিলা বাহিনীর নাম ও জেলা

কাদেরীয়া বাহিনী রফিক বাহিনী আকবর বাহিনী হেমায়েত বাহিনী মেজর আফসার বাহিনী লতিফ মির্জা বাহিনী বা যুব শিবির
টাঙ্গাঈল পিরোজপুর ঝিনাইদহ ফরিদপুর ময়মনসিংহ সিরাজগঞ্জ

 

প্রবাসী সরকারের সচিবালয়

পদবী নাম পদবী নাম
ক্যাবিনেট সচিব হোসেন তওফিক ইমাম (এইচ টি ইমাম) মুখ্য সচিব রুহুল কুদদুস
তথ্য সচিব আনোয়ারম্নল হক খান কৃষি সচিব নুরুদ্দীন আহম্মদ
অর্থ সচিব খন্দকার আসাদুজ্জামান প্রতিরক্ষা সচিব আব্দুস সামাদ
পররাষ্ট্র সচিব চাষী মাহবুল আলম সংস্থাপন সচিব নূরুল কাদের খান
বহিঃ বিশ্বে বিশেষ দূত বিচারপতি আবু সাঈদ চৌধুরী পুলিশ প্রধান আব্দুল খালেক

 

মুজিবনগর/প্রবাসী সরকারের সর্বদলীয় উপদেষ্টা কমিটি

 

প্রবাসী সরকারকে উপদেশ ও পরামর্শ প্রদানের জন্য ৯ সদস্যবিশিষ্ট একটি সর্বদলীয় উপদেষ্টা কমিটি গঠন করা হয়।

তারা হলেন-

ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি (ভাসানী)          ঃ মওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানী (উপদেষ্টা কমিটির প্রধান)

ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি (মোজাফফর)     ঃ অধ্যাপক মোজাফফর আহমেদ

কমিউনিস্ট পার্টি                              ঃ কমরেড মনি সিং

কংগ্রেস পার্টি                                  ঃ শ্রী মনোরঞ্জন ধর এবং

আওয়ামী লীগ                                ঃ ৫ জন প্রতিনিধি

মুজিবনগর/প্রবাসী সরকার

পদবী নাম পদবী নাম
রাষ্ট্রপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান পররাষ্ট্র মন্ত্রী খন্দকার মুসতাক আহমেদ
উপ-রাষ্ট্রপতি সৈয়দ নজরম্নল ইসলাম (অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি) সেনাবাহিনী প্রধান কর্ণেল (অব:) এম.এ.জি. ওসমানী
প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দিন আহমেদ সেনাবাহিনী উপ-প্রধান কর্ণেল (অব:) এ রব
অর্থমন্ত্রী কাপ্টেন এম মনসুর আলী বিমান বাহিনী প্রধান গ্রম্নপ ক্যাপ্টেন এ.কে.খন্দকার (আব্দুল করিম খন্দকার)
স্বরাষ্ট্র, ত্রাণ ও পুনর্বাসন মন্ত্রী এ. এইচ. এম কামরম্নজ্জামান

 

উপদেষ্টা কমিটি ছাড়াও অন্য ৪ জনকে বিশেষ দায়িত্ব দেওয়া হয়

 

তথ্য, বেতার ও প্রচার    ঃ আব্দুল মান্নান এম. এন. এ

সাহায্য ও পুনর্বাসন       ঃ অধ্যাপক ইউসুফ আলী এম. এন. এ

ভলেন্টিয়ার কোর           ঃ ব্যারিস্টার আমিরম্নল ইসলাম এম. এন. এ

বাণিজ্য বিষয়ক             ঃ মতিউর রহমান এম. এন. এ

 

যে সকল বিদেশী ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের কাছে আমরা চির ঋণী: মহান মুক্তিযুদ্ধে যে সকল বিদেশী নাগরিক প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে আমাদের স্বাধীনতা যুদ্ধে অবদান রেখেছিলেন তাঁরা হলেন-

 

ভারতের- ১) ইন্দিরা গান্ধী ২) পণ্ডিত রবি শংকর ৩) ওসত্মাদ আলী আকবর খাঁ ৪) মাদার তেরেসা ৫) সুনীল দত্ত ৬) গৌরী প্রসন্ন মজুমদার ৭) অন্নদা শংকর রায় ৮) অরুন্ধতী ঘোষ ৯) ভূপেন হাজারিকা ১০) ডাঃ রথীন দত্ত ১১) জ্যোতি বসু প্রমুখ।

রাশিয়ার- অ্যাডমিরাল জুয়েনকো ও তার দল এবং নিকোলাই ভিক্টোরোভিচ

যুক্তরাষ্ট্রের- ১) সিনেটর এডওয়ার্ড মুর কেনেডি ২) রিচার্ড টেইলর ৩) লিয়ার লেভিন

যুক্তরাজ্যের- ১) সায়মন ড্রিং ২) জর্জ হ্যারিসন ৩) মার্ক টালি

যুগোশস্নাভিয়ার-মার্শাল জোসেফ টিটো ইতালির-ফাদার মারিও ভেরোঞ্চি জাপানের-কাতামাসা সুজুকি

নেপালের-বিপি কৈরালা কিউবার– ফিদেল কাস্ত্রো আর্জেটিনার– ১) ভিক্টোরিয়া ওকাম্পো ২) হোই লুইস বোর্হেস

ভুটানের– জিগমে দর্জি ওয়াংচুক শ্রীলংকার-স্যার সেনারত্ন গুণবর্ধন অস্ট্রেলিয়ার-উইলিয়াম এ.এস. ওডারল্যান্ড

 

মহান মুক্তিযুদ্ধে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের অবদানঃ

 

UNHCR(United Nations High Commission for Refugees): এই সংস্থা মুক্তিযুদ্ধের সময় ১ কোটি শরণার্থীকে যুদ্ধকালীন খাবার, চিকিৎসা এবং ওষধ সরবরাহ করেছিল।

 

BBC (British Broad Casting Corporation): যুদ্ধকালীন সময়ে পাকিসত্মান হানাদার বাহিনীর বর্বরতা ও নিষ্ঠুরতা বিশ্বের কাছে তুলে ধরত।

 

আকাশবাণী: মুক্তিযুদ্ধকালীন সময়ে বিভিন্ন চেতনামূলক অনুষ্ঠান প্রচারের মাধ্যমে মুক্তিযোদ্ধাদের অনুপ্রাণিত করার পাশাপাশি যুদ্ধকালীন বিভিন্ন সংবাদ বিশ্বের সামনে তুলে ধরত।

ICRC (International Committee of the Red Cross): রেডক্রস শরণার্থী শিবিরে ত্রাণ বিতরণ ছাড়াও অন্তঃস্বত্ত্বা, দুগ্ধপোষ্য শিশু এবং বৃদ্ধদের মাঝে খাবার বিতরণ ও চিকিৎসা সেবা দিয়ে সহায়তা করত।

 

রমেশ চন্দ্র ও বিশ্বশামিত্ম পরিষদ: মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে আর্ন্ত জাতিক জনমত গঠন বিশেষত সমাজতান্ত্রিক বিশ্বের দৃষ্টি আকর্ষণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

কলিকাতা বিশ্ববিদ্যালয় সহায়ক সমিতি এবং অক্সফার্ম

 

সংক্ষেপে পূর্ব পাকিসত্মান এবং পশ্চিম পাকিস্তানের বৈষম্যের কিছু তুলনামূলক চিত্র:

 

১৯৪৮-১৯৬০ সাল পর্যমত্ম বৈদেশিক মুদ্রার ৭০% যোগান আসত পূর্ব পাকিস্তানের রপ্তানি থেকে। কিন্তু পুরো পাকিসত্মানের আমদানির মাত্র ২৫ ভাগ ছিল পূর্ব পাকিস্তানের জন্য আর বাকী অংশ ছিল পশ্চিম পাকিস্তানের জন্য। নতুন ভারী শিল্পের ৭৫% গড়ে তোলা হয় পশ্চিম পাকিস্তানে। বাজেটের জন্য ১৯৪৮-১৯৬০ সালে মোট বরাদ্দ ছিল ১০০০ (এক হাজার) মিলিয়ন রুপী, যার মাত্র ৩০০ মিলিয়ন বরাদ্দ ছিল পূর্ব পাকিস্তানের জন্য।

 

১৯৫৬ সালের হিসেবে পাকিস্তান সামরিক বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা (মেজর থেকে লে: জেনারেল) ছিলেন ৮৯০ জন, যার মাত্র ১৪ জন ছিলেন বাঙ্গালি। এই ১৪ জনের মধ্যে সর্বোচ্চ ব্রিগেডিয়ার পদে ছিলেন একজন কর্মকর্তা।

নৌবাহিনীর ৫৯৩ জনের মধ্যে ৭ জন ছিলেন বাঙ্গালি। বিমান বাহিনীতে এই অবস্থা কিছুটা ভাল হলেও সেখানে ছিলেন ৬৪০ জনের মধ্যে ৪০ জন বাঙ্গালি। ১৯৬০ সালে এ অবস্থার কিছু উন্নতি হলেও সামগ্রিক হিসেবে তা ছিল খুবই নগন্য। ১৯৬৫ সালে পাকিসত্মান সামরিক বাহিনীর একটা ক্ষুদ্র অংশ ছিল বাঙ্গালিরা (সেনা বাহিনীর ৬%, নৌ বাহিনীর ১৫% এবং বিমানবাহিনীর ১৬% সদস্য)।

নিরাপত্তার ব্যাপারে বলতে গেলে বলা যায় যে, পূর্ব পাকিসত্মান ছিল সম্পূর্ণভাবে অরক্ষিত। প্রমাণ হিসেবে বলা যায়, ১৯৬৫ সালের পাক-ভারত যুদ্ধের সময় পূর্ব পাকিসত্মানে মাত্র একটি খর্ব শক্তির পদাথিক ডিভিশন ছিল আর ছিল মাত্র ১৫টি যুদ্ধ বিমান।

একইভাবে কেন্দ্রীয় সরকারের আমলাদের ৮০% এর বেশি ছিলেন পশ্চিমা। ১৯৬৯ সালে ২০ জন পূর্ণ সচিবের মধ্যে মাত্র ০৩ (তিন) জন ছিলেন বাঙ্গালি। সকল ক্ষেত্রেই বৈষম্যের চিত্রটা ছিল এমনই।

 

বিবিধ ৭১

* পাক সেনানায়ক হিসাবে সর্বপ্রথম মেজর জেনারেল জামশেদ আত্মসমার্পণ করেন।

* ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ বৃহস্পতিবার, ২৬ মার্চ শুক্রবার এবং ১৬ ডিসেম্বর বৃহস্পতিবার ছিল।

* মুজিবনগর সরকারকে গার্ড অব অনার প্রদান করে EPR.

* মুক্তিযুদ্ধের স্মারক ভাস্কর্য ‘প্রথম সশস্ত্র প্রতিরোধ’ ঝিনাইদহের বিষখালীতে অবস্থিত।

* স্বাধীনতার পর বাংলাদেশ সর্বপ্রথম কমনওয়েলথ এর সদস্যপদ লাভ করে ১৯৭২ সালের ১৮ এপ্রিল।

* স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র থেকে প্রচারিত চরমপত্রের পাঠক ছিলেন-এম আর আক্তার মুকুল।

* মুক্তিযুদ্ধের সময় প্রায় ১ লক্ষ ৩০ হাজার বাঙ্গালি ভারতে ট্রেনিং গ্রহণ করেছিল।

* মুক্তিযুদ্ধের সময় শরনার্থী শিবিরে ৬ মাসে ভারতের মোট ব্যয় হয়েছিল ৪৩ কোটি টাকা।

* মুক্তিযুদ্ধের সময় মওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানী উপদেষ্টা কমিটির প্রধান ছিলেন।

* মশিউর রহমান যদু মিয়া মওলানা ভাসানীর ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টির (ন্যাপ) সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। ইয়াহিয়ার সাথে

সুসম্পর্ক থাকায় তাকে ন্যাপ থেকে বহিস্কার করা হয়।

* সাপ্তাহিক বাংলার বাণী পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন যুবলীগের প্রতিষ্ঠাতা শেখ ফজলুল হক মনি।

* মুক্তিযুদ্ধের আগে আওয়ামী লীগের মুখপাত্র ছিল ইত্তেফাক এবং মুক্তিযুদ্ধের সময় ছিল বাংলার বাণী।

* মুক্তিযুদ্ধের সময়

 

যুক্তরাষ্ট্রের

প্রেসিডেন্ট পররাষ্টমন্ত্রী সোভিয়েত ইউনিয়নের রাষ্ট্র প্রধান প্রধানমন্ত্রী
রিচার্ড নিক্সন হেনরি কিসিঞ্জার নিকোলাই পোদগর্ন কে সি গিন

 

WB IMF এর প্রতিনিধি দলের যুদ্ধপরিস্থিতি সম্পর্কে মন্তব্য

পিটার কারচিলির নেতৃত্বে প্রতিনিধি দল ১৯৭১ সালের জুনের প্রথম সপ্তাহ থেকে আড়াই সপ্তাহব্যাপী সফর শেষে রিপোর্ট করেন যে-

‘‘পূর্ব বাংলার অবসত্মা দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের জার্মান নগরীর ধ্বংসাবশেষ এবং আনবিক বোমা বর্ষণের পরবর্তী সকালের জাপানের কথা মনে করিয়ে দেয়’’

 

* স্বাধীনতা সম্মাননা

প্রথম পর্ব  : ২৫ জুলাই ২০১১ ভারতের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীকে স্বাধীনতা সম্মাননা (সর্বোচ্চ সম্মান) দেওয়া হয়। তাঁর পক্ষে সম্মাননা গ্রহণ করেন সোনিয়া গান্ধী।

দ্বিতীয় পর্ব            : ২৭ মার্চ, ২০১২ সালে ৮৩ জনকে।

তৃতীয় পর্ব            : ২০ অক্টোবর, ২০১২ সালে ৬১ জনকে।

৪র্থ পর্ব    : ১৫ ডিসেম্বর, ২০১২ সালে ৬০ জনকে।

৫ম পর্ব    : ৪ মার্চ, ২০১৩ সালে ভারতের রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখার্জিকে।

৬ষ্ঠ পর্ব   : ২৪ মার্চ, ২০১৩ সালে ৬৮ জন এবং একটি প্রতিষ্ঠানকে স্বাধীনতা সম্মাননা প্রদান করা হয়।

 

* দালাল আইন: ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে পাকিস্তানীদের সাথে যারা collaborate করেছিল তাদের বিচারের জন্য যে আইন করা হয় তাকে দালাল আইন বলে।

* ২৪ জানুয়ারি ১৯৭২ সালে যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের জন্য শেখ মুজিবুর রহমান কর্তৃক ‘‘বিশেষ ট্রাইব্যুনাল’’ (দালাল আইন) আদেশ জারি করা হয়।

* দালাল আইনে বিচারের জন্য ৭৩টি ট্রাইব্যুনাল গঠন করা হয়।

* দালাল আইনে প্রায় ৩৭,০০০ জনকে গ্রেফতার করা হয়।

* ৩০ নভেম্বর ১৯৭৩ সালে দালাল আইনে আটক যাদের বিরম্নদ্ধে যুদ্ধাপরাধের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ নেই তাদের সরকার সাধারণ ক্ষমা ঘোষণা করে।

* সাধারণ ক্ষমার আওতায় আসেনি তারা- যারা নরহত্যা, নারীধর্ষণ, অগ্নিসংযোগ এবং লুটপাটের সাথে জড়িত ছিল। এরূপ যুদ্ধাপরাধীর সংখ্যা ছিল প্রায়-১১,০০০ জন।

* ১৯৭২ সালে গঠিত ট্রাইব্যুনালে ২৮৩৮টি মামলার নিষ্পত্তি হয়েছিল। রায় এ ৭৫২ জনের বিরুদ্ধে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা হয়েছিল।

* ৩১ ডিসেম্বর ১৯৭৫ সালে বিচারপতি এ এস এম সায়েম এবং জিয়াউর রহমানের সামরিক সরকার দালাল আইন তুলে নেয়। ফলে ১১,০০০ যুদ্ধাপরাধী মুক্ত হয়ে যায়।

* ১৯ জানুয়ারি ১৯৯২ সালে দেশের একশ জন বরেণ্য নাগরিক কর্তৃক স্বাক্ষরিত ঘোষণার মাধ্যমে ঘাতক-দালাল নিমূল কমিটি গঠিত হয়।

* ঘাতক-দালাল নিমূল কমিটির উদ্যোক্তা ছিলেন ৭ নং সেক্টর কমান্ডার লে. কর্ণেল (অব.) কাজী নুরুজ্জামান, লেখক শাহরিয়ার কবীর এবং জাহানারা ইমাম।

* ২৬ মার্চ, ১৯৯২ সালে ঢাকার সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে গণ-আদালতে গোলাম আযমের প্রতীকি বিচার অনুষ্ঠিত হয়।

* গোলাম আযমের প্রতীকি বিচার করার কারণে জাহানারা ইমামসহ ২৪ জনের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহিতার মামলা করা হয়।

* ২৯ জানুয়ারি, ২০০৯ সালে জাতীয় সংসদ যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের জন্য প্রসত্মাব পাশ হয়।

* ২৫ মার্চ, ২০১০ সালে পুরাতন হাইকোর্ট ভবনে “International Criminal Tribunal (ICT)” গঠন করা হয়।

* ৭ নভেম্বর স্বঘোষিত প্রেসিডেন্ট মোস্তাক আহমেদ অর্ডিনেন্স জারি করে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের হত্যার বিচার বন্ধ করে। পরবর্তীতে জিয়াউর রহমান সেই অর্ডিনেন্সকে সংবিধান সংশোধনের মাধ্যমে সংবিধানে অমত্মর্ভূক্ত করে। সরকারী পর্যায়ে হত্যাকাণ্ডের কোন তদন্ত পর্যন্ত  হয়নি।

* দেশের তিন সূর্য সমত্মান খালেদ মোশারফ বীর উত্তম, এটি এম হায়দার বীর উত্তম এবং নাজমুল হুদা বীর বিক্রমকে আটক অবস্থায় হত্যা করা হয়।

* ১৯৪০ সালের লাহোর প্রস্তাব হচ্ছে ছয় দফার ভিত্তি।

* ১৯৪০ সালের লাহোর প্রস্তাবে বলা হয় যে,পাকিস্তান হবে যুক্তরাজ্য বা ফেডারেল স্টেট। ভারতের উত্তর, পূর্ব এবং পশ্চিমের মুসলিম অধ্যুষিত এলাকা নিয়ে পাকিস্তান রাষ্ট্র গঠিত হবে।

* লাহোর প্রস্তাবের ভিত্তিতে কি পাকিস্তানের জন্ম হয়েছিল?

না। ১৯৪৬ সালে মো: আলী জিন্নাহ, শের-এ-বাংলার উত্থাপিত লাহোর প্রস্তাব পরিবর্তন করেন। তিনি যুক্তরাজ্যের পরিবর্তে এককেন্দ্রিক রাষ্ট্র গঠনের সিদ্ধামত্ম গ্রহণ করেন।

 

সত্য মামলা আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা

পূর্ব পাকিস্তান তথা বাংলাদেশকে স্বাধীন করার মানসে পাকিস্তান নৌবাহিনীতে কর্মরত তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের কিছু কর্মকর্তা সামরিক সহযোগিতার জন্য গোপন বার্তায় ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থার সাথে যোগাযোগ করে। এই ম্যাসেজ পাওয়ার দীর্ঘ দুই বছর পরে ভারতীয় সেনাবাহিনী অতি গোপনে পূর্ব পাকিস্তানের সেই সকল সেনা কর্মকর্তাকে জানিয়ে দেওয়া হয় যে, এ বিষয়ে যোগাযোগ  রক্ষার জন্য ব্রিগেডিয়ার ‘দে’-কে মনোনীত করে আগরতলায় ন্যস্ত করা হল এবং কোন অফিসার যেন ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থার সাথে এ বিষয়ে যোগাযোগ রক্ষা করে। তারা আরো জানায় যে, রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা ছাড়া এ পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা সম্ভব হবে না। তাই এ পরিকল্পনাকে সার্থক রূপদান করতে আওয়ামী লীগ ও দলের প্রধান বঙ্গবন্ধুকে আগরতলা যেয়ে যোগাযোগ করতে বলা হয়েছিল। এ ম্যাসেজ পাওয়ার পর বঙ্গবন্ধু জানান যে, যুদ্ধের সময় এখনো আসেনি; ধাপে ধাপে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে স্বাধীনতার স্বপ্নকে বাসত্মবায়ন করতে হবে। তিনি (বঙ্গবন্ধু) আরো জানান যে, দলীয় প্রধান হিসেবে তাঁর দেশের বাইরে তথা আগরতলা যেয়ে ভারতীয় প্রতিনিধিদের সাথে যোগাযোগ করা সম্ভম নয়। প্ররোজন হলে ভারতের সাথে যোগাযোগ করা হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন। পরবর্তীতে এই পরিকল্পনা ফাস হয়ে যায় এবং বঙ্গবন্ধুসহ ৩৫ জনকে আসামী করে আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা দায়ের করে তৎকালীন পাকিস্তানী সরকার।

 

আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলাটির সরকারি নামকরণ কি করা হয়েছিল?

আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলাটির সরকারি নামকরণ করা হয়েছিল-‘রাষ্ট্র বনাম শেখ মুজিবুর রহমান ও অন্যান্যদের বিচার’।

 

* আগরতলা ষড়যন্ত্র (পরিকল্পনা): ইতিহাসে পশ্চিম পাকিসত্মানিদের কাছে যা আগরতলা ষড়যন্ত্র তা-ই পূর্ব পাকিসত্মানিদের কাছে আগরতলা পরিকল্পনা। ১৯৬৭ সালের সেপ্টেম্বর মাসে আওয়ামীল লীগ নেতা আলী রেজা, ISI এর ব্রিগেডিয়ার মেনন এবং মেজর মিশ্র এর সাথে যে বৈঠক হয়েছিল তাকে আগরতলা ষড়যন্ত্র/পরিকল্পনা বলে।

 

* আগরতলার ষড়যন্ত্রের বৈঠক কেন আগরতলায় করা হয়?

আওয়ামী লীগ ও সামরিক বাহিনীর ২৫০ জন সদস্য অতি গোপনে স্বাধীনতার পরিকল্পনা করেন। এই পরিকল্পনা অনুযায়ী ১৮ ফেব্রম্নয়ারি ১৯৬৮ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করা হবে বলে সিদ্ধামত্ম গৃহিত হয়। বাংলাদেশ স্বাধীনতা ঘোষণা করলে যু্দ্ধ অনিবার্য। এই যুদ্ধে ভারতের কাছ থেকে সহায়তা পাওয়ার লক্ষ্যে এবং নিরাপত্তার খাতিরে বৈঠকটি আগরতলায় অনুষ্ঠিত হয়।

* ১৯৬৮ সালের ১৮ ফেব্রম্নয়ারি কেন স্বাধীনতার পরিকল্পনা করা হয়?

কারণ, ১৯৬৮ সালের ১৮ ফেব্রম্নয়ারি পাকিসত্মানের সেনাপ্রধান ‘‘জেনারেল মুসা’’ চট্রগ্রামে একটি অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করার কথা ছিল। এই তারিখে ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের ২০-তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী ছিল এবং ১৯৬৫ সালের পাক-ভারত যুদ্ধে অংশ নেওয়া সৈনিকদের গ্যালান্টি পদক দেওয়ার দিন ধার্য ছিল।

* আগরতলায় ভারতের নিকট কি কি সহযোগিতা চাওয়া হয়?

ক) ৭২ ঘন্টার জন্য আরব সাগরে গানশীপ আটকিয়ে রাখা এবং খ) ৭২ ঘন্টার জন্য পাকিসত্মানের যু্দ্ধ বিমান আটকিয়ে দেওয়া।

 

* ৭২ ঘন্টা সময় চাওয়ার কারণ কি ছিল?

এই সময়ের মধ্যে সোভিয়েত ইউনিয়ন, বলকান অঞ্চলের সমাজতান্ত্রিক দেশসমূহ এবং ভারতের স্বীকৃতি পাওয়া যাবে। ফলে বাংলার স্বাধীনতা অক্ষুণ্ণ রাখা সম্ভব হবে।

* আগরতলার এই পরিকল্পনা কে বা কারা ফাঁস করে দেয়?

* সালের অক্টোবর মাসে আমির হোসেন ৬৮ পৃষ্ঠায় সকল তথ্য উপাত্ত দিয়ে গোয়েন্দাদের নিকট পরিকল্পনা ফাঁস করে দেয়।

* আগরতলা ষড়যন্ত্রের জন্য কখন শেখ মুজিবকে গ্রেফতার করা হয়?

১৯৬৮ সালের ১৮ ফেব্রম্নয়ারি ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে শেখ মুজিবুর রহমান মুক্ত হওয়ার পর জেলগেট থেকেই তাঁকে আবার গ্রেফতার করা হয়।

* আগরতলা ষড়যন্ত্রের জন্য ১৯৬৮ সালের ১১ এপ্রিল ‘‘রাষ্ট্র বনাব শেখ মুজিবুর রহমান ও অন্যান্য’’ শিরোনামে রাষ্ট্রদ্রোহিতার মামলা করা হয়।

* আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলার আসামী করা হয় শেখ মুজিবসহ মোট ৩৫ জনকে।

* ২২ ফেব্রুয়ারি ১৯৬৯ সালে আগরতলা মামলা প্রত্যাহার করা হয়।

* আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলার বিচারক ছিলেন তিন জন।

ক) চেয়ারম্যান-এস এ রহমান (পাঞ্জাব)

খ) সদস্য-     মোকছুমুল হাকিম (খুলনা) এবং

গ) সদস্য-     মুজিবুর রহমান (সিলেট)

* ১৫ ফেব্রুয়ারি ১৯৬৯ সালে ঢাকা ক্যান্টনমেন্ট এ সার্জেন্ট জহুরুল হককে এবং ১৮ ফেব্রুয়ারি ১৯৬৯ সালে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ড. শামসুজ্জোহাকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়।

* ২৪ মার্চ ১৯৬৯ সালে আইয়ুব খান পদত্যাগ করলে ইয়াহিয়া খান প্রেসিডেন্ট হন।

 

* লিগ্যাল ফ্রেম ওয়ার্ক অর্ডার: ১৯৭০ সালের মার্চ মাসে ইয়াহিয়া খান পাকিসত্মান জাতীয় পরিষদের নির্বাচন ঘোষণা করেন। এই নির্বাচনের বিধি-বিধানকে ‘‘লিগ্যাল ফ্রেম ওয়ার্ক অর্ডার’’ বলে।

* ০৭ ডিসেম্বর ১৯৭০ সালে জাতীয় পরিষদ এবং ১৭ ডিসেম্বর ১৯৭০ সালে প্রাদেশিক পরিষদের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।

* জাতীয় পরিষদে মোট আসন ছিল ৩১৩টি এর মধ্যে নির্বাচনী আসন ৩০০ টি এবং সংরক্ষিত আসন ১৩টি।

* দুই পাকিসত্মানের মধ্যে জনসংখ্যার ভিত্তিতে আসন বন্টিত হয়। জনসংখ্যা বেশি হওয়ায় পূর্ব পাকিসত্মান পায় ১৬৯টি (এর মধ্যে নির্বাচিত ১৬২টি এবং সংরক্ষিত ৭টি) এবং পশ্চিম পাকিসত্মান পায় ১৪৪টি (এর মধ্যে নির্বাচিত ১৩৮টি এবং সংরক্ষিত ৬টি)।

* ১৯৭০ সালের সাধারণ নির্বাচনে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ পূর্ব পাকিসত্মানের ১৬০ টি আসনে জয়লাভ করে। ফলে সংরক্ষিত ০৭ টি আসনও আওয়ামী লীগ পায়। অর্থাৎ ১৬৯ আসনে মধ্যে ১৬৭টি আসন লাভ করে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা লাভ করে।

* আওয়ামী লীগ ১৯৭০ সালের সাধারণ নির্বাচনে পূর্ব পাকিসত্মানের ১৬৯টি আসনের মধ্যে ১৬৭টি আসন লাভ করে। যে দুটি আসনে পরাজিত হয় সেই দুটি আসন হচ্ছে-ময়মনসিংহ এর নান্দাইল (নুরম্নল আমিন) এবং পার্বত্য চট্রগ্রাম (ত্রিদিব রায়)।

* জাতীয় পরিষদ নির্বাচনের উদ্দেশ্য ছিল-জাতীয় পরিষদ গঠন করে পাকিসত্মানের সংবিধান রচনা করা।

* শেখ মুজিব ০৩ জানুয়ারি ১৯৭১ সালে রেসক্রস ময়দানে আওয়ামী লীগ এর নির্বাচিত প্রতিনিধিদের শপত পড়ান।

* ০৪ জানুয়ারি ১৯৬৯ সালে আওয়ামী লীগ, ছাত্র ইউনিয়ন (মতিয়া) এবং ছাত্র ইউনিয়ন (মেনন) এর সমন্বয়ে আন্দোলন কমিটি গঠন করা হয়। এই আন্দোলন কমিটি হতে ১১ দফা ঘোষিত হয়।

* মার্চ ৭১ গুরুত্বপূর্ণ কেন? ১৯৭১ সালের মার্চ মাস বাঙ্গালি জাতির স্বাধীনতা সংগ্রাম ও স্বাধীনতা অর্জনের যুগসন্ধিক্ষণ।

 

* স্বাধীনতার ঘোষণা: স্বাধীনতার ঘোষণা বলতে একটি জাতি চুড়ামত্ম আত্ম-নিয়ন্ত্রনাধিকার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে যে ঘোষণা দেয় তাকে স্বাধীনতার ঘোষণা বলে।

* পৃথিবীর ইতিহাসে যুক্তরাষ্ট্র ও বাংলাদেশ এই দুটি রাষ্ট্র স্বাধীনতার ঘোষণার মাধ্যমে স্বাধীন হয়।

* ০৪ জুলাই ১৯৭৬ সালে টমাস জেফারসন যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতা ঘোষণা করেন।

* ২৬ মার্চ ১৯৭১ সালে চৌধুরী বেলাল মোহাম্মদের নেতৃত্বে চট্রগ্রামের কালুরঘাটে স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র প্রতিষ্ঠিত হয়। আবুল কাশেম সন্দিপ স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের প্রথম কন্ঠ দেন।

 

* জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বাধীনতার ঘোষণা বর্ণনা করুন।

“This may be my last message, from today Bangladesh is independent. I call upon the people of Bangladesh wherever you might be and with whatever you have, to resist the army of occupation to the last. Your fight must go on until the last soldier of the Pakistan occupation army is expelled from the soil of Bangladesh and final victory is achieved.

Sheik Mujibur Rahman

26 March, 1971”

অনুবাদ: ‘‘ইহাই হয়ত আমার শেষ বার্তা, আজ হতে বাংলাদেশ স্বাধীন। আমি বাংলাদেশের জনঘৎগণকে আহবান জানাইতেছি যে, যে যেখানে আছ, যাহার যা কিছু আছে তাই নিয়ে রুখে দাঁড়াও সর্বশক্তি দিয়ে হানাদার বাহিনীকে প্রতিরোধ কক। পাকিসত্মানী দখলদার বাহিনীর শেষ সৈন্যটিকে বাংলার মাটি হইহে বিতাড়িত না করা পযমত্ম এবং চূড়ামত্ম বিজয় অর্জন না করা পযমত্ম লড়াই চালিয়ে যাও।

শেখ মুজিবুর রহমান

২৬ মার্চ ১৯৭১’’

* শেখ রাসেলের জন্মদিন ১৮ অক্টোবর, ১৯৬৬।

* প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জন্মদিন ২৮ সেপ্টেম্বর, ১৯৪৭।

* ‘‘যতদিন রবে পদ্মা, মেঘনা, যমুনা, গৌরী বহমান তত দিন রবে কীর্তি তোমার শেখ মুজিবুর রহমান’’-লিখেছেন অন্যদাশঙ্কর রায়।

* অতুল প্রসাদ সেনের একটি জনপ্রিয় কবিতার লাইন হচ্ছে-‘‘মোদের গরব মোদের আশা আমরি বাংলা ভাষা।’’

* মুক্তিযুদ্ধের সময় সচিবালয় ছিল ৮ নং থিয়েটার রোড, কলিকাতা।

* ১৯৭১ সালের ১৪ আগস্ট ২৫০ জন বুদ্ধিজীবীসহ নাম না জানা অনেকে শহীদ হন।

* মুসলিম লীগের প্রসত্মাবক-নবাব সলিমুল্লাহ।

* দ্বি-জাতি তত্ত্বের প্রবক্তা মুহাম্মদ আলী জিন্নাহ। দ্বি-জাতি তত্ত্ব ঘোষণা করা হয় ১৯৩৯ সালে।

* তমুদ্দিন মজলিস প্রকাশিত পুসিত্মকার নাম পাকিসত্মানের রাষ্ট্র ভাষা বাংলা না উর্দু

* বীরশ্রেষ্ঠ মতিউর রহমানকে বাংলাদেশে আনা হয় ২৪ জুন, ২০০৬।

* প্রথম জাতীয় সংসদের স্থায়ীত্বকাল ছিল ২ বছর ৬ মাস ২৯ দিন।

* একমাত্র পাহাড়ী আদিবাসি বীরবিক্রম -ইউ কে চিং ২৫ জুন, ২০১৪ সালে মারা যান।

ইতিহাসে মার্চ-১৯৭১

১)  ২ মার্চ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ঐতিহাসিক বটতলায় জাতীয় পতাকা উত্তোলন।

২)  ৩ মার্চ শাহজাহান সিরাজ কর্তক স্বাধীনতার ইশতেহার পাঠ এবং পল্টন ময়দানে বঙ্গবন্ধুকে জাতির জনক ঘোষণা।

৩)  ৭ মার্চ রের্সকোর্স ময়দানে বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক ভাষণ।

৪)  ১৯ মার্চ ইপিআর (গাজিপুর) কর্তৃক প্রথম শসস্ত্র প্রতিরোধ।

৫)  ২৩ মার্চ বঙ্গবন্ধুর বাসায় জাতীয় পতাকা উত্তোলন।

৬)  ১৬-২৫ মার্চ মুজিব-ইয়াহিয়া বৈধক।

৭)  ২৫ মার্চ ভয়াল কালো রাত।

৮)  ২৬ মার্চ স্বাধীনতা ঘোষণা।

 

ইতিহাসে ২৩ মার্চ

  • ১৯৪০ সালের ২৩ মার্চ লাহোর প্রসত্মাব।
  • ১৯৫৬ সালের ২৩ মার্চ বাংলাকে পাকিসত্মানের রাষ্ট্রভাষা ঘোষণা।
  • ১৯৭১ সালের ২৩ মার্চ বঙ্গবন্ধুর বাসভবনে জাতীয় পতাকা উত্তোলন।
  • ১৯৭২ সালের ২৩ মার্চ গণপরিষদ অধ্যাদেশ জারি।

 

* ইতিহাসে আগস্ট মাসঃ

১৯৪৫ সালের ৬ আগস্ট হিরোশিমায় এবং ৯ আগস্ট নাগাসাকিতে মিত্র বাহিনী কর্তৃত পারমানবিক বোমা নিক্ষেপ।

১৯৪৩ সালের ৭ আগস্ট রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের মৃত্যদিবস। ৮ আগস্ট বঙ্গমাতা ফজিলাতুন্নেছা মুজিবের জন্মদিন। ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধু সপরিবারে নিহত হন। ১৭ আগস্ট দেশব্যাপী সিরিজ বোমা নিক্ষেপ। ২০০৫ সালের ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা, ১৯৭৬ সালের ২৯ আগস্ট জাতীয় কবি কাজী নজরম্নল ইসলামের মৃত্যুদিবস। এছাড়া, ১৯৪৭ সালের ১৪ আগস্ট পাকিসত্মানের এবং ১৫ আগস্ট ভারতের স্বাধীনতা দিবস।

 

* আওয়ামী লীগের পচাত্তর উত্তর সভাপতি (১৯৭৫-১৯৭৮)-জোহরা তাজুদ্দিন (তাজুদ্দিন আহম্মেদ এর স্ত্রী)।

 

সাতজন বীরশ্রষ্ঠ

পদবী ও নাম জন্ম তারিখ ও জন্মস্থান বাহিনীর নাম সেক্টরের নাম মৃত্যু তারিখ ও স্থান
সিপাহী মোঃ মোসত্মফা কামাল  ১৬ ডিসেম্বর, ১৯৪৭ ভোলা জেলার হাজিপুর গ্রামে সেনাবাহিনী ৮ নং সেক্টর ৮ এপ্রিল, ১৯৭১ আখাউড়া
ল্যান্স নায়েক মুন্সি আবদুর রউফ মে ১৯৪৩, ফরিদপুর জেলাধীন মধুখালী উপজেলার সালামতপুর গ্রামে। ই.পি. আর ১ নং সেক্টর ২০ এপ্রিল, ১৯৭১ রাঙ্গামাটি
ল্যান্স নায়েক নূর মোহাম্মদ শেখ ২৬ এপ্রিল, ১৯৩৬ সালে নড়াইল জেলার মহেশখালী গ্রামে। ই.পি. আর ৮ নং সেক্টর ৫ সেপ্টেম্বর, ১৯৭১ যশোর
ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট মতিউর রহমান ২১ ফেব্রম্নয়ারি, ১৯৫৪ নরসিংদী জেলার রাজনগর গ্রামে বিমান বাহিনী পাকিসত্মানে কর্মরত ছিলেন ২০ আগস্ট ১৯৭১ সিন্ধুপ্রদেশ, পাকিসত্মান
সিপাহী হামিদুর রহমান ২ ফেব্রম্নয়ারি, ১৯৫৩ সালে ঝিনাইদহ জেলার খালিশপুরে সেনাবাহিনী ৪ নং সেক্টর ২৮ অক্টোবর, ১৯৭১ সালে কমল, মৌলভীবাজার
ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর ১৯৪৯, বরিশাল জেলার রহিমগঞ্জ গ্রামে। সেনাবাহিনী ৭ নং সেক্টর ১৪ ডিসেম্বর, ১৯৭১ চাপাইনবাগঞ্জ
স্কোয়াডন লিডার রম্নহুল আমীন ১৯৩৪, নোয়াখালী জেলার রাগচাপটা গ্রামে নৌবাহিনী ১০ নং সেক্টর ১০ ডিসেম্বর, ১৯৭১ শিপইয়ার্ড, খুলনা

 

* জেল হত্যা ও জাতীয় চার নেতা: ১৯৭৫ সালের ৩ নভেম্বর ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে আটক অবস্থায় জাতীয় চার নেতাকে নিশংসভাবে  হত্যা করা হয় যা ইতিহাসে জেল হত্যা দিবস নামে পরিচিত। পৃথিবীর ইতিহাসে এরকম ন্যক্কারজনক ঘটনা খুবই কম ঘটেছে। জাতীয় চার নেতা হলেন-

  • প্রবাসী সরকারের প্রধানমন্ত্রী-তাজউদ্দিন আহমেদ (সোহেল তাজ ও সিমিন হোসেন রিমির বাবা)
  • প্রবাসী সরকারের অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি ও উপ-রাষ্ট্রপতি-সৈয়দ নজরম্নল ইসলাম (সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম এর বাবা)
  • প্রবাসী সরকারের অর্থ, বাণিজ্য, শিল্প ও যোগাযোগ মন্ত্রী এম মনসুর আলী (মো: নাসিমের বাবা)
  • প্রবাসী সরকারের স্বরাষ্ট্র, কৃষি, ত্রাণ ও পুনর্বাসন মন্ত্রী- এ এইচ এম কামরম্নজ্জামান (এ এইচ এম খায়রম্নজ্জামান লিটন এর বাবা)

* ২০২০ সাল কেন বিখ্যাত?-বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশত বার্ষিকী।

* ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সময় মিত্রবাহিনীর প্রধান ছিলেন-ভারতের সেনাবাহিনীর প্রধান-ফিল্ড মার্শাল স্যাম হরমুসজি ফামজি জামশেদজি মানেকশ।

* ভারত-বাংলাদেশ যৌথ কমান্ডের সেনাধ্যক্ষ ছিলেন-জেনারেল জগজিৎ সিং অরোরা।

* স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম অস্থায়ী সচিবালয়-৮নং থিয়েটার রোড, কোলকাতায় অবস্থিত।

* বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণের সাথে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট আব্রাহাম লিংকনের গেটিসবার্গ ভাষণের মিল আছে।

* বঙ্গবন্ধুর বাড়ি মধুমতি নদীর তীরে অবস্থিত।

* আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলার একমাত্র জীবিত আসামী-কর্ণেল শওকত আলী।

* মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক ছোট গল্পঃ হাসান আজিজুল হকের-নামহীন গোত্রহীন, শওকত ওসমানের-জন্ম যদি তব বঙ্গে, সৈয়দ শামসুল হকের-জলেশ্বরীর গল্পগুলো।

* আদিবাসী মুক্তিযোদ্ধা কাকন বিবিকে রাষ্ট্রীয়ভাবে বীর প্রতীক উপাধি দিলেও তা রাষ্ট্রীয় গেজেটে প্রকাশিত হয়নি।

* September on Jessore Road কবিতার রচয়িতা অ্যালেন গিনেস বার্গ।

* সায়মন ড্রিং ছিলেন ১৯৭১ সালে ঢাকায় কর্তব্যরত ব্রিটিশ সাংবাদিক।

* মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক মন্ত্রণালয় ২০০১ সালের ২৩ অক্টোবর গঠিত হয়।

* সাতজন বীর শ্রেষ্ঠের মধ্যে সর্বপ্রথম শহীদ হন সিপাহী মো: মোসত্মফা কামাল ৮ এপ্রিল, ১৯৭১ এবং সর্বশেষে শহীদ হন ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর ১৪ ডিসেম্বর, ১৯৭১

* খেতাবপ্রাপ্ত সর্বকনিষ্ঠ মুক্তিযোদ্ধা শহিদুল ইসলাম বীর প্রতীকের বয়স ছিল মাত্র ১২ বছর।

* বেসরকারিভাবে মুক্তিযোদ্ধা দিবস পালিত হয় ১ ডিসেম্বর।

* বাংলাদেশের সর্বোচ্চ শহীদ মিনার জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে অবস্থিত।

* মুক্তিযুদ্ধের সময় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ডাকসুর সভাপতি ছিলেন আ.স.ম.আব্দুর রব।

* কয়েকজন বীর উত্তমের নাম: উইং কমান্ডার শামসুল আলম, স্কোয়াডন লিডার (অবঃ) বদরম্নল আলম, লেফটেন্যান্ট আনোয়ার হোসেন, মেজর জেনারেল আব্দুর রব, এয়ার ভাইস মার্শাল (অবঃ) একে খন্দকার, জিয়াউর রহমান, সি. আর দত্ত, এম এ মঞ্জুর, প্রমুখ।

* ২৫ মার্চ কালো রাতে শহীদ বুদ্ধিজীবীদের কয়েকজন হলেন-অধ্যাপক জ্যোতির্ময় গুহঠাকুরতা, জি এম মনিরম্নজ্জামান, সম্পাদিক সেলিনা পারভীন প্রমুখ।

* বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাস্ট গঠন করেন।

* সশস্ত্র বাহিনী দিবস ২১ নভেম্বর।

* তারামন বিবি ১১ নং সেক্টরে যুদ্ধ করেন।

* সপ্তম নৌবহর: সপ্তম নৌবহর হল পারমানবিক অস্ত্রে সুসজ্জিত মার্কিনযুক্তরাষ্ট্রের কয়েকটি জাহাজের সমন্বয়ে গঠিত নৌবহর।

* ১৯৭১ সালে বাংলাদেশে আটকে পড়া পাকিসত্মানি সৈন্য সংখ্যা ছিল-২৩৮,০০০ জন।

* ১৯৭১ সালের যুদ্ধাপরাধের বিচারে গঠিত আমত্মর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের কার্যক্রম শুরম্ন হয় ১০১০ সালের ২৬ জুলাই।

* বীর প্রতীক উপাধিপ্রাপ্ত: শহীদুল ইসলাম, ডব্লিউ এস ওডারল্যান্ড, লে. আনোয়ার, গোলাম আজাদ দারা প্রমুখ

* মুক্তিযুদ্ধের সময় যুক্তরাষ্ট বিরোধিতা করেছিল এবং ভারত ও রাশিয়া সহায়তা করেছিল।

* ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট ৩২ নং রোডে ৩টি বাড়িতে হামলা হয়েছিল। ১) বঙ্গবন্ধুর বাড়ি ২) বঙ্গবন্ধুর ভাইয়ের বাড়ি এবং ৩) বঙ্গবন্ধুর বোনের বাড়িতে।

* বঙ্গবন্ধু রাষ্ট্রীয় কোন কোন পদে ছিলেন? বঙ্গবন্ধু পাকিসত্মান আমলে প্রাদেশিক সরকারের কৃষি ও বন মন্ত্রী, কোয়ালিশন সরকারের শিল্প, বাণিজ্য, শ্রম, দুর্নীতি দমন ও ভিলেজ এইড দপ্তরের মন্ত্রী এবং বাংলাদেশ আমলে প্রধানমন্ত্রী ও রাষ্ট্রপতি পদে আসীন হন।

* ব্রিগেডিয়ার জামিল বঙ্গবন্ধুর সামরিক গোয়েন্দা বাহিনীর প্রধান ছিলেন যিনি বঙ্গবন্ধুর হত্যা চেষ্টা নিবৃত করতে যেয়ে শহীদ হন।

* ১৯৭১ সালের অপরাধীদের বিচারের জন্য ১৯৭৩ সালে ৬২টি ট্রাইব্যুনাল গঠন করা হয়। তখনকার সময় চিহ্নিত যুদ্ধাপরাধীর সংখ্যা ছিল প্রায় ১১০০০ জন। তখন সাজা প্রাপ্ত হয় ৭৫২ জন । ১৯৭৫ সালে এর ট্রাইব্যুনালের কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়।

* বাংলাদেশে বীরত্বসূচক উপাধি চারটি। যথা- ১) বীরশ্রেষ্ঠ ২) বীরউত্তম ৩) বীরবিক্রম এবং ৪) বীরপ্রতীক। বীরশ্রেষ্ঠ-৭জন, বীরউত্তম-৬৮জন, বীরবিক্রম-১৭৫জন এবং বীরপ্রতীক-৪২৬

* ২৬ মার্চকে জাতীয় দিবস বা স্বাধীনতা দিবস হিসেবে ঘোষণা করা হয়-১৯৮০ সালে।

* মুক্তিযুদ্ধের সময় মুজিবনগর ৮ নং সেক্টরের অধীন ছিল।

* বাংলা ভাষাকে রাষ্ট্রভাষা হিসেবে স্বীকৃতি দেয়া হয়-২৩ মার্চ, ১৯৫৬ সালে।

* মুক্তিফৌজ থেকে মুক্তিবাহিনী: সিলেটের তেলিয়াপাড়া চা বাগানে কর্ণেল এম.এ.জি ওসমানীর নেতৃত্বে ১৩,০০০ সৈন্য নিয়ে মুক্তিফৌজ গঠিত হয়। এর মধ্যে সামরিক ৫,০০০ এবং বেসামরিক সৈন্য ছিল-৮,০০০ জন। ৯ এপ্রিল ১৯৭১ সালে মুক্তিফৌজের নামকরণ করা হয় ‘মুক্তিবাহিনী’। ১২ এপ্রিল, ১৯৭১ সালে কর্ণেল এম.এ.জি ওসমানীকে মুক্তিবাহিনীর কমান্ডার ইন চীফ হিসেবে নিয়োগের ঘোষণা দেওয়া হয় এবং ‘চীপ অব স্টাফ’ করা হয় লে. কর্ণেল (অব.) আবদুর রবকে আর ‘ডেপুটি চীফ অব স্টাফ’ করা হয় গ্রম্নপ ক্যাপ্টেন এ.কে. খন্দকারকে।

 

* স্বাধীন বাংলা ফুটবল দলের অধিনায়ক ছিলেন জাকারিয়া পিন্টু এবং কোচ ছিলেন তানভীর মাজহার তান্না। স্বাধীন বাংলা ফুটবল দল ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে ১২টি ফুটবল ম্যাচ খেলে।

 

* মুক্তিযুদ্ধের সময় ভারতে প্রশিক্ষণ ক্যাম্প খোলা হয়েছিল-দেরাদুন, মোহনপুর, রামনগর, বাঘমারা, লোহারবন, লায়লাপুর, শ্রীনগর, মনতলা, কলাছড়া, বীরভূম, টাকি, বনগাঁও, মেঘালয়, কৃষ্ণপুর, নরসিংগড়, কড়ইগাছি, কুচবিহার, আলিনগর, বেতাই, হাফলং।

* বঙ্গবন্ধ ১৯২০ সালের ১৭ মার্চ (বাংলা ২০ চৈত্র ১৩৫৯) জন্মগ্রহণ করেন।

* মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের ইংরেজি নাম-Ministry of Liberation War Affairs

* দেশের সর্বোচ্চ শহীদ মিনার জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে অবস্থিত।

 

বঙ্গবন্ধু অ্যাপস

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জীবনীভিত্তিক একটি মুবাইল অ্যাপ তৈরি হয়েছে যা গুগল পেস্ন স্টোরে পাওয়া যাবে। ‘বঙ্গবন্ধু অ্যাপ’ নামের এ অ্যাপটি তৈরি করেছে এমসিসি লিমিটেড। বঙ্গবন্ধুর অসমাপ্ত জীবনী বইটির পিডিএফ সংস্করণ, ৭ মার্চের ভাষণসহ গুরম্নত্বপূর্ণ সব ভাষণ, বঙ্গবন্ধুর হাতে লেখা অনেকগুলো চিঠি, ছয়টি দুর্লভ সাক্ষাৎকার, তাঁর কর্মময় জীবনের ১১৩টি ছবি দুর্লভ ছবি এ অ্যাপে পাওয়া  যাবে। এই অ্যাপলিকেশনটি ২০১৪ সালের ১৬ আগস্ট উদ্ভোধন করা হয়।

 

বাকশাল (বাংলাদেশ কৃষক শ্রমিক লীগ) বা দ্বিতীয় বিপস্নব

১৯৭৫ সালের ২৪ জানুয়ারি বাংলাদেশের সংবিধানের চতুর্থ সংশোধনীবলে বহুদলীয় সংসদীয় সরকার পদ্ধতি পরিবর্তন করে রাষ্ট্রপতি শাসিত সরকার ব্যবস্থা প্রবর্তন করা হয় এবং দেশের সমগ্র রাজনৈতিক দল বিলপ্ত করে বাকশাল নামক একক রাজনৈতিক দল গঠন করা হয়। উত্থাপনের মাত্র ১৫ মিনিটের মধ্যে এই বিল সংসদে পাশ হয়। বাকশাল ব্যবস্থায় দলের চেয়ারম্যানই সর্বময় ÿমতার অধিকারী ছিলেন। ৭ জুন, ১৯৭৫ সালে বাকশালের গঠনতন্ত্র, কেন্দ্রীয় কমিটি, পাঁচটি ফ্রন্ট এবং এর কার্যনির্বাহী কমিটি ঘোষণা করা হয়। রাষ্ট্রপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বাকশালের চেয়ারম্যান এবং এম মনসুর আলী ছিলেন সেক্রেটারি জেনারেল। এছাড়া জিলস্নুর রহমান, শেখ ফজলুল হক মনি ও আবদুর রাজ্জাককে দলের সেক্রেটারি করা হয়। বাকশালের পাঁচটি ফ্রন্ট ও এর সেক্রেটারিরা হলেন-জাতীয় কৃষকলীগ (ফণীভূষণ মজুমদার), জাতীয় শ্রমিক লীগ (অধ্যাপক ইউসুফ আলী), জাতীয় মহিলা লীগ (বেগম সাজেদা চৌধুরী),  জাতীয় যুবলীগ (তোফায়েল আহমেদ), এবং জাতীয় ছাত্রলীগ (শেখ শহিদুল ইসলাম)। দলের কেন্দ্রীয় সংস্থাগুলো হলো-

  1. কার্যনির্বাহী কমিটি যার সদস্য ছিল ১৫ জন;
  2. কেন্দ্রীয় কমিটি, সদস্য-১১৫ জন এবং
  3. কাউন্সিল।

৬ জুন, ১৯৭৫ সালে বাকশাল ব্যবস্থায় দেশে চারটি দৈনিক ছাড়া আর সকল সংবাদপত্রের ডিক্লারেশন বাতিল করা হয়। ঐ চারটি পত্রিকা ছিল-দৈনিক ইত্তেফাক, দৈনিক বাংলা, বাংলাদেশ অবজারভার এবং বাংলাদেশ টাইমস।

 

আবীর আহাদ নামক একজন মুক্তিযোদ্ধা সাংবাদিক বাকশাল গঠনের কিছুদিন পরেই বঙ্গবন্ধুর একটি সাÿাৎকার নিয়েছিল যেখানে বঙ্গবন্ধু বাকশাল গঠনের প্রেÿাপট, উদ্দেশ্য ও লÿ্য সম্পর্কে বিসত্মারিত বলেছিলেন যার চুম্বকাংশ নিমেণ তুলে ধরা হলো-

বঙ্গবন্ধু আপনার রাজনৈতিক চিমত্মাধারার মূলনীতি বা লÿ্য কি?

আবীর আহাদঃ বঙ্গবনন্ধু আপনার রাজনৈতিক চিমত্মাধারার মূলনীতি বা লÿ্য কি?

বঙ্গবন্ধুঃ আমার রাজনৈতিক চিমত্মাচেতনা ধ্যান ও ধারণার উৎস বা মূলনীতিমালা হলো গণতন্ত্র, সমাজতন্ত্র, জাতীয়তাবাদ ও ধর্মনিরপেÿতা। এই চার মূলনীতিমালার সমন্বিত কার্যপ্রক্রিয়ার মাধ্যমে একটি শোষণহীন সমাজ তথা আমার দেশের দীনদুখী শোষিত বঞ্চিত শ্রমজীবী মেহনতী মানবগোষ্ঠীর মৌলিক মানবাধিকার ও তাদের সমষ্ঠিগত প্রকৃত ‘গণতান্ত্রিক একনায়কতান্ত্রিক’ শাসন প্রতিষ্ঠাকরণই আমার রাজনৈতিক চিমত্মাধারার একমাত্র লÿ্য।

আবীর আহাদঃ বঙ্গবনন্ধু, গণতন্ত্র ও সমাজতন্ত্র কি একযোগে বা পাশাপাশি চলতে পারে?

বঙ্গবন্ধুঃ আমি আমার অভিজ্ঞতার আলোকে বলছি-প্রচলিত গণতন্ত্রের বদৌলতে সমাজের মাত্র ০৫% লোকের বা প্রভাবশালী ধনিকশ্রেণির স্বৈরাচারী শাসন ও ব-াহীন শোষণকার্য পরিচালনার পথই প্রশসত্ম হচ্ছে। অর্থাৎ প্রচলিত গণতন্ত্রের মারপ্যাচে সমাজের নিমণতম সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর শাসন ও প্রভাব প্রতিপত্তি, সর্বপ্রকার দুর্নীতি, শোষণ, অবিচার, অত্যাচার ও প্রতারণায় সমাজের সর্ববৃহত্তম অজ্ঞ দুর্বল মেহনতী কৃষক-শ্রমিক (শতকরা প্রায় ৯৫ ভাগ) সাধারণ মানবগোষ্ঠীর মানবাধিকার ও তাদের গণতান্ত্রিক অধিকার খর্ব হচ্ছে। তারা বঞ্চিত হচ্ছে।

 

প্রকৃত গণতন্ত্র বলতে আমি এমন একটি রাজনৈতিক ব্যবস্থাকে বুঝি, যে ব্যবস্থায় জনগণের বৃহত্তর সংখ্যাগরিষ্ঠ অংশের বৃহত্তর কল্যাণের নিমিত্তে তাদের জন্য, তাদের দ্বারা এবং তাদের স্বশ্রেণিভুক্ত নির্বাচিত প্রতিনিধিদের নিয়ে গঠিত সরকার প্রতিষ্ঠার ভেতর দিয়ে তাদেরই প্রকৃত শাসন ও আর্থসামাজিক মৌলিক অধিকার সংরÿÿত হয়। কিন্তু এই ব্যবস্থায় প্রচলিত গণতান্ত্রিক উপায়ে অর্জিত হতে পারে না। কারণ প্রচলিত গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে রাজনৈতিক ও আর্থ-সামাজিক ÿÿত্রে চলে অর্থ সম্পদের অবাধ ও মুক্ত প্রতিযোগিতা। এÿÿত্রে দরিদ্র জনসাধারণের পÿÿ এ জাতীয় প্রতিযোগিতায় অবতীর্ণ হওয়া কোনো প্রকারেই সম্ভব না। একমাত্র সমাজতান্ত্রিক পদ্ধতিই এদেরকে রাজনৈতিক প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের কার্যকরী নিশ্চয়তা দিতে পারে। এজন্য আমি মনে করি প্রকৃত গণতন্ত্রের আরেক নাম সমাজতন্ত্র এবং সমাজতন্ত্রের মধ্যেই প্রকৃত গণতন্ত্র নিহিত। এজন্যেই আমি গণতান্ত্রিক উপায়ে সমাজতন্ত্র প্রতিষ্ঠার কথা বলেছি। আমি মনে করি প্রকৃত গনতন্ত্র এবং সমাজতন্ত্রের ভেতর কোন বিরোধ নাই। (সংÿÿপিত)

আবীর আহাদঃ অনেকে বলেন ‘বাকশাল হলো একদলীয় বা আপনার স্বেরাতান্ত্রিক শাসন প্রতিষ্ঠার একটি অপকৌশল। এ সম্পর্কে আপনি পরিষ্কার মতামত দিন।

 

বঙ্গবন্ধুঃ সাম্রাজ্যবাদের অবশেষ পুঁজিবাদী সমাজ সভ্যতা ও শোষক পরজীবীদের দৃষ্টিতে ‘বাকশাল’ তো একদলীয় শাসন ব্যবস্থা হবেই। কারণ বাকশাল কর্মসূচীর মধ্যে দিয়ে আমি সাম্রাজ্যবাদের প্রতিনিধি বহুজাতিক পুঁজিবাদী শোষক, তাদের সংস্থাসমূহের লগ্নিকার এবং তাদের এদেশীয় সেবাদাস, এজেন্ট, উঠতি ধনিক গোষ্ঠীর একচেটিয়া শোষণ ও অবৈধ প্রভাব-প্রতিপত্তি, দুর্নীতি, প্রতারণার সকল বিষদাঁত ভেঙ্গে দেবার ব্যবস্থা করেছি। এজন্য তাদের আঁতে ঘাঁ লেগেছে, বাকশাল ও আমার বিরম্নদ্ধে অপপ্রচার করে বেড়াচ্ছে। সাম্রাজ্যবাদী শক্তি, শাসকরা এদেশে গোপনে অর্থ যোগান দিয়ে তাদের সেবাদাস ও এজেন্টদের মাধ্যমে সমাজতান্ত্রিক কার্যক্রমকে বানচাল করার প্রচেষ্টা চালাচ্ছে। তারা বিভিন্ন পত্রপত্রিকা, সভাসমিতি এমনকি ধর্মীয় অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে আমার সরকারের বিরম্নদ্ধে অপপ্রচারে লিপ্ত হয়েছে। কলকারখানা, অফিস আদালত, শিল্পপ্রতিষ্ঠান, বিভিন্ন থানায় তাদের ভাড়াটে চরদের দিয়ে অমত্মর্ঘাতমূলক তৎপরতা চালাচ্ছে। বিভিন্ন স্থানে অগ্নিসংযোগ, লুটতরাজ, গণহত্যা, অসামাজিক কার্যকলাপ ও সাম্প্রদায়িক তৎপরতা চালাচ্ছে। প্রতিদিন তাদের ষড়যন্ত্রের খবরাখবর আমার কানে আসছে। প্রচলিত গণতান্ত্রিক বৈষম্য, শোষণ দুর্নীতিভিত্তিক সমাজকে, দেউলিয়া আর্থসামাজিক ব্যবস্থাকে, জরাজীর্ণ প্রশাসন ও অবিচারমূলক বিচার ব্যবস্থাকে সমূলে উৎপাটিত করে একটি শোষণহীন, দুর্নীতিহীন, বৈষম্যহীন ও প্রকৃত গণতান্ত্রিক সাম্যবাদী সমাজ বিপস্নবের পথ রচনা করেছি। এই সমাজ বিপস্নবে যারা বিশ^াসী নন, তারাই বাকশাল ব্যবস্থাকে একদলীয় স্বৈরাশাসন ব্যবস্থ বলে অপপ্রচার করছেন। কিন্তু আমি এ সকল বিরম্নদ্ধবাদীদের বলি, এতোকাল তোমরা মুষ্টিমেয় লোক, আমার ব্যাপক সংখ্যাগরিষ্ঠ দুখী মেহনতী মানুষকে শাসন ও শোষণ করে আসছো। তোমাদের ব-াহীন স্বাধীনতা ও সীমাহীন দুর্নীতির মধ্য দিয়ে ব্যক্তি সম্পদের পাহাড় গড়ে তোলার ও মুক্ত প্রতিযোগিতার হোলিখেলায় আমার দুখী মানুষের সব আশাসাধ ধূলায় মিশে গেছে। দুখী মানুষের স্বপ্ন, আকাঙ্খা, ÿুধার জ্বালা, ব্যথা-বেদনা, হতাশা ক্রন্দন তোমাদের পাষাণ হৃদয়কে একটুও গলাতে পারেনি। বাংলার যে স্বাধীনতা তোমরা ভোগ করছো, এই স্বাধীনতা, এই দেশ, এই মাটি ঐ আমার দুখী মানুষের সীমাহীন ত্যাগ তিতিÿা, আন্দোলন সংগ্রাম এবং জীবন মৃত্যুর বিনিময়ে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। সেখানে তোমাদের অবদান কতটুকু আছে, নিজেদের বুকে একবার হাত দিয়ে চিমত্মা করে দেখো। বরং অনেক ÿÿত্রে স্বাধীনতার বিরোধিতা করেছো। বিদেশী শাসক শোষকদের সহায়তা করেছো। নিজের ঘরে থেকে ভাইয়ের ঘর পুড়িয়েছো, মানুষকে হত্যা করেছোঅ মা-বোনদের লাঞ্ছিত করেছো, আরো কি না করেছো। এসবই করেছো ব্যক্তি স্বার্থ উদ্ধারের ঘৃণ্য লÿÿ্য। আমার দেশের মাত্র ৫ (পাঁচ) পার্সেন্ট লোক ৯৫ পার্সেন্ট লোককে দাবিয়ে রাখছে, শাসন শোষণ করছে। এতকাল মাত্র ৫ (পাঁচ) ভাগ শাসন করেছে; এখন থেকে ৯৫ ভাগ শাসন করবে। ৯৫ ভাগ মানুষের দুঃখের সাথে ৫ ভাগ মানুষের সুখভাগকে মেশাতে হবে-আমি মেশাবোই। এজন্যে বাকশাল করেছি। এই ৯৫ ভাগ মানুষকে সংঘবদ্ধ করেছি তাদের পেশার নামে, তাদের বৃহত্তর কল্যাণে, তাদের একক দল বাংলাদেশ কৃষক শ্রমিক আওয়ামী লীগ বা বাকশালে।  মুলত বাকশাল হচ্ছে বাঙ্গালির সর্বশ্রেণি, সর্বসত্মরের গণমানুষের একক জাতীয় পস্নাটফর্ম, রাজনৈতিক সংস্থা, একদল নয়। এখানে স্বৈরাশাসনেরও কোনো সুযোগ নেই। কারণ বাঙ্গালি জনগোষ্ঠীর সম্মিলিত বা সমষ্ঠিগত শাসন ব্যবস্থায় কে কার উপর স্বৈরাশাসন চালাবে? প্রত্যেক পেশার নির্বাচিত প্রতিনিধিদের নিয়ে শাসন পরিষদ গঠন করা হবে। কোনো পেশা বা শ্রেণি অন্য পেশার লোকদের ওপর খবরদারী করতে পারবে না। যে কেউ যিনি জনগণের সার্বিক কল্যাণের রাজনীতিতে তথা সমাজতান্ত্রিক সমাজ ব্যবস্থার রাজনীতিতে বিশ^াসী, তিনি এই জাতীয় দলে ভিড়তে পারবেন। যারা বাকশালকে একদলীয় ব্যবস্থা বলেন, তাদের স্মরণ করতে বলি, ইসলামে ক’টি দল ছিল? ইসলামী ব্যবস্থায় একটি মাত্র দলের অসিত্মত্ব ছিল, আর তা হলো খেলাফত তথা খেলাফতে রাশেদীন। মার্কসবাদও একটি দলের অনুমোদন দিয়েছে। চীন, রাশিয়া, কিউবা, ভিয়েতনামে কতটি করে দল আছে। ঐসব ইসলামী রাষ্ট্রসমূহকে বাদ দাও, ওখানে মহানবীর ইসলাম নেই। বস্ত্তত প্রকৃত গণতন্ত্র বা সাম্যবাদী সমাজ প্রতিষ্ঠার স্বার্থেই একটি একক জাতীয় রাজনৈতিক সংস্থা থাকা বাঞ্ছনীয়। একটি জাতীয় কল্যাণের অভিন্ন আদর্শে, ব্যাপক মানুষের সার্বিক মুক্তির লÿÿ্য একটিমাত্র রাজনৈতিক সংস্থার পতাকাতলে জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করা ছাড়া গত্যমত্মর নেই। কিন্তু বহুদলীয় তথাকথিত গণতাত্রিক প্রতিযোগিতায় কোনোভাবেই জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করা সম্ভব নয়। সেখানে বহুদলে জনগণ বহুধা বিভক্ত হতে বাধ্য। আর বিচ্ছিন্ন, বিভক্ত, পরস্পর বিরোধী রাজনৈতিক দলের দ্বন্দ্বসংঘাত, হিংসা-বিদ্বেষ ও হানাহানির রাজনীতি দিয়ে জাতির বৃহত্তর কল্যাণ ও সমৃদ্ধি কোনভাবেই অর্জিত হতে পারে না। ইতিহাস সে সাÿ্য দেয় না। আমার দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতাও তাই বলে।

বাকশাল সরকার যে যৌক্তিক ছিল তা কিভাবে মুল্যায়ন করবেন?

 

স্যার বাকশাল সরকার কতটা যৌক্তিক ছিল তা নিয়ে যথেষ্ট তর্ক-বিতর্ক আছে। আর বাকশালের কার্যকারিতা প্রমাণেই আগেই তো বঙ্গবন্ধুকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছিল। বঙ্গবন্ধু কেন বাকশালের মতো ব্যবস্থা নিতে বাধ্য হয়েছিলেন সে বিষয়ে তিনি বক্তৃতায় বলেছিলেন-

‘‘আমি ফেরেশতা নই। শয়তানও নই। আমি মানুষ, আমি ভুল করতেই পারি। আমি ভুল করলে আমার মনে রাখতে হবে, I can rectify myself. আমি যদি rectify করতে পারি, সেখানেই আমার বাহাদুরি। আর যদি গোঁ ধরে বসে থাকি যে আমি যেটা করেছি সেটাই ভালো, that can’t be human being!  ফেরেশতা হইনি যে সবকিছু ভালো হবে। এই সিস্টেম ইনট্রডিউস করে যদি দেখা যায় যে, খারাপ হচ্ছে, Alright rectify it. কেননা আমার মানুষকে বাঁচাতে হবে। আমার বাংলাদেশে শোষণহীন সমাজ গড়তে হবে। Fundamentally আমরা একটা শোষণহীন সমাজ গড়তে চাই, আমরা একটি সমাজতান্ত্রিক অর্থনীতি করতে চাই। We do not like to import it from anywhere in the world. এটা আমার মত, মাটির মত–।’’

বাকশাল একটি দলের নাম নয়। এটি একটি বিপস্নবের নাম। বাকশাল হলে হয়তো আজকের বাংলাদেশের চেহারা অন্য রকম হত। হয়ত আজকে আমরা যে চীনের কথা বলছি সেই চীনকেও ছাড়িয়ে যেত।

 

জাতি সংঘের ভাষণে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কোন কোন বিষয়ের উপর বেশি গুরম্নত্ব দিয়েছিলেন?

 

জাতি সংঘের ভাষণে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান পররাষ্ট্রনীতি ঘোষণা করে সকলের বন্ধু হিসেবে থাকার কথা বলেছিলেন এবং অর্থনীতির উপর বেশি জোর দিয়েছিলেন। তিনি বাংলাদেশকে প্রাচ্যের সুইজারল্যান্ড হিসেবে গড়ে তুলতে চেয়েছিলেন।   

 

 

বঙ্গবন্ধু

১। বঙ্গবন্ধু ১৯২০ সালের ১৭ মার্চ গোপালগঞ্জ জেলার টুঙ্গিপাড়ায় মধুমতি/বাইগার নদীর তীরে রাত ৮ টায় জন্ম গ্রহণ করেন। ডাক নাম-খোকা

২। ১৯২০ সালের ১৭ মার্চ বঙ্গবন্ধুর জন্মদিনকে স্মরণীয় করে রাখার জন্য আমরা প্রতি বছর এ দিনটিকে জাতীয় শিশু দিবস হিসাবে পালন করি।

৩। বঙ্গবন্ধুর নানা শেখ আব্দুল মজিদ বঙ্গবন্ধুর নাম শেখ মুজিবুর রহমান রেখেছিলেন। মুজিব অর্থ উত্তরদাতা। বঙ্গবন্ধুর উচ্চতা-৫ফুট ১১ ইঞ্চি।

৪। বঙ্গবন্ধুর পূর্বপুরম্নষেরা ইরাকের বাগদাদের হাসানপুর থেকে বাংলাদেশে এসেছিলেন।

৫। বঙ্গবন্ধু ১৯৩২/৩৩ সালে ১২/১৩ বছর বয়সে শেখ ফজিলাতুন্নেছার (বয়স ছিল আনুমানিক ৩ বছর) সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন।

বঙ্গবন্ধুর শিক্ষা ও প্রাথমিক রাজনৈতিক জীবন

 

১৯২৭ সালে বঙ্গবন্ধুর ছোট দাদা শেখ আব্দুর রশিদ কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত এম. ই স্কুলে (বর্তমানে হাই স্কুল) তৃতীয় শ্রেণিতে অধ্যায়ন
১৯২৯ সালে নয় বছর বয়সে গোপালগঞ্জ সীতানাথ একাডেমিতে (বর্তমান নাম: গোপালগঞ্জ পাবলিক স্কল) ৪র্থ শ্রেণিতে ভর্তি হন।
১৯৩৬ সালে কিছু দিনের জন্য মাদারীপুর হাই স্কুলে সপ্তম শ্রেণিতে পড়েন। পরে আবার গোপালগঞ্জ মিশনারি স্কুলে সপ্তম শ্রেণিতে ভর্তি হন।
১৯৩৭ সালে গোপালগঞ্জ মাথুরানাথ মিশনারি স্কুলে সপ্তম শ্রেণিতে ভর্তি হন।
১৯৩৮ সালে বঙ্গবন্ধু গোপালগঞ্জে, ভিলেজ পলিটিক্সের কারণে প্রথম জেল খাটেন।
১৯৩৯ সালে গোপালগঞ্জ মাথুরানাথ মিশনারি স্কুলে রাজনৈতিক জীবন শুরম্ন হয়।
১৯৪২ সালে এন্ট্রাস (এসএসসি) পাশ করেন এবং কলকাতা ইসলামিয়া কলেজে (বর্তমান নাম: মাওলানা আজাদ কলেজ) উচ্চ মাধ্যমিক শ্রেণিতে ভর্তি হন।
১৯৪৩ সালে সক্রিয় রাজনীতিতে অংশগ্রহণ করেন এবং মুসলিম লীগের কাউন্সিলর নির্বাচিত হন।
১৯৪৭ সালে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় অধীনে ইসলামিয়া কলেজ থেকে বিএ পাশ করেন এবং বছরের শেষের দিকে ঢাকায় আসেন।
১৯৪৮ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যায়ে আইন বিভাগে ভর্তি হন।
১৯৪৫ সালে ইসলামিয়া কলেজ ছাত্র সংসদে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় সাধারণ সম্পাদক (জি এস) নির্বাচিত হন।

 

২০১০ সালের ১৪ আগস্ট ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় বঙ্গবন্ধুর বহিষ্কার আদেশ প্রত্যাহার করে।

বঙ্গবন্ধুকে বলা বাবার উক্তি- Sincerity of purpose and honesty of purpose.

 

বঙ্গবন্ধু, স্বাধীনতা ও বাংলাদেশ

(১৯৪৭ থেকে ১৯৭৫ সাল পর্যমত্ম সংগঠিত ঘটনার ধারাবাহিক বর্ণনা)

১৯৪৭ সালের ২ সেপ্টেম্বর পাকিসত্মানের অন্যতম রাষ্ট্রভাষা হিসাবে বাংলাকে প্রতিষ্ঠার জন্য‘‘তমদ্দুন মজলিস’’ গঠন।
১৯৪৮ সালের ৪ জানুয়ারি বঙ্গবন্ধু মুসলিম ছাত্রলীগ প্রতিষ্ঠা করেন।

১৫ ফেব্রম্নয়ারি মেজর এম এ গনির ব্যক্তিগত উদ্যোগ ও প্রচেষ্টায় ইস্টবেঙ্গল রেজিমেন্ট প্রতিষ্ঠিত হয়।

২৫ ফেব্রম্নয়ারি গণপরিষদের প্রথম অধিবেশনে কুমিল্লার ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত উর্দুর পাশাপাশি বাংলা ভাষাকে পাকিসত্মানের রাষ্ট্র ভাষা করার প্রসত্মাব করলে তিনি গণপরিষদে নিন্দিত হন। ফলে পূর্ব বাংলায় অসমেত্মাষ দেখা দেয় এবং

২ মার্চ ঢাবির ফজলুল হক মুসলিম হলে অনুষ্ঠিত বৈঠকে বঙ্গবন্ধুর প্রসত্মাবক্রমে ‘‘সর্বদলীয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ’’ গঠিত হয়।

১১ মার্চ বঙ্গবন্ধু রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদের পিকেটিং এর সময় সর্ব প্রথম রাজনৈতিকভাবে গ্রেফতার হন।

২১ মার্চ ঢাকায় রেলগেই্ট ময়দানে পাকিসত্মানের গভর্ণর জেনারেল মুহম্মদ আলী জিন্নাহ উর্দুকে পাকিসত্মানের রাষ্ট্র ভাষা করা ঘোষণা দেন। সভাস্থলে বঙ্গবন্ধুসহ তাঁর নেতৃত্বে অন্যান্য ছাত্র নেতারা এক যোগে ‘No’ ‘No’ বলে প্রতিবাদ জানান। এবং

২৪ মার্চ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সমাবর্তন অনুষ্ঠানে তিনি (মুহম্মদ আলী জিন্নাহ) আবারো জোর দিয়ে বলে যে, ‘‘উর্দু এবং একমাত্র উর্দুই হবে পাকিসত্মানের রাষ্ট্রভাষা। তখন ছাত্ররা না, না, ধ্বনি দিয়ে এর প্রতিবাদ জানায়। ছাত্রনেতাদের প্রতিবাদের মুখে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী খাজা নাজিমউদ্দিন ছাত্র নেতাদের সাথে ৮ দফা চুক্তি করেন এবং ইংরেজির স্থলে বাংলাকে সরকারি ভাষা ও শিক্ষার মাধ্যম হিসাবে গ্রহণ করে।

১৯৪৯

 

সালের ২৩ জুল আওয়ামী মুসলিম লীগ প্রতিষ্ঠিত হয় এবং বঙ্গবন্ধু যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন।

সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীদের ন্যায়সঙ্গত আন্দোলনে একাত্মতা জানালে তাকে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বহিষ্কার করা হয়।

১৯৫০ সালের ১১ মার্চ বঙ্গবন্ধু গ্রেপ্তার হন।
১৯৫১ সাল কোন উল্লেখযোগ্য ঘটনা ছাড়াই বছরটি শেষ হয়।
১৯৫২

সালের

২৬ জানু. পল্টন ময়দানে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী খাজা নাজিমউদ্দিন ঘোষণা করেন যে উর্দুই হবে পাকিসত্মানের একমাত্র রাষ্ট ভাষা। এ ঘোষণার প্রতিবাদে ১৯৫২সালের ৩০ জানু. ঢাকায় প্রতিবাদ দিবস পালিত হয়।

৩১ জানু. সকল রাজনৈতিক দলের সদস্যদের নিয়ে গঠিত হয় ‘‘সর্বদলীয় রাষ্ট্রভাষা কার্যকরী পরিষদ’’ এবং এই সভায় ঘোষণা করা হয় যে, ২১ ফেব্রম্নয়ারি রোজ বৃহস্পতিবার তথা পূর্ব বাংলার গণপরিষদের বাজেট অধিবেশনের দিনে ‘‘রাষ্ট্রভাষা দিবস’’ পালন করা হবে। ২১ ফেব্রম্নয়ারি রাষ্ট্রভাষা দিবস কর্মসূচি সফল করার জন্য ৪ ফেব্রম্নয়ারি হরতাল এবং ১১ ও ১৩ ফেব্রম্নয়ারি পতাকা দিবস পালিত হবে। কারাগারে থাকা অবস্থায় ১৬ ফেব্রম্নয়ারি বঙ্গবন্ধু ও আওয়ামী লীগ নেতা মহিউদ্দিন আহমেদসহ অন্যান্যরা আমরণ অনশন ধর্মঘট শুরম্ন করে।

ছাত্র আন্দোলনের ভয়ে নুরম্নল আমীন সরকার ২০ ফেব্রম্নয়ারি বিকাল থেকে শহরে ১৪৪ ধারা জারি করে। ছাত্ররা ২১ ফেব্রম্নয়ারি ১৪৪ ধারা ভঙ্গ করে সভা ও মিছিল করার সিদ্ধামত্ম গ্রহণ করে।

দুনিয়া কাঁপানো ৩০ মিনিটঃ ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রম্নয়ারি বেলা ৩.২০ মিনিটে ছাত্রনেতা গাজীউল হকের সভাপতিত্বে ঐতিহাসিক সভা শুরম্ন হয় এবং আর এক ছাত্র নেতা আব্দুল মতিনের প্রসত্মাবে ১৪৪ ধারা ভঙ্গ করে শোভাযাত্রাসহ বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা করার দাবি পেশ করার জন্য প্রাদেশিক পরিষদ ভবনে যাবার সিদ্ধামত্ম হয়। খ- খ- মিছিলসহ রাষ্ট্রভাষা, রাষ্ট্রভাষা- বাংলা চাই, বাংলা চাই স্লোগান দিতে দিতে মিছিলটি ৩.৫০ মিনিটে যখন ঢাকা মেডিকেল কজেল চত্বরের সামনে আসে তখন পুলিশ মিছিলের উপর কাঁদুনে গা্যাস ছোড়ে ও গুলি বর্ষণ করলে সালাম, বরকত, জববারসহ আরো অনেকে শহীদ হয়। ইতিহাসে এই ৩০ মিনিটকে দুনিয়া কাঁপানো ৩০ মিনিট বলে।

পুলিশের গুলি বর্ষণের প্রতিবাদে ২২ ফেব্রম্নয়ারি বিশাল শোভাযাত্রা বের করলে পুলিশ আবার মিছিলের উপর গুলি চালালে শফিউর রহমান শহীদ হন। ২৪ ফেব্রম্নয়ারি শহীদ শফিউরের পিতা ‘‘শহীদ মিনার’’ উদ্ভোদন করেন।

২৬ ফেব্রম্নয়ারি আজাদ প্রত্রিকার সম্পাদক জনাব আবুল কালাম শাসসুদ্দীন আনুষ্ঠানিকভাবে শহীদ মিনার উদ্ভোদন করেন।

১৯৫৩ সালের

 

 

 

১৯৫৩ সালে

৪ ডিসেম্বর সমমনা ৪টি বিরোধী দল ‘‘যুক্তফ্রন্ট’ নামে ঐক্যজোট গঠন করে। যুক্তফ্রন্টের চারটি দল হল-

১) আওয়ামী মুসলীম লীগ (মাওলানা ভাসানীর নেতৃত্বাধীন)

২) কৃষক শ্রমিক পার্টি (এ. কে. ফজলুল হকের নেতৃত্বাধীন)

৩) নেজাম-ই-ইসলাম (মাওলানা আতাহার আলীর নেতৃত্বাধীন) এবং

৪) বামপন্থী গণতন্ত্রী পার্টি (হাজী দানেশের নেতৃত্বাধীন)

 

বঙ্গবন্ধু আওয়ামী মুসলিম লীগের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন।

যুক্তফ্রন্টের নির্বাচনী প্রতীক ছিল-নৌকা, নির্বাচনী ইশতেহার ছিল ২১ দফার।

প্রথম দফাঃ বাংলাকে পাকিসত্মানের অন্যতম রাষ্ট্রভাষা করা।

অন্যান্য দফাঃ ২১ ফেব্রম্নয়ারিকে শহীদ দিবস ও সরকারি ছুটি ঘোষণা করা। এবং

লাহোর প্রসত্মাবের ভিত্তিতে পূর্ব পাকিসত্মানের স্বায়ত্তশাসন কায়েম করা।

১৯৫৪ সালের ১১ মার্চ পূর্ব পাকিসত্মানের প্রাদেশিক নির্বাচনে যুক্তফ্রন্ট ২৩৭টি সাধারণ আসনের মধ্যে ২২৩টি এবং সংরক্ষিত ৭২টি আসনের মধ্যে ১৩টি মোট ৩০৯টি (২৩৭+৭২) আসনে মধ্যে ২৩৬ আসন লাভ করে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা লাভ করে। মুসলিম লীগ মাত্র ৯টি আসন এবং অন্যান্যরা বাকী আসন পায়।

৪ এপ্রিল এ. কে. ফজলুল হকের নেতৃত্বে যুক্তফ্রন্ট পূর্ব বাংলায় মন্ত্রিসভা গঠন করে।

যুক্তফ্রন্টের মন্ত্রীসভা:

ক) এ. কে. ফজলুল হক-মুখ্য মন্ত্রী (৭টি দপ্তরসহ)

খ) জনাব আবুল হোসেন সরকার-অর্থমন্ত্রী

গ) জনবা আজিজুল হক (নান্না মিয়া)-শিক্ষামন্ত্রী

ঘ) জনবা শেখ মুজিবুর রহমান-কৃষি ঋণ, সমবায় ও পল্লী উন্নয়ন মন্ত্রী (পরবর্তীতে শিল্প, বাণিজ্য ও দুর্নীতি দমন দপ্তরের মন্ত্রী ছিলেন)

১১ মার্চ সাধারণ নির্বাচনে বঙ্গবন্ধু গোপালগঞ্জ আসন থেকে মুসলিম লীগের প্রভাবশালী নেতা ওয়াহিদুজ্জামান ঠান্ডু মিয়াকে ১৩ হাজার ভোটের ব্যবধানে পরাজিত করেন এবং ১৫ মে প্রাদেশিক সরকারের কৃষি ও বন মন্ত্রীর দায়িত্ব লাভ করেন।

১৯৫৫ সালে গভর্নর জেনারেল গোলাম মোহাম্মদ এক অধ্যাদেশ বলে পূর্ব পাকিসত্মানের ৪০ জন এবং পশ্চিম পাকিসত্মানের প্রাদেশিক আইনসভা কর্তৃক নির্বাচিত ৪০ জন মোট ৮০ জন সদস্য নিয়ে পাকিসত্মানের  দ্বিতীয় গণপরিষদ গঠন করে। ৫ জুন বঙ্গবন্ধু গণপরিষদের সদস্য নির্বাচিত হন।

 

সালের ৭ জুলাই সকল প্রদেশের নেতাগণ সংবিধান সম্পর্কে মারি চুক্তি (The Murec Fact) স্বাক্ষর করেন।

মারী চুক্তির গুরম্নত্বপূর্ণ কিছু বিধানঃ

১। পাকিসত্মানে দুটি প্রদেশ থাকবে; পূর্ব পাকিসত্মান ও পশ্চিম পাকিসত্মান

২) উভয় প্রদেশকে পূর্ণ আঞ্চলিক স্বায়ত্তশাসন প্রদান করা হবে।

৩) পাকিসত্মানের রাষ্ট্রভাষা হবে বাংলা ও উর্দু।

৫) পাকিসত্মান একটি ইসলামী প্রজাতন্ত্র হবে।

২১ অক্টোবর কাউন্সিল অধিবেশনে আওয়ামী মুসলিম লীগ থেকে ‘মুসলিম’ শব্দ প্রত্যাহার করা হয় এবং বঙ্গবন্ধু পুনরায় আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন।

১৯৫৬ সালের

 

 

 

 

 

 

 

১৯৫৬ সালে

২৩ মার্চ মারী চুক্তির আলোকে পাকিসত্মানের সংবিধান কার্যকর করা হয় এবং ইস্কান্দার মীর্জা পাকিসত্মান ইসলামী প্রজাতন্ত্রের প্রথম প্রেসিডেন্ট নিযুক্ত হন। যার ফলে ১৯৫৬ সালে সংবিধানের মাধ্যমে পাকিসত্মানে রাষ্ট্রপতি শাসিত সরকার পদ্ধতি প্রতিষ্ঠিত হয়।

 

৩০ মে সন্ধায় বেতার ভাষণে পাকিসত্মানের প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী, শেরে বাংলা এ, কে, ফজলুল হককে পাকিসত্মানের দুষমন বলে আখ্যায়িত করেন এবং ৩১ মে পাকিসত্মানের গভর্ণর জেনারেল গোলাম মোহাম্মদ যুক্তফ্রন্ট সরকারকে ৯২ (ক) ধারা মোতাবেক পদচ্যুত করে।

১৬ ডিসেম্বর বঙ্গবন্ধু কোয়ালিশন সরকারের শিল্প, বাণিজ্য, শ্রম, দুর্নীতি দমন ও ভিলেজ এইড দপ্তরের মন্ত্রীর দায়িত্ব লাভ করেন

 

বাংলার নাম পরিবর্তন করে ‘ইসলামী রিপাবলিক অব ইস্ট পাকিসত্মান’ করা হয়। নাম পরিবর্তন করার কারণে বঙ্গবন্ধু সংবিধান বর্জন করেন বা স্বাক্ষর করেন নাই।

১৯৫৭ সালের ৩০ মে দলীয় সিদ্ধামত্ম অনুযায়ী সংগঠনকে সংগঠিত করার জন্য বঙ্গবন্ধু মন্ত্রীসভা থেকে পদত্যাগ করেন।

৭ আগস্ট বঙ্গবন্ধু চীন ও সোভিয়েত ইউনিয়নে সরকারি সফর করেন।

১৯৫৮ সালের ৭ অক্টোবর ইস্কান্দার মীর্জা সামরিক আইন জারি করেন এবং ১৯৫৬ সালের সংবিধান বাতিল করার পাশাপাশি সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল আইয়ুব খানকে প্রধান সামরিক আইন প্রশাসক নিয়োগ করেন।

৭ অক্টোবর আইয়ুব খান সামরিক শাসন জারি করেন এবং ১১ অক্টোবর বঙ্গবন্ধুকে গ্রেফতার করা হয়।

১৯৫৯ Basic Democracy বা মৌলিক গণতন্ত্রঃ ১৯৫৯ সালের ২৭ অক্টোবর জেনারেল আইয়ুব খান ‘‘মৌলিক গণতন্ত্র অধ্যাদেশ’’ জারি করেন। এই অধ্যাদেশ বলে তিনি যে স্থানীয় সরকারের পরিকল্পনা করেন, তার নামকরণ করা হয় Basic Democracy বা মৌলিক গণতন্ত্র। তিনি চার সত্মর বিশিষ্ট মৌলিক গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার ঘোষণা দেন। চারটি সত্মর ছিল-১) ইউনিয়ন পরিষদ ২) থানা পরিষদ ৩) জেলা পরিষদ এবং ৪) বিভাগীয় পরিষদ।

সালে ১৪ মাস কারাভোগের পর বঙ্গবন্ধু মুক্তিলাভ করেন।

 

সালে আইয়ুব খান পাকিসত্মানের শিক্ষা সচিব এস, এ, শরীফকে প্রধান করে ১১ সদস্যবিশিষ্ট শিক্ষা কমিশন গঠন করেন। ১৯৬২ সালে এই কমিশন রিপোর্ট প্রকাশ করে। এই রিপোর্টের মাধ্যমে পাকিসত্মানের দুই অংশের জন্য অভিন্ন বর্ণমালা চালু, অবৈতনিক শিক্ষা বাতিল এবং উচ্চ শিক্ষা লাভের সুযোগ কমিয়ে দেওয়ার প্রসত্মাব করা হয়। এই কমিশন তার রিপোর্টে প্রকাশ করে যে, ‘‘শিক্ষা এমন কোন জিনিস নয় যা বিনামূল্যে পাওয়া যেতে পারে।’’ ১৯৬২ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর ছাত্র সমাজ এই রিপোর্টের প্রতিবাদে মিছিল বের করলে পুলিশ মিছিলে গুলি চালায় এতে ওয়াজিউলস্নাহ, বাবুল এবং মোসত্মফা নামে ৩ জন শহীদ হয়। ১৯৬৪ সালে আইয়ুব খান শরীফ শিক্ষা কমিশনের রিপোর্ট প্রত্যাহার করে।

১৯৬০ সালের ১১ জানু. এক সাধারণ নির্বাচনের মাধ্যমে পূর্ব ও পশ্চিম পাকিসত্মানে ইউনিয়ন সত্মরে (৪০+৪০) ৮০ হাজার মৌলিক গণতন্ত্রী বা Basic Democrats নির্বাচিত হয়।  এই মৌলিক গণতন্ত্রীদের ভোটে আইয়ুব খান ১৯৬২ ও ১৯৬৪ সালে প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন।
১৯৬১ সালে বঙ্গবন্ধু হাইকোর্টে রীট আবেদন করে জেল থেকে মুক্তি লাভ করেন এবং ‘‘স্বাধীন বাংলা বিপস্নবী পরিষদ’’ নামে গোপন সংগঠন প্রতিষ্ঠা করেন
১৯৬২ সালের ১ মার্চ প্রেসিডেন্ট ফিল্ড মার্শাল আইয়ুব খান পাকিসত্মানের দ্বিতীয় সংবিধান ঘোষণা করেন।

৬ ফেব্রম্নয়ারি বঙ্গবন্ধু আবার প্রেপ্তার হন এবং ২ জুন সামরিক শাসনের অবসান হলে ১৮ জুন মুক্তি লাভ করেন।

১৭ সেপ্টেম্বর গণতান্ত্রিক শিক্ষার দাবিতে ছাত্ররা হামিদুর রহমান শিক্ষা কমিশনের বিরম্নদ্ধে প্রতিবাদ করে এবং প্রথমবারের মতো দেশব্যাপী স্বৈরাচার আইয়ুব বিরোধী হরতাল পালন করে।

১৯৬৩ সালের ৫ ডিসেম্বর হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী লন্ডনে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ইমেত্মকাল করেন।
১৯৬৪ সালের ২৫ জানু. মাওলানা আব্দুর রশীদ তর্কবাগীশের বাসভবনে আওয়ামী লীগের ওয়ার্কিং কমিটির সভায় দলকে পুনরম্নজ্জীবিত ও পুনর্গঠিত করা হয়। শেখ মুজিবুরের নেতৃত্বে নবগঠিত আওয়ামী লীগ চারটি দাবি তুলে ধরে-

১। সংসদীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠাকল্পে নতুন সংবিধান প্রণয়ন।  ২। আঞ্চলিক স্বায়ত্তশাসন।

৩) পূর্ব পাকিসত্মানের সামরিক দুর্বলতা নিরসন। এবং               ৪। পাকিসত্মানের নৌবাহিনীর সদর দপ্তর চট্রগ্রামে স্থাপন।

 

আগরতলা মামলার প্রেক্ষাপট: ১১-২১ সেপ্টেম্বর ১৯৬৪ সালে শেখ মুজিবের নেতৃত্বে করাচিতে প্রথম বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। করাচি ছাড়াও ঢাকা, নারায়নগঞ্জ এবং কুমিলস্নায় বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। মুজিবুর রহমান ও মো: আলী রেজা ১২-১৫ জুলাই, ১৯৬৭ আগরতলায় ভারতের ব্রিগেডিয়ার মেনন এবং মেজর মিশ্র এর সাথে বৈঠক করেন।

১৯৬৫ সালের

 

৬ সেপ্টেম্বর ভারত-পাকিসত্মান যুদ্ধ আরম্ভ হয় এবং ১৭ দিন স্থায়িত্ব লাভ করে।

 

পাক-ভারত যুদ্ধের কারণঃ 

পাক-ভারত যুদ্ধের কারণ ছিল মূলত দুটি। যথা-

ক) পূর্ব বাংলার বাঙ্গালি জাতিকে ভারত বিদ্বেষী করে তোলা এবং খ) পূর্ব বাংলার অর্থ পশ্চিম পাকিসত্মানে পাচার করা।

১৯৬৬ সালের

 

 

 

 

১৯৬৬ সালের

১৯৬৬ সালে-

 

৫-৬ ফেব্রম্নয়ারি লাহোরে বিরোধী দলসমুহের জাতীয় সম্মিলনে বঙ্গবন্ধু ৫ ফেব্রম্নয়ারি বাঙ্গালি জাতির মুক্তির সনদ ঐতিহাসিক ৬ দফা পেশ করেন এবং এই কর্মসূচীকে পূর্ব পাকিসত্মানের মুক্তির সনদ বলে অভিহিত করেন।

 

৬ দফা: ক) পাকিসত্মান রাষ্ট্রের প্রকৃতি খ) কেন্দ্রীয় সরকারের ক্ষমতা গ) মুদ্রা  সংক্রামত্ম বিষয় ঘ) খাজনা ধার্য ও সংগ্রহের বিষয় ঙ) আমত্মর্জাতিক বাণিজ্যের ক্ষমতা এবং চ) প্যারা মিলিশিয়া বাহিনী গঠন।

১ মার্চ বঙ্গবন্ধু আওয়ামী লীগের সভাপতি নির্বাচিত হন।

স্বেরাচার আইয়ুব-মোনায়েম সরকার ছয় দফা আন্দোলনকে রাষ্ট্র বিরোধী আন্দোলনের অভিযোগ তুলে ৮ মে বঙ্গবন্ধু ও আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দকে গ্রেফতার করে। এই অন্যায়মূলক আচরণের বিরম্নদ্ধে ১৯৬৬ সালের ৭ জুন ১৪৪ ধারা ভঙ্গ করে প্রদেশব্যাপী সভা-শোভাযাত্রাসহ হরতাল পালনকালে পুলিশের গুলিতে মনু মিয়াসহ ১২ জন শহীদ হন।

আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা
১৯৬৮ সালের

 

 

 

 

 

৩ জানু বঙ্গবন্ধুকে এক নম্বর আসামী করে মোট ৩৫ জন বাঙ্গালির বিরম্নদ্ধে আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা দায়ের করা হয়।

১৭ জানুয়ারি ছয় দফা আন্দোলন ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার অভিযোগে ও দেশরক্ষা আইনে আটক বঙ্গবন্ধুকে ঢাকা  কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে বেকসুর খালাস দেওয়া হয়।

১৮ জানুয়ারি জেল গেটে পা রাখার সাথে সাথে বঙ্গবন্ধু আবার গ্রেপ্তার হন।

২১ এপ্রিল সুপ্রিম কোর্টের সাবেক বিচারপতি জনাব এম.এ. রহমানের নেতৃত্বে একটি বিশেষ ট্রাইব্যুনাল গঠন করা হয়

১৯ জুন কুর্মিটোলা সেনানিবাসে কড়া প্রহরায় আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলার আসামীদের বিচার শুরম্ন হয়।

১১ দফা কর্মসূচী
১৯৬৯ সালের

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

৪ জানু. ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ ঐতিহাসিক ১১ দফা কর্মসূচী ঘোষণা করে। ১১ দফার অন্যতম দফা হচ্ছে-ছয় দফার ভিত্তিতে পূর্ব পাকিসত্মানের স্বায়ত্তশাসন এবং আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলাসহ সকল রাজনৈতিক মামলার অবসান ঘোষণা এবং সকল গ্রেপ্তারী পরোয়ানা ও হুলিয়া প্রত্যাহার।

২০ জানু (আসাদ দিবস) ছাত্রনেতা আসাদুজ্জামান শহীদ হন।

২৪ জানু. পুলিশের গুলিতে  নবকুমার ইন্সটিটিউটের নবম শ্রেণির ছাত্র মতিউর নিহত হন।

১৫ ফেব্রম্নয়ারি আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলার আসামী সার্জেন্ট জহুরম্নল হককে ঢাকা ক্যান্টনমেন্টের অভ্যমত্মরে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়।

১৮ ফেব্রম্নয়ারি পাকিসত্মানি সেনারা অধ্যাপক শামসুজ্জোহাকে নির্মমভাবে হত্যা করে।

২২ ফেব্রম্নয়ারি জনগণের চাপের মুখে কেন্দ্রীয় সরকার আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা প্রত্যাহার করে এবং বঙ্গবন্ধুসহ সকল রাজবন্দীকে মুক্তি দিতে বাধ্য হয়।

২৩ ফেব্রম্নয়ারি রেসকোর্স ময়দানে ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ কর্তৃক সংবর্ধনা দেয়ার সময় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের সভাপতি তোফায়েল আহমেদ, শেখ মুজিবুর রহমানকে ‘‘বঙ্গবন্ধু’’ উপাধিতে ভূষিত করেন।

৫ ডিসেম্বর শহীদ সোহরাওয়ার্দীর মৃত্যুবার্ষিকীতে আওয়ামী লীগের আলোচনা সভায় বঙ্গবন্ধু পূর্ব বাংলার নামকরণ করেন ‘‘বাংলাদেশ’’

১৯৭০

সালের

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

৬ জানু. বঙ্গবন্ধু পুনরায় আওয়ামী লীগের সভাপতি নির্বাচিত হন।

 

১৪ অক্টোবর ছিল পাকিসত্মান জাতীয় পরিষদ নির্বাচনের মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ দিন। ১৬২ টি আসনের মধ্যে ০২টি আসনে আওয়ামীলীগ কোন প্রার্থী দেয়নি। ০১  টি আসন (নান্দাইল, ময়মনসিংহ) বর্ষীয়ান নেতা নুরম্নল আমিনকে এবং অপর আসনটি (পার্বত্য চট্রগ্রাম) চাকমা রাজা ত্রিদিব রায়কে ছেড়ে দেন। রাজা ত্রিদিব রায় ছয় দফা আন্দোলনের বিরোধী ছিল।  ছয় দফা কার্যকর হলে তিনি চাকমা রাজা হিসেবে তার স্বায়ত্তশাসন বিলোপ হওয়ার আশঙ্কা করেছিলেন। বঙ্গবন্ধু তার দলের পÿÿ নির্বাচনে দাঁড়ানোর জন্য ত্রিদিব রায়কে আহবান জানালে তিনি সেই অনুরোধে সাড়া না দিয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করেন। যেহেতু তারা দু’জনই পূর্ব পাকিসত্মানের অধিবাসি ছিল হয়তো সে কারণে বঙ্গবন্ধ ঐ সময় এবং পরবর্তীতে তাদের সমর্থন আশা করেছিলেন। তাই দলীয় প্রধান হিসেবে তিনি ঐ দুই আসনে আওয়মী লীগের পÿÿ কোন প্রার্থী দেননি। কিন্তু মুক্তিযুদ্ধ শুরম্ন হলে ঐ দুইজন পাকিসত্মানের পÿ অবলম্বন করেন। রাজা ত্রিদিব রায়ের বিরোধিতার কারণে চাকমা’রা পাকিসত্মানের পÿÿ যুদ্ধ করে। স্বাধীনতার পরে রাজা ত্রিদিব রায় এবং নুরম্নল আমিন পাকিসত্মানে চলে যায়।

 

১৭ অক্টোবর নৌকাকে আওয়ামীলীগের নির্বাচনী প্রতীক হিসেবে বেছে নেওয়া হয়।

 

২৮ অক্টোবর, ১৯৭০

রেডিও পাকিসত্মান, ঢাকা, পূর্বপাকিসত্মান

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান তাঁর ৩০ মিনিটের নির্বাচনী ভাষণে বলেন,

‘‘আমি আপনাদের এমন এক দেশ উপহার দিতে চাই যে দেশে সকল নাগরিকের সমান অধিকার থাকবে। সংখ্যালঘু বলে কোন কিছুতে আমরা বিশ^াস করি না’’

ছয় দফা দাবীর সাথে পাকিসত্মানের ভাঙ্গনের কিংবা ইসলামের কোন সংঘাত নেই দাবী করে বলেন,

‘‘যা ধর্মের সাথে ধর্মের এবং মানুষের প্রতি বিদ্বেষ সৃষ্টি করে তা ইসলাম পরিপন্থি, ছয় দফা ইসলাম পরিপন্থি নয়।’’

বৈদেশিক নীতি সম্পর্কে তিনি আরো বলেন-

‘‘প্রতিবেশীদের সাথে সম্পর্কের উন্নয়নই পাকিসত্মানের জন্য মঙ্গলজনক হবে। কাশ্মীর সমস্যার একটি ন্যায়সঙ্গত সমাধান হতে হবে জাতিসংঘ সনদের আওতায়, সমাধান করতে হেব ফারাক্কা সমস্যার যা বাংলাকে বড় বিপর্যয়ের মুখে ঠেলে দিচ্ছে।’’

 

১২ নভেম্বর বাংলাদেশের উপর দিয়ে প্রলয়ংকারী ঘূর্ণীঝড় আঘাত হানে। এ ঝড়ে লক্ষ লকষ মানুষ ও জীবজন্তুর ব্যাপক প্রাণহানি ঘটে। কিন্তু পাকিসত্মানী শাসক গোষ্ঠী এ বিপর্যয়ের দিনে কোন সহযোগিতার হাত বাড়ায়নি। বাঙ্গালির চরম বিপর্যয়ে বঙ্গবন্ধু এবং মাওলানা ভাসানীসহ অন্যান্য আওয়ামী লীগ নেতারা নির্বাচনী প্রচার বাদ দিয়ে দুর্গত মানুষের সেবায় ঝাপিয়ে পড়ে।

 

২৩ নভেম্বর, ১৯৭০

পল্টন ময়দান, ঢাকা, পূর্ব পাকিসত্মান

ভোলা সাইক্লোনে উপদ্রম্নত এলাকা পরিদর্শন শেষে মজলুম জননেতা মাওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানী ৯০ বছর বয়সে লাখো জনতার বিশাল র‌্যালি নিয়ে ঐতিহাসি পল্টন ময়দানে ভাষণ দেন। ঐ ভাষণে তিনি তীব্র ভাষায় পশ্চিম পাকিসত্মানীদের আক্রমণ করে বলেন পশ্চিম পাকিসত্মানীদের সাথে বাংলার আর কোন সম্পর্ক থাকতে পারে না এবং সেই সাথে দাবী জানান পূর্ব পাকিসত্মানের স্বাধিনতার। তিনি আরো ঘোষণা করলেন, তার দল ন্যাপ জাতীয় ও প্রাদেশিক পরিষদ নির্বাচনে অংশ গ্রহণ না করে সাইক্লোন দুর্গত মানুষের সাহায্যে কাজ করে যাবে।

নির্বাচন বর্জন সম্পর্কে পরবর্তীতে তিনি বলেন, আমি যদি নির্বাচনে অংশ নিতাম তাহলে বাংলার ভোটাররা দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে যেত, মত পার্থক্য আরো বাড়তো। আর তাতে করে স্বাধীনতা যুদ্ধের সূচনাই হয়তো সম্ভব হত না। তাই আমি ভাবলাম মুজিবকেই জয়ী হতে দেয়া যাক যাতে করে আঞ্চলিক স্বাধিনতা আসতে পারে। যদিও তা জনগণের প্রকৃত আকাঙÿার প্রতিফলন ঘটাতো না।

মাওলানা সঠিকভাবেই জানতেন তিনি কি করতে যাচ্ছেন। তিনি তাঁর ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টিকে গুটিয়ে আনলেন, কেবল পূর্বের এই দল সক্রিয় রইলো। যদিও এই পদÿÿপ অনেক নেতাকে অসন্তুষ্ট করেছিল। হাজী মোঃ দানেশ এর মতো নেতাও ন্যাপ থেকে বেরিয়ে যান কিন্তু মাওলানা নিজের সিদ্ধামেত্ম অনড় রইলেন।

 

৭ ডিসেম্বর সাধারণ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ তৎকালীন পূ্র্ব পাকিসত্মানের জাতীয় পরিষদে ১৬৯টি আসনের মধ্যে ১৬৭ টি আসন লাভ করে নিরঙ্কুশ সংখ্যা গরিষ্ঠতা লাভ করে এবং প্রাদেশিক পরিষদের ৩১০টি আসনের মধ্যে ৩০৫টি আসন লাভ করে।

 

৭ ডিসেম্বর, ১৯৭০

পাকসত্মান স্বাধীন হওয়ার পর সর্বপ্রথম সমগ্র পাকিসত্মানে গণতান্ত্রিক নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। মোট ১৫৭০ জন প্রার্থী নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে। ৭৬৯ জন পূর্ব পাকিসত্মানে এবং ৮০১ জন পশ্চিম পাকিসত্মানে। এই নির্বাচনে ৬০% ভোটার ভোট প্রদান করেন। নির্বাচনে আওয়ামী লীগ নিরংকুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে।

 

৮ ডিসেম্বর, ১৯৭০

নির্বাচনের পরপরই ইয়াহিয়া সরকারের একজন সিনিয়র মন্ত্রী প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়াকে বলেন-

‘‘যদি ভুট্টো এক বছরের মধ্যে প্রধানমন্ত্রী না হতে পারেন তবে উনি নিশ্চিতভাবেই পাগলে পরিণত হবেন।’’

 

১৭ ডিসেম্বর, ১৯৭০

ঢাকা, পূর্ব পাকিসত্মান

শেখ মুজিবুর রহমান ঘোষণা করলেন, ‘‘বাংলাদেশের অভ্যুদয় কেউ ঠেকাতে পারবেনা যদিনা ÿমতা দ্রম্নত হসত্মামত্মর করা হয়।’’

ভুট্টো পাকিসত্মান থেকে এর প্রতিউত্তরে বললেন, ‘‘পাকিসত্মান পিপলস পার্টির সহযোগিতা ছাড়া কোন সংবিধান গ্রহণযোগ্য হবে না, কেন্দ্রে ÿমতায় যেতে পারবে না কোন দল।’’

২৮ ডিসেম্বর, ১৯৭০

করাচি, পশ্চিম পাকিসত্মান

সমস্যার সমাধানের জন্য প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খান করাচি পৌঁছান। অন্যান্য অনেক নেতার পাশাপাশি তিনি জুলফিকার আলী ভুট্টোর সাথেও সাÿাৎ করেন। ভুট্টোর সাথে বৈঠকের স্থায়িত্ব ছিল কয়েক ঘন্টা, একদম একামেত্ম। সেখানে তাদের কোন কোন বিষয়ে সিদ্ধামত্ম হয়েছিল তা কেউ জানতে পারে নি।  তবে ‘অপারেশন বিস্নটজ’ এর সিক্যুয়েল ‘অপারেশন সার্চ লাইট’ এর ব্যাপারে হয়তো ভুট্টোকে এই বৈঠকে জানানো হয়েছিল বলে ধারণা করা হয়। কারণ, পরবর্তী ঘটনা প্রবাহ তেমনই নির্দেশ করে।

গৌরবময় ও অগ্নিঝরা-৭১
১৯৭১

সালের

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

৩ জানুয়ারি, ১৯৭১

রমনা রেসকোর্স ময়দান, ঢাকা, পূর্ব পাকিসত্মান

ইয়াহিয়া খান অন্য কোন পদÿÿপ নেওয়ার আগেই শেখ মুজিবুর রহমান এক জন সমাবেশে ভাষণ দেন। তিনি সেখানে উপস্থিত সকল নির্বাচিত সাংসদদের শপথ নেয়ালেন যে তারা বাংলাদেশ ব্যতিরেকে অন্য কিছুই মেনে নেবেন না।

 

১১ জানুয়ারি মুজিব-ইয়াহিয়া ঢাকায় বৈঠক করেন।

১২ জানুয়ারি, ১৯৭১

ঢাকা, পূর্ব পাকিসত্মান

শেখ মুজিবুর রহমানের অনড় অবস্থানের পরিবর্তন ঘটাতে আলোচনার জন্য প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খান ঢাকায় উঠে আসলেন। বঙ্গবন্ধুর সাথে তার দীর্ঘ সময় আলোচনা হলো।

১৩ জানুয়ারি প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খান করাচি পৌঁছান। বিমানবন্দরে নেমে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন- ‘‘ শেখ মুজিবুর রহমান হবেন পাকিসত্মানের পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী, তবে তখন তিনি (ইয়াহিয়া) থানবেন না।’’

২৭ জানুয়ারি জুলফিকার আলী ভুট্টো আলোচনার জন্য তিন দিনের সফরে ঢাকায় আসেন।  পাকিসত্মানের দুই অংশে দুই প্রধানমন্ত্রী হয়ে ÿমতার ভাগাভাগির শর্ত দিয়ে ভুট্টো শেখ মুজিবুর রহমানকে বলেন-‘‘এখানে (পূর্ব পাকিসত্মানে) তুমি আর ওখানে (পশ্চিম পাকিসত্মানে) আমি।’’ ভুট্টো নিজেই হয়তো দেশটাকে এক অংশ মনে করতেন না।

 

০৫ ফেব্রম্নয়ারি, ১৯৭১

রাওয়ালপিন্ডি, পশ্চিম পাকিসত্মান

সামরিক অভিযানের পূর্ব পরিকল্পনা

০৫ ফেব্রম্নয়ারি, ১৯৭১ সালে রাওয়ালপিন্ডিতে জেনারেল হেডকোয়ার্টারের কনফারেন্স রম্নমে উচ্চ পর্যায়ের সরকারি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয় যেখানে কোন এক অজানা কারণে পূর্ব পাকিসত্মানের কোন সামরিক কর্মকর্তা উপস্থিত ছিল না কিংবা তাদের রাখা হয়নি। মার্শাল ল জারী থাকায় কোন বেসামরিক প্রতিনিধিও নেই। প্রায় বেশির ভাগই ছিল সেনা বাহিনীর জেনারেল আর অল্প কয়েকজন বিমানবাহিনী এবং নৌবাহিনীর জেনারেল। পূর্ব পাকিসত্মানের প্রতিনিধি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ভাইস এডমিরাল আহসান, উপস্থিত ছিলেন লেঃ জেঃ ইয়াকুব খান, জিওসি ইস্টার্ন কমান্ড এবং ইস্টার্ন এয়ার কমান্ডের কমান্ডার এয়ার কমোডোর মোঃ জাফর মাসুদ। মিটিং এ ঢুকেই ভাইস এডমিরাল আহসান বুঝতে পারলেন খুব গুরম্নত্বপূর্ণ কোন ব্যাপারে সিদ্ধামত্ম নেওয়ার জন্যই সবাইকে এখানে ডাকা হয়েছে। আর এটা খুব সম্ভব পূর্ব পাকিসত্মানের ব্যাপারেই হবে, কেননা মিটিং এ কোন বাঙ্গালি অফিসার উপস্থিত নেই। সেনা প্রধান জেনারেল হামিদ সর্বপ্রথম প্রেসিডেন্টের পÿÿ সভার বিষয় বস্ত্ত সবাইকে বুঝিয়ে বললেন। আওয়ামী লীগসহ অন্যান্য রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীদের নির্মুল করাসহ পূর্ব পাকিসত্মানের বাঙ্গালিরা যেন আর কখনো কোন সমস্যা তৈরি করা সাহস পর্যমত্ম না করে সেজন্য নির্মম এক সামরিক অভিযানের প্রয়োজনীতার কথা তুলে ধরলেন। প্রায় সকল জেনারেল এবং সামরিক গভর্নররাই একবাক্যে সমর্থন জানালেন। কেবল ভাইস এডমিরাল আহসান, লেঃ জেঃ সাহেবজাদা ইয়াকুব খান (জেনারেল অফিসার কমান্ডিং ইস্ট পাকিসত্মান) এবং ইয়ার কমোডোর জাফর মাসুদসহ অল্প কয়েকজন অফিসার বারবার তাদের বিরোধিতা করছিলেন।

সেনাপ্রধান জেনারেল হামিদ এডমিরাল আহসানকে কটাÿ করে বললেন, ‘‘আপনাকে এতোটা ভীরম্ন আর কাপুরম্নষ মনে করতাম না।’’

জেনারেল টিক্কা খান সামরিক বাহিনীর সিনিয়রিটির কথা ভুলে গিয়ে বললেন-‘‘আপনি তো বাঙ্গালিদের কাছে বিক্রি হয়ে গেছেন।’’

গোপন সামরিক অভিযানের পরিকল্পনায় বিরোধিতা করার কারণে প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খান ভাইস এডমিরাল আহসানকে পূর্ব পাকিসত্মানের গভর্ণর পদ থেকে অপসারণ করেন।

 

১৩ ফেব্রম্নয়ারি, ১৯৭১

করাচী, পশ্চিম পাকিসত্মান

প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খান ঘোষণা করেন ৩ মার্চ ঢাকায় জাতীয় পরিষদের প্রথম অধিবেশন অনুষ্ঠিত হবে।

 

১৫ ফেব্রম্নয়ারি, ১৯৭১

লাহোর, পশ্চিম পাকিসত্মান

পিপিপি নেতা জুলফিকার আলী ভুট্টো ঘোষণা করেন-‘‘আমার দল অধিবেশনে যোগ দেবেনা যতÿণ পর্যমত্ম আওয়ামী লীগ ছয় দফা দাবী থেকে সরে না আসছে।’’

১৬ ফেব্রম্নয়ারি বঙ্গবন্ধু পার্লামেন্টের নেতা নির্বাচিত হন।

১৬ ফেব্রয়ারি ঘোষণা করা হয় যে, আগামী ৩ মার্চ ঢাকায় জাতীয় পরিষদের অধিবেশন বসবে।

 

১৭ ফেব্রম্নয়ারি, ১৯৭১

লাহোর, পশ্চিম পাকিসত্মান

পিপিপি নেতা ভুট্টো ঘোষণা করলেন তার দল সংসদ অধিবেশনে যোগ দেবেনা। তিনি আরো বললেন-‘‘যে অধিবেশনে যোগ দিতে ঢাকা যেতে চাইবে তার পা ভেঙ্গে দেয়া হবে।’’

 

২২ ফেব্রম্নয়ারি, ১৯৭১

হেডকোয়ার্টার থেকে সেনাপ্রধান জেনারেল হামিদ প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়ার সম্মাতিক্রমে পূর্ব পাকিসত্মানে কঠোর সামরিক অভিযানের নির্দেশ দেন এবং অনতিবিলম্বে কোয়েটা থেকে ১৬ ইনফ্যান্ট্রি ডিভিশন ও খাইরান থেকে ৯ ডিভিশনকে দ্রম্নত পূর্ব পাকিসত্মানে মুভ করতে নির্দেশ দেন।

 

১ মার্চ, ১৯৭১ সালে পাকিসত্মানের স্বঘোষিত প্রেসিডেন্ট জেনারেল ইয়াহিয়া খান ভুট্টোর সাথে আলোচনা করে আকস্মিকভাবে ঘোষণা করেন যে, ৩ মার্চের জাতীয় পরিষদের পূর্বনির্ধারিত অধিবেশন মার্চের ২৯ তারিখ পর্যমত্ম স্থগিত করা হল।  সেই সময় বঙ্গবন্ধুসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ জাতীয় পরিষদের অধিবেশন সফল করতে হোটেল পূর্বাণীতে পাকিসত্মানের সংবিধানের খসড়া তৈরীতে ব্যসত্ম ছিলেন। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান পাকিসত্মান জাতীয় পরিষদের অধিবেশন বাতিল করাকে গভীর ষড়যন্ত্র উলেস্নখ করে  আন্দোলন-সংগ্রামের প্রস্ত্ততি নিতে উপস্থিত হাজারো জনতাকে আহবান জানান। সেখানেই তিনি ১ মার্চ দেশব্যাপী অসহযোগের আহবান জানান এবং ২ মার্চ ঢাকায় ও ৩ মার্চ দেশব্যাপী হরতাল পালনের ঘোষণা দেন।

১ মার্চ পূর্ব পাকিসত্মানে সামরিক অভিযানের পরিকল্পনার প্রতিবাদ করায় প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খান এডমিরাল আহসানকে পূর্ব পাকিসত্মানের গভর্ণর পদ থেকে অপসারণ করেন।

১ মার্চ বঙ্গবন্ধুর নির্দেশে ‘‘স্বাধীন বাংলা ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ’’ গঠন করা হয়।

২ মার্চ ঢাকায় শামিত্মপূর্ণ হরতাল পালন।

২ মার্চ সকাল ১১ টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বটতলায় ছাত্র সমাবেশে আ.স. ম. আব্দুর রব বাংলাদেশের মানচিত্র খচিত পতাকা উত্তোলন করেন।    মানচিত্র খচিত পতাকার রূপকার ছিলেন শিব নারায়ন দাস এবং একেঁছিলেন শিল্পী কামরল হাসান।

২ মার্চ, ১৯৭১ থেকে পূর্ব বাংলার সমসত্ম প্রশাসনিক কাজকর্ম চলতে থাকে বঙ্গবন্ধুর নির্দেশে।

 

৩ মার্চ পল্টন ময়দানের জনসভায় ছাত্রলীগের তৎকালীন সাধারণ সম্পাদক শাহজাহান সিরাজ স্বাধীনতার ইশতেহার ঘোষণা করেন।

স্বাধীনতার এশতেহারে-

বাংলাদেশের নামকরণ করা হয় ‘‘গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ’’।

রবী ঠাকুরের স্বদেশী কবিতার প্রথম ১০ চরন জাতীয় সংগীত হিসাবে গ্রহণ করা হয়।

বঙ্গবন্ধুকে স্বাধীনতা সংগ্রামের সর্বাধিনায়ক ঘোষণা করা হয়।

৩ মার্চ ‘‘স্বাধীন বাংলা ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ’’ পল্টন সমাবেশে স্বাধীনতার ইশতেহার পাঠ করে এবং বঙ্গবন্ধুকে বাংলাদেশের সর্বাধিনায়ক ঘোষণা করে।

৩ মার্চ থেকে ৬ মার্চ পর্যমত্ম প্রতিদিন সকাল ৬টা থেকে দুপুর ২টা পর্যমত্ম সমগ্র বাংলাদেশে হরতাল পালিত হয়।

৩ মার্চ, ১৯৭১ সালে পাঞ্জাব পাকিসত্মান ফ্রন্ট (পিপিএফ) ভুট্টোর ভূমিকার চরম নিন্দা করেন। তারা বাংলার জনগণের প্রতি অত্যাচার বন্ধের আহবান জানান।

৩ মার্চ, ১৯৭১ সালে ছাত্রনেতা আ স ম আব্দুর রব ছাত্র জনতার পÿÿ আনুষ্ঠানিকভাবে ‘আমার সোনার বাংলা’ গানের সঙ্গে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন। সেই সাথে তারা ঘোষণা করলেন-‘‘আজ থেকে বাংলাদেশ স্বাধীন।’’

৩ মার্চ, ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণা পত্রে ‘আমার সোনার বাংলা আমি তোমায় ভালবাসি’ বাংলাদেশের জাতীয় সঙ্গীত হিসেবে গৃহীত হয় ।

৪ মার্চ, ১৯৭১ সালে বঙ্গবন্ধু সকল ব্যাংকে সরকারী এবং আধা সরকারী কর্মচারীদের বেতন পরিশোধের জন্য নির্দেশ দেন। দুপুর ২.৩০ থেকে বিকাল ৪.৩০ পর্যমত্ম শুধু বেতন পরিশোধের জন্য ব্যাংক খোলা রাখতে বলেন এবং সর্বোচ্চ বেতন পরিশোধের সীমা নির্ধারণ করে দেন ১৫০০ টাকা।

 

৪ মার্চ রেডিও পাকিসত্মানের নাম পরিবর্তন করে ঢাকা বেতার কেন্দ্র নাম রাখা হয়।

৫ মার্চ পাকিসত্মানের টিক্কা খান ও আগা খান ঢাকায় আসেন।

৫ মার্চ, ১৯৭১ সালে মার্শাল ল অথরিটি সেনাবাহিনীকে ব্যারাকে ফিরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধামত্ম নেন। দেশব্যাপী আন্দোলন জোরদার হতে থাকে।

৬ মার্চ, ১৯৭১ সালে আন্দোলনরত জনগণকে সমর্থন জানাতে সরকারি কর্মকর্তা কর্মচারীরা আন্দোলনে যোগ দেয়।

৬ মার্চ ইয়াহিয়া খান পুনরায় ঘোষণা করেন যে, আগামী ২৫ মার্চ ঢাকায় জাতীয় পরিষদের অধিবেশন বসবে।

৭ মার্চের বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক ভাষণকে মস্নান করে দেওয়ার লÿÿ্য এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে, ইয়াহিয়া খান ৬ মার্চ জাতির উদ্দেশ্যে ভাষণ দিয়ে ১০ মার্চ গোলটেবিল বৈঠক এবং ২৫ মার্চ জাতীয় পরিষদের অধিবেশন ডাকার ঘোষণা দেন। তিনি লে. জে. টিক্কা খানকে পূর্ব পাকিসত্মানের নতুন গভর্ণর হিসেবে নিয়োগ দেন।

 

৭ মার্চ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ঢাকার রেসকোর্স ময়দানে (বর্তমান সোহরাওয়ার্দী উদ্যান) এক ঐতিহাসিক ভাষণ প্রদান করেন। এই ভাষণে তিনি ২৫ মার্চ জাতীয় পরিষদের অধিবেশনের আগেই চার দফা দাবি পেশ করেন:

অবিলম্বে ‘মার্শাল ল’ প্রত্যাহার করতে হবে।

সামরিক বাহিনীব্যোরাকে ফিরে যেতে হবে।

যেভাবে হত্যা করা হয়েছে তার তদমত্ম করতে হবে।

২৫ মার্চ জাতীয় পরিষদের অধিবেশনের আগে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের হাতে ÿমতা হসত্মামত্মর

করতে হবে। রেসকোর্স ময়দানে ঐতিহাসিক ৭ মার্চের ভাষণে স্বাধীনতার প্রচ্ছন্ন ঘোষণা দেন।

 

বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণের পর-

৮ মার্চ থেকে দলমত নির্বিশেষে অসহযোগ আন্দোলন শুরম্ন হয়।

৮ মার্চ থেকে রেডিও পাকিসত্মান, ঢাকা না বলে রেডিও ঢাকা বলে সম্ভোধন করা হয়েছিল এবং পরবর্তীতে আর কখনো রেডিও পাকিসত্মান, ঢাকা বলা হয়নি।

৮ মার্চ পূর্ব পাকিসত্মান ছাত্রলীগ এর নামকরণ শুধু ‘ছাত্রলীগ’ ঘোষণা করা হয় এবং স্বাধীন বাংলাদেশ ছাত্র সংয়গ্রমা পরিষদ গঠনের আহবান জানানো হয়।

৯ মার্চ মাওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানী পল্টন ময়দানে এক ভাষণে ইয়াহিয়াকে উদ্দেশ করে বলেন-‘‘ ইয়াহিয়া কে বলি, অনেক হইয়াছে আর নয়। তিক্ততা বাড়াইয়া আর লাভ নাই। ‘লাকুম দিনুকুম আলিয়াদ্বীন’ (তোমার ধর্ম তোমার আমার ধর্ম আমার) এর নিয়মে পূর্ব বাংলার স্বাধীনতা স্বীকার করে নাও। শেখ মুজিবের নির্দেশমত আগামী ২৫ তারিখের মধ্যে কোন কিছু করা না হলে আমি শেখ মুজিবুর রহমানের সঙ্গে মিলিত হয়ে ১৯৫২ সালের ন্যায় তুমুল আন্দোলন গড়ে তুলবো।’’ ভাষানী এদিন ১৪ দফা ঘোষণা করেন।

১০ মার্চ সরকারী ও আধা সরকারী সংস্থার প্রতি আওয়ামীলীগের পÿ থেকে তাজউদ্দিন আহমেদ নির্দেশাবলী দেন। 

১১ মার্চ ছাত্র ইউনিয়ন কর্তৃক স্বাধীন পূর্ব বাংলা কায়েমের সংগ্রামের আহবান। জনগণের প্রতি ছাত্র ইউনিয়নের যে আহবান ছিল-

রাজনৈতিক প্রচার অব্যাহত রাখুন। গ্রাম অঞ্চলে কৃষকদের মধ্যে ছড়াইয়া দিন।

সর্বত্র ‘সংগ্রাম কমিটি’ ও ‘গণবাহিনী’ গড়িয়া তুলুন।

শত্রম্নর মোকাবেলায় প্রস্ত্তত থাকুন।

যে কোন রূপ দাঙ্গা-হাঙ্গামা-উষ্কানী  প্রতিরোধ করম্নন।

শামিত্ম-শৃঙ্খলা নিজ উদ্যোগে বজায় রাখুন।

এই সংগ্রামের সফলতার জন্য সকল গণতান্ত্রিক সংগ্রাম শক্তির একতা গঠনের জোর আওয়াজ তুলুন।

১৩ মার্চ আওয়ামীলীগের প্রতি জাতীয় পরিষদের সংখ্যালঘিষ্ট দলগুলোর সমর্থন।

১৫ মার্চ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সাথে বৈঠকের উদ্দেশ্যে ভুট্টো ঢাকায় আসে। কিন্তু একটি প্রেস কনফারেন্সে ভুট্টো ঘোষণা দেন ‘সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভিত্তিতে সরকা গঠন করবেন না’।

১৫ মার্চ প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খান ঢাকায় পৌঁছে ঘোষণা করেন যে সমস্যা সমাধানের পথ এখনো রম্নদ্ধ হয়ে যায়নি। তিনি অতি দ্রম্নত সকল সমস্যার সমাধান হবে বলে আশা প্রকাশ করেন। তিনি আরো বলেন-‘‘সব ব্যবস্থা করেই এসেছি, কেবল অপেÿার পালা’’। সব ব্যবস্থা বলতে হয়তো তিনি অমত্মর্নিহিতভাবে সামরিক অভিযানের কথাই বুঝাতে চেয়েছিলেন।

১৮ মার্চ অসহযোগ আন্দোলন ১৬ দিনে পদার্পণ করে। এই আন্দোলনের ঢেউ গ্রাম থেকে গ্রামামত্মরে ছড়িয়ে পড়ে।

১৯ মার্চ গাজীপুরে সর্বপ্রথম ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট সশস্ত্র প্রতিরোধ গড়ে তোলে।

২০ মার্চ জয়দেবপুরের রাজবাড়ীতে অবস্থিত ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের একটি ব্যাটেলিয়ন তাদের কাছ থেকে হাতিয়ার ছিনিয়ে নেওয়ার ষড়যন্ত্র নস্যাৎ করে দেয়। নবনির্বাচিত জাতীয় পরিষদ সদস্য শামসুল হকের নেতৃত্বে গ্রামের পর গ্রাম থেকে মানুষ এসে প্রতিরোধ গড়ে তোলে। সবাই মিলে টঙ্গী-জয়দেবপুর মোড়ে ব্যারিকেড গড়ে তোলে।

২০ মার্চ, ১৯৭১ সালে ১৬ প্যারা সম্বলিত পাঁচ পৃষ্ঠার অপারেশন সার্চলাইট পরিকল্পনাটি অনুমোদনের জন্য

জেনারেল টিক্কা খান ও জেনারেল হামিদের কাছে পেশ করা হয়।

২১ মার্চ ভুট্টো আলোচনার জন্য ঢাকায় আসেন। তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, অতি অল্প সময়ের মধ্যেই সকল সমস্যার সমাধান হবে, এ ব্যাপারে তিনি নিশ্চিত।

২২ মার্চ নাগাদ শহর থেকে গ্রাম পর্যমত্ম স্বাধীনতার জন্য বাঙ্গালী সংগ্রামে গর্জে ওঠে। যতই দিন গড়াচ্ছিল, রাজনৈতিক সঙ্কট ততই গভীরতর হচ্ছিল।

২৩ মার্চ পাকিসত্মানের জাতীয় দিবসে বঙ্গবন্ধু তাঁর নিজ বাসভবনে উত্তোলন করেন মানচিত্রখচিত লাল সবুজ পতাকা।

২৩ মার্চ পাকিসত্মানের জাতীয় দিবস আওয়ামী লীগ প্রতিরোধ দিবস হিসেবে পালন করেন। ফলাফলবিহীন আলোচনা চলতে থাকে। সর্বত্র বাংলাদেশের নতুন জাতীয় পতাকা উত্তোলিত হয়। 

২৫ মার্চ পাক হানাদার বাহিনী পৈশাচিকভাবে ঘুমমত্ম বাঙ্গালির উপর ঝাপিয়ে পড়ে। ২৫ মার্চ রাত ১২টার পর তথা ২৬ মার্চ পাক সেনাদের হাতে বন্দী হবার পূর্বে বঙ্গবন্ধু টিএন্ডটি এবং ইপিআর এর ওয়ারলেসের মাধ্যমে গুরম্নত্বপূর্ণ স্থানে স্বাধীনতার ঘোষণা পৌঁছে দেন। রাত ১.১০ (২৬ মার্চ)  মিনিটে তাকে গ্রেফতার করে প্রথমে ঢাকা সেনানিবাসে এবং পরে পাকিসত্মানের মিয়াওয়ালী কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয়।

২৬ মার্চ বেলা প্রায় ২.৩০ মিনিটের সময় চট্রগ্রাম জেলা আওয়ামী লীগের তৎকালীন সভাপতি এম.এ. হান্নান চট্রগ্রাম বেতার কেন্দ্র থেকে সর্বপ্রথম বঙ্গবন্ধুর স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র পাঠ করেন।

২৬ মার্চ সন্ধ্যা ৭.৪০ মিনিটে বঙ্গবন্ধুর স্বাধীনতা সম্পর্কিত ঘোষণার বাংলা অনুবাদ উপস্থাপন করেন আবুল কাশেম সন্ধীপ। আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দ বঙ্গবন্ধুর স্বাধীনতর ঘোষণা একজন সামরিক কর্মকর্তার দ্বারা পাঠ করার গুরম্নত্ব অনুধাবন করে নিকটস্থ সামরিক কর্মকর্তাদের মধ্যে পদমর্যাদায় সিনিয়র মেজর জিয়াউর রহমানকে স্বাধীনতার ঘোষণা পাঠের অনুরোধ করেন।

২৭ মার্চ সন্ধ্যাবেলা কালুরঘাট স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র থেকে মেজর জিয়াউর রহমান বঙ্গবন্ধুর পক্ষে স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র পাঠ করেন।

৩১ মার্চ তাজউদ্দিন আহমেদ চুয়াডাঙ্গা সীমামত্ম দিয়ে ভারতে যান এবং ৪ এপ্রিল ইন্দিরা গান্ধীর সাথে দেখা করেন।

১০ এপ্রিল প্রবাসী সরকার গঠন করা হয়। ১০ এপ্রিল জারিকৃত স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র পাঠ করেন অধ্যাপক ইউসুফ আলী। এটি কার্যকর করা হয় ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ থেকে।

১০ এপ্রিল বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র গৃহীত হয়।

১৭ এপ্রিল স্বাধীন বাংলাদেশের ঘোষণাপত্র পাঠ করা হয়।

১৭ এপ্রিল ভারতের কলকাতাস্থ বিদেশী মিশনে সর্বপ্রথম বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়।

১৭ এপ্রিল মেহেরপুরের বৈদ্যনাথতলা ইউনিয়নের ভবের পাড়া গ্রামে (বর্তমান নাম-মুজিবনগর; নামকরণ করেন-প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দীন আহমেদ) প্রবাসী সরকার শপথ গ্রহণ করে। উক্ত শপথ অনুষ্ঠানে পার্শ্ববর্তী এলাকার লোকজন ছাড়াও বিপুল সংখ্যক সাংবাদিক উপস্থিত ছিলেন।

 

শহীদ সাগর: ১৯৭১ সালের ৫ মে নাটোরের লালপুরে অবস্থিত নর্থ বেঙ্গল সুগার মিলের প্রশাসক আনোয়ারম্নল আজিমসহ ৪৯ জন মুক্তিযোদ্ধাকে হত্যা করে পাকিসত্মানের সেনারা একটি পুকুরে ফেলে দেয়। শহীদদের অমর আত্মার প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করে পরবর্তীতে ঐ পুকুরটির নামকরণ করা হয় ‘শহীদ সাগর’।

 

১ আগস্ট নিউইয়র্ক সিটির ম্যাডিসন স্কয়ার গার্ডেনে প্রায় ৪০,০০০ দর্শকের উপস্থিতিতে ‘দ্য কনসার্ট ফর বাংলাদেশ’ এর আয়োজন করা হয়।

 

ভারত-সোভিয়েত মৈত্রী চুক্তি: ৩ আগস্ট, ১৯৭১ সালে ভারত ও সোভিয়েত ইউনিয়নের মধ্যে একটি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয় যেখানে বলা হয় যে, যদি কোন দেশ আক্রামত্ম হয় তাহলে অপর দেশ তার পক্ষে অবস্থান নেবে।   

৯ আগস্ট পাকিসত্মান সরকার বিশেষ আদালতে বঙ্গবন্ধুর বিচারের ঘোষণা দেয়।

 

১০ আগস্ট, ১৯৭১ সালে ভারতের প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী চবিবশটি দেশের রাষ্ট্রপ্রধানের কাছে একটি র্বার্তা পাঠান গোপন বিচারের প্রতিবাদ ও মুজিবের মুক্তির দাবি জানিয়ে। 

 

১১ আগস্ট এই বিচার গোপনে (Camera Trial) করা হবে বালে জানানো হয়।

(পাকিসত্মানের সাবেক মন্ত্রী-কে. এম. ব্রোহী কে বঙ্গবন্ধুর পক্ষে কৌশুলী হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়)

 

বঙ্গবন্ধুর প্রাণ রক্ষার জন্য উদ্যোগ গ্রহণকারী বিশ্ব নেতৃবৃন্দ:

১১ আগস্ট শ্রীমতি ইন্দিরা গান্ধী বঙ্গবন্ধুর প্রাণ রক্ষার জন্য বিশ্ব নেতৃবৃন্দের প্রতি আহবান জানান।

১২ আগস্ট শ্রীমতি ইন্দিরা গান্ধী ঘোষনা দেন যে, শেখ মুজিবের বিরম্নদ্ধে পাকিসত্মানী সামরিক জামত্মা কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করলে, শুধু বাংলাদেশেই নয় সমগ্র বিশ্বে তার প্রতিক্রিয়া দেখা দেবে।

জাতিসংঘের তৎকালীন মহাসচিব উ-থান্ট ইয়াহিয়াকে সতর্ক করে বলেন যে, ‘‘শেখ মুজিবকে হত্যা করা হলে পাকিসত্মানের বাইরেও এর প্রতিক্রিয়া দেখা দেবে।’’

মার্কিন সিনেটর এডওয়ার্ড কেনেডি পশ্চিম বঙ্গের শরনার্থী শিবির পরিদর্শনকালে এক বিবৃতিতে বলেন যে-‘‘পাকিসত্মান সরকারের উচিৎ অবিলম্বে শেখ মুজিবকে মুক্তি দেয়া।’’

সোভিয়েত ইউনিয়নের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী কেসিগিন প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়ার কাছে প্রেরিত এক বাণীতে গোপন বিচারের প্রসঙ্গ উলেস্নখ করে একটি রাজনৈতিক আপোস মীমাংসার স্বার্থে অবিলম্বে বঙ্গবন্ধুর মুক্তির আহবান জানান।

 

২১ নভেম্বরকে কেন সসস্ত্র বাহিনী দিবস বলা হয়?

১৯৭১ সালের এই দিনে ০৩ বাহিনী (সেনা, নৌ ও বিমান বাহিনী) একসাথে যুদ্ধ শুরম্ন করে এবং ভারতীয় বাহিনী ও মুক্তি বাহিনী আলোচনা শুরম্ন করে বলে ২১ নভেম্বরকে সসস্ত্র বাহিনী দিবস বলা হয়।

 

ডিসেম্বর মাসে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে ০৩ বার বাংলাদেশ-পাকিসত্মান যুদ্ধ বিরতির প্রসত্মাব উত্থাপন করা হয়। ০৩ বারই সোভিয়েত ইউনিয়ন ভেটো প্রয়োগ করে তা অকার্যকর করে দেয়।

প্রথম ভেটো: ৪ ডিসেম্বর ১৯৭১, প্রসত্মাবক-যুক্তরাষ্ট্র।

২য় ভেটো  : ৫ ডিসেম্বর ১৯৭১, প্রসত্মাবক-আর্জেন্টিনা, বেলজিয়াম, বুরম্নন্ডি, ইতালি, জাপান,    নিকারাগুয়া,  সিয়েরালিয়ন ও সোমালিয়া

৩য় ভেটো  : ১৩ ডিসেম্বর ১৯৭১, প্রসত্মাবক-যুক্তরাষ্ট্র।

৬ ডিসেম্বর সর্বপ্রথম যশোর জেলা শত্রম্ন মুক্ত হয়।

১০ ডিসেম্বর বিমান হামলা বন্ধ রাখা হয়-বিদেশি নাগরিকদের সরিয়ে নেয়ার জন্য।

১২ ডিসেম্বর যৌথ বাহিনী এবং মুক্তি বাহিনী ঢাকা থেকে ১৫/২০ মাইল দূরে অবস্থান নেয়।

১৩ ডিসেম্বর যৌথ বাহিনী আর হাজার হাজার মুক্তি বাহিনীর সদস্য চারিদিক থেকে ঘিরে ধরে পাকিসত্মানী সেনাবাহিনীকে। ঢাকা থেকে মাত্র ১০/১৫ মাইল দূরে অবস্থান নেয় সম্মিলিত বাহিনী।

 

১৪ ডিসেম্বর- বুদ্ধিজীবী হত্যা

14      ডিসেম্বর জাতির যেসকল শ্রেষ্ঠ সমত্মান পাক হানাদার বাহিনী ও তাদের দোসর-আল বদর, রাজাকারদের কাছে শহীদ হয়েছিল তাঁদের কয়েক জন হলেন-

1)       জ্যোতির্ময় গুহ ঠাকুরতা

2)      ড. গোবিন্দ্র চন্দ্র দেব (দার্শনিক জি. সি.দেব)

3)      ডাঃ ফজলে রাবিব

4)       সুরকার আলতাফ মাহমুদ

5)      সাহিত্যিক শহীদুলস্না কায়সার

6)      সাহিত্যিক আনোয়ার পাশা

7)       ধীরেন্দ্র নাথ দত্ত

8)      সাংবাদিক সেলিনা পারভীন

9)       সাহিত্যিক মুনীর চৌধুরী

১৫ ডিসেম্বর, ১৯৭১

অপারেশন স্ট্রীট ফাইটিং: ঢাকা ক্যান্টনমেন্টে ভারতীয় বিমান বাহিনীর (বায়ুসেনা) তীব্র আক্রমনে দিশেহারা হয়ে প্রাণে বাঁচতে জেনারেল নিয়াজী ও তার সঙ্গীরা ক্যান্টনমেন্ট ছেড়ে আশ্রয় নেয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকা ও হাতিরপুলের ঘর বাড়িতে। তাদের ধাওয়া করতে শুরম্ন হয় আই.এ.এফ এর অপারেশন স্ট্রীট ফাইটিং।

 

১৬ ডিসেম্বর ঐতিহাসিক রেসকোর্স ময়দানে (বর্তমানে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে) বিকেল ৪ টা ২১ মিনিটে জেনারেল আমির আব্দুলস্নাহ নিয়াজী ৯৩,০০০ সৈন্যসহ আত্মসমর্পণ করেন।

১৯৭২ সালের

 

 

 

 

 

৮ জানু. আমত্মর্জাতিক চাপে পাকিসত্মান সরকার বঙ্গবন্ধুকে মুক্তি দেয়।

৯ জানু, পাকিসত্মান থেকে লন্ডনে যান,

১০ জানু. কলকাতা হয়ে বাংলাদেশে পৌঁছালে তাঁকে রেসকোর্স ময়দানে অবিস্মরণীয় সংবর্ধনা দেয়া হয়।

 

দেশে ফেরার পর সাংবাদিক ডেভিড ফ্রস্ট বঙ্গবন্ধুর একটি সাÿাৎকার নেন। তাঁর বিরম্নদ্ধে কি কি অভিযোগ আনা হয়েছিল এই প্রশ্নের জবাবে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বলেন-

Treason, war against the Pakistan Government, against the armed forces, wanting to make Bengal independent and what not?Twelve charges out of which for six charges the punishment is hanging.

 

১২ জানিয়ারি থেকে ১৯৭৫ সালের ২৫ জানুয়ারি পর্যমত্ম প্রধান মন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন।

২৫ জানিয়ারি থে্কে ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট পর্যমত্ম রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

১০ অক্টোবর বিশ্বশামিত্ম পরিষদ বঙ্গবন্ধুকে জুলিও কুরী পুরস্কারে ভূষিত করে।

১৪ ডিসেম্বর বাংলাদেশের সংবিধানে স্বাক্ষর করেন।

১৫ ডিসেম্বর বঙ্গবন্ধুর সরকার মুক্তিযোদ্ধাদের রাষ্ট্রীয় খেতাব প্রদানের ঘোষণা প্রদান করেন।

১৬ ডিসেম্বর বাংলাদেশের সংবিধান কার্যকর হয়।

১৯৭৩ সালের ৭ মার্চ বাংলাদেশের প্রথম জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।

সালে মুক্তিযুদ্ধের বীরত্বসূচক খেতাব প্রদান করা হয়।

১৯৭৪ সালের ২৪ সেপ্টেম্বর বঙ্গবন্ধু জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ২৯-তম অধিবেশনে বাংলায় ভাষণ দেন।
কলুষিত ৭৫
১৯৭৫ সালের ২৪ জানুয়ারি বাংলাদেশের সংবিধানের চতুর্থ সংশোধনীবলে বহুদলীয় সংসদীয় সরকার পদ্ধতি পরিবর্তন করে রাষ্ট্রপতি শাসিত সরকার ব্যবস্থা প্রবর্তন করা হয় এবং দেশের সমগ্র রাজনৈতিক দল বিলপ্ত করে বাকশাল নামক একক রাজনৈতিক দল গঠন করা হয়।

৭ জুন বাকশালের গঠনতন্ত্র, কেন্দ্রীয় কমিটি, পাঁচটি ফ্রন্ট এবং এর কার্যনির্বাহী কমিটি ঘোষণা করা হয়।

১৫ আগস্ট হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙ্গালি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সপরিবারে শহীদ হন।

১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধুকে ৩ টি গুলি করা হয়।

২৬ সেপ্টেম্বর ইনডেমনিটি অধ্যাদেশ জারি করা হয়।

 

একজন কূটনীতিক হিসেবে কিভাবে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ অন্য দেশের সামনে তুলে ধরবেন?

 

পৃথিবীতে মাত্র দুটি দেশ ঘোষণা দিয়ে যুদ্ধ করেছিল যার একটি হল আমাদের প্রাণপ্রিয় বাংলাদেশ এবং অন্যটি যুক্তরাষ্ট্র। এ ছিল এমন এক ঐতিহাসিক জনযুদ্ধ যেখানে ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সকল শ্রেণি পেশার মানুষ সম্মিলিতভাবে একটি আধুনিক সেনাবাহিনীর বিরম্নদ্ধে লড়েছিল।  সমরাস্ত্রের বিবেচনায় এ ছিল এক অসম যুদ্ধ। কিন্তু দেশপ্রেম, অসম সাহস, সুনিপুন রণকৌশল সর্বোপরি পরিস্থিতির চাহিদা অনুযায়ী সীমিত যুদ্ধাস্ত্র নিয়ে অত্যমত্ম দÿতা ও সফলতার সাথে মাত্র ০৯ মাসের যুদ্ধের মাধ্যমে ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর ৯৩,০০০ সৈন্যকে আত্মসমর্পণ করতে বাধ্য করিয়েছিল। আর এই গৌরবময় ঐতিহাসিক যুদ্ধের মহানায়ক ছিলেন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।

 

                                               

Leave a Comment